পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা,৬ এপ্রিল :ক্রিকেটের খুঁটিনাটি যারা খবর রাখেন, তাঁরা প্রয়াত কোচ তারক সিনহার নাম অবশ্যই জানেন।বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে তাঁর স্ত্রী এক দুর্ঘটনায় মারা যান। তারপরে আর বিয়ে বা সংসার করেন নি তারক সিনহা । একথা একদিকে ঠিক আবার অন্যদিকে ভুল। কারণ বিয়ে না করলেও সংসার তিনি করেছিলেন।ক্রিকেট ছিল তাঁর ধ্যান জ্ঞান, ক্রিকেটই সংসার। তাঁর প্রাণ ছিল দিল্লির সনেট ক্লাব যেখানে তিনি ক্রিকেটার তৈরি করতেন। তাঁর ক্রিকেট সংসার থেকেই জন্ম নিয়েছে একরাশ ক্রিকেট নক্ষত্র।

তারক সিনহার হাত ধরে উঠে এসেছেন যে ক্রিকেট নক্ষত্ররা তাঁরা অনেকেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ছাপ ফেলেছেন।একজন নন, তাঁর প্রশিক্ষণে বড় হওয়া ক্রিকেটার যারা ভারতীয় দলে খেলেছেন সেই সংখ্যা হাতে গুণে শেষ করা যায় না। সুরিন্দর খান্না , মনোজ প্রভাকর থেকে শুরু করে সঞ্জীব শর্মা,অতুল ওয়াসন,শিখর ধাওয়ান,ঋষভ পন্থ, ঈশান কিষান বা মহিলা ক্রিকেটার আঞ্জুম চোপড়া। এরকম আরও অজস্র নাম রয়েছে যারা ভারতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। এদের মধ্যে আশিস নেহেরার নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।আশিস নেহেরা বা পন্থ যেন তাঁর প্রাণ ছিলেন। তবুও তারক সিনহা যোগ্য সমাদর সম্ভবত পান নি। ফুটবলে ভারতীয় দলের কোচ রহিম স্যারের বা সইদ আব্দুর রহিমের নাম সবাই জানেন। তিনি ভারতকে সোনা এনে দিয়েছিলেন এশিয়াডে। মৃত্যুর ৫০ বছর পরেও তার নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়, তাঁকে নিয়ে চলচ্চিত্র বা বায়োপিক ও নির্মাণ হয়। ক্রিকেটে রমাকান্ত আচারেকরেন নাম ও কোচ হিসেবে বহুলচর্চিত। কারণ তিনি ছিলেন শচীন তেন্ডুলকারের কোচ। দেশপ্রেম আজাদের খ্যাতিও আকাশচুম্বী ।তারক সিনহাকে নিয়েও চৰ্চা হতে পারত । হয় ও। তবে তিনি যা খ্যাতি পেতে পারতেন তা তিনি জীবদ্দশায় পাননি। কোচ হিসেবে দ্রোণাচার্য পুরস্কার তিনি পেয়েছেন। কিন্তু তিনি যা করেছেন তার তুলনা নেই।১৯৮৫-৮৬ সালে তার প্রশিক্ষণে দিল্লী রঞ্জি ট্রফি জেতে। এই ছিল তার প্রথম বড় সাফল্য। ২০২১ সালের মৃত্যুর আগে পর্যন্ত নিজের হাতে ক্রিকেটার গড়েছেন, রাজস্থান রঞ্জি দলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, ২০১৩ সালেও ঝাড়খণ্ডকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ২০০১-২০০২ সালে তিনি ভারতীয় মহিলা দলের কোচ নির্বাচিত হন। সে সময় উঠে আসেন ঝুলন গোস্বামী ও মিতালী রাজের মতো ক্রিকেটার। ক্রিকেটে অর্থ শরীর ও জীবন ঢেলে দিয়েছিলেন তারক সিনহা।

অথচ জীবনের শেষ দিকেও তাঁকে আর্থিক অনটনের মুখ দেখতে হয়েছে। মাঝে এমন দশা পর্যন্ত হয়েছিল তাঁর গৃহহীন হওয়ার মত অবস্থা তৈরি হয়। তাঁর জন্য সে সময় এগিয়ে এসে আশিস নেহেরা তাঁর থাকার ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করে দেন।৭১ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হন। রহিম স্যার এর মতই ক্যান্সারের থাবায় চলে যান তিনি। ওস্তাদজি নামে পরিচিত ছিলেন তারক সিনহা। যে ক্রিকেটাররা তার প্রশিক্ষণে বড় হয়েছেন তাঁরা বলেন ওস্তাদজী নিজের যাবতীয় বিলিয়ে দিয়েছেন ক্রিকেটে। তিনি কিছু নিতে আসেন নি, দিতেই এসেছিলেন। ২০২১ সালে প্রয়াত হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ক্রিকেট ময়দানকে দিয়েছেন শুধু নিষ্ঠা সহ ভালোবাসা আর ভারতকে উপহার দিয়েছেন ক্রিকেট রত্ন।।
#latestbengalinews
ভারতীয় ফুটবলের স্বর্ণযুগের কান্ডারী রহিম স্যার


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার