স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২ মে: শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে চলতি মরশুমের ইন্ডিয়ান সুপার লিগ বা আইএসএল। আগামী শনিবার অর্থাৎ ৪ জুন প্রতিযোগিতার মেগাফাইনাল। যুবভারতীতে মুখোমুখি হতে চলেছে মোহন বাগান সুপার জায়ান্টস ও মুম্বই সিটি এফসি । প্রথমবারের জন্য আইএসএল ফাইনালের আসর বসতে চলেছে কলকাতায়। মোহনবাগান ফাইনালে জিতলে এ বারে ভারতীয় ফুটবলের জাতীয় পর্যায়ের সব ট্রফির ঠিকানা হবে ভারতীয় ফুটবলের মক্কায়।

ফাইনালের ফলাফলের জন্য দুই দলের সমর্থকদের অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র ৪৮ ঘন্টা। যদিও জয়ের ব্যাপারে দুই দলের কোচ ও ফুটবলাররাই আত্মবিশ্বাসী। ঘরের মাঠে ম্যাচ হওয়ায় প্রায় ৬২ হাজার মোহনবাগান সমর্থক হাজির হবেন ম্যাচ দেখতে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে যারা দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়। যদিও যুবভারতী থেকে মোহনবাগানকে হারিয়ে ট্রফি ও লিগ শিল্ডের মধুর প্রতিশোধ তুলতে চায় মুম্বই। এই ম্যাচে যে তারা স্বাগতিকদের এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বেন না বুঝিয়ে দিয়েছেন তাদের কোচ পিটার ক্রাটকি। দুই দলের হাতে এমন কিছু ফুটবলার রয়েছেন যারা যে কোনও সময় গড়ে দিতে পারেন ম্যাচের ভাগ্য।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক কাদের দিকে চোখ রাখতে হবে ফাইনালে?
১. লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে (মুম্বই সিটি এফসি) : মুম্বই সিটি এফসি-র আক্রমণকে নেতৃত্ব দেন। এ বারের প্রতিযোগিতায় ১০ গোল করে গোলদাতাদের তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন এই মিজো ফুটবলার। গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ছ’টি গোল। দুটি প্রান্ত ধরে অনায়াসে বল নিয়ে উঠে বিপাকে ফেলতে পারেন বিপক্ষকে। সেমিফাইনালে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে দুটি পর্ব মিলিয়ে করেছেন তিনটি গোল। ফাইনালের মহারণ জিততে মুম্বই সিটি এফসিকে নির্ভর করতে হবে দেশের অন্যতম সেরা উইঙ্গারের উপর।
২. বিক্রম প্রতাপ সিংহ (মুম্বই সিটি) : মুম্বই সিটি এফসির আক্রমণভাগের আরও এক দেশীয় অস্ত্র। দুই প্রান্ত ধরে ছাংতে ও বিক্রম ক্রমাগত চাপ বাড়ান বিপক্ষের রক্ষণে। মুম্বই সিটি এফসিকে ফাইনালে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রয়েছে পঞ্জাবের ফুটবলারের। মোট ৮ টি গোল করেছেন। করিয়েছেন চারটি গোল। ফাইনালের বৈতরণী পেরোতে তার দিকেও তাকিয়ে রয়েছেন মুম্বই সমর্থকরা।
৩. জর্জ পেরেরা দিয়াজ (মুম্বই সিটি) : গোল করার ক্ষেত্রে মুম্বইয়ের প্রধান ভরসা। তিন কাঠিটা খুব ভাল চেনেন। ১৬ ম্যাচে ৯ গোল করে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড। বিপক্ষের বক্সে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন যে কোনও সময়। ফাইনালে মোহনবাগানের জালে বল জড়াতে মু্ম্বইয়ের তুরুপের তাস ৩৩ বছরের জর্জ পেরেরা দিয়াজ।
৪. মনবীর সিং (মোহনবাগান) : মোহনবাগানের প্রান্তিক আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা। গতিময় এই উইঙ্গারকে সামলাতে বিপাকে পড়তে হয় বিপক্ষের ডিফেন্ডারদের। এই মরশুমে মোট ৪ টি গোল করেছেন। ৭ টি গোল করিয়েছেন সতীর্থদের দিয়ে। সুযোগ তৈরি করেছেন ৩৬টি। ফাইনালে আরও একটা গোল করালে তিনি হয়ে যাবেন এক মরশুমে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করা ভারতীয় খেলোয়াড়। সেমিফাইনালে ওড়িশার বিরুদ্ধে প্রথম পর্বের ম্যাচে গোল করেছেন। ফাইনালে মোহনবাগানকে জিততে হলে কার্যকর হয়ে উঠতে হবে মনবীর সিংকে।
৫. অনিরুদ্ধ থাপা (মোহনবাগান) : মোহনবাগান দলের মিডফিল্ড জেনারেল। মরশুমের শুরুতে তাকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ম্যাচে দারুণ ফুটবল খেলছেন। জনি কাউকোর পাশে পরিশ্রমী ফুটবল উপহার দিচ্ছেন। বক্সের বাইরে থেকে তার বুদ্ধিদীপ্ত পাস ম্যাচে ফারাক গড়ে দিতে পারে। টানা দ্বিতীয়বার আইএসএল ট্রফি ঘরে তুলতে তাই মোহনবাগানকে তার উপর ভরসা করতে হবে।
৬. হেক্টর ইউৎসা (মোহনবাগান) : মোহনবাগান রক্ষণের কাণ্ডারী এই বিদেশী ডিফেন্ডার। ফাইনালে ছাংতে, পেরেরাদের রুখতে দলকে রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দেবেন। দারুণ ছন্দে রয়েছেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বে গোললাইন থেকে বলকে ফেরত পাঠিয়ে দলের অবধারিত পতন রুখেছেন। মুম্বইকে ফাইনালে রুখতে তাকে বিশেষ দায়িত্ব নিতে হবে।
৭. দিমিত্রি পেত্রাতোস (মোহনবাগান) : গোল করা ও করানো দুটিতেই পারদর্শী। চলতি মরশুমে ১০ টি গোল করেছেন। করিয়েছেন ৭ টি গোল। ৫৯ টি গোলের সুযোগ তৈরী করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই ফুটবলার। গোটা মাঠ জুড়ে ৯০ মিনিট পরিশ্রমী ফুটবল খেলছেন। তার গোলেই প্রথমবারের জন্য লিগ শিল্ড জিতেছে মোহনবাগান। ডুরান্ড কাপের ফাইনালেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে গোল করেন। তাকে বড় ম্যাচের ফুটবলার বলেন অনেকে। শনিবার আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের প্রধান অস্ত্র হতে চলেছেন দিমি।


More Stories
গ্রেফতারির ভয়ে আগাম জামিনের আবেদন অরূপ বিশ্বাসের
ইউনিটি কাপ থেকে শূন্য হাতে ফিরছে ভারত
লালহলুদের ইলিশ উৎসব ধূপগুড়িতে