সানী রায়,সময় কলকাতা,১১ জুন : উত্তরের ভোট মিটলেও লোকসভা নির্বাচন এখনও মাঝপথে। কেন্দ্র রাজ্য সংঘাত যে বিষয়গুলি নিয়ে তীব্রতর আকার নিয়েছে তারমধ্যে অন্যতম আবাস যোজনা। উত্তরবঙ্গে ভোট মিটলেও আবাস যোজনা প্রায় প্রতিনিয়ত নয়া মোড় নিচ্ছে।এনিয়ে গ্রাউন্ড জিরো থেকে একটি বিশেষ প্রতিবেদন।
কেন্দ্র রাজ্য সংঘাত গোটা রাজ্যজুড়ে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর নিয়ে বিস্তর অভিযোগ জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ি পুরসভায়। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ এমনকি সিবিআই তদন্তেরও দাবি উঠছে। অভিযোগ,পাল্টা অভিযোগের মধ্যে একটাই সত্য ফুটে উঠছে। কেউ কেউ আবাস যোজনার টাকার ঘরের কাজ শেষ করে ফেললেও অনেকের আবাসের কাজ আধখানা হয়ে পড়ে আছে। অনেকের সেটুকু কাজও হয় নি। অথচ হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। হয়েও হয়তো যাবে, অন্তত তেমনটাই প্রতিশ্রুতি মিলছে। দরবার করলে আশ্বাস মিলছে। প্রতিশ্রুতির দিন আসে, চলেও যাচ্ছে। তারিখ পে তারিখ । চিত্রটা ঠিক কিরকম ধূপগুড়িতে?
মোট ১৬ টি ওয়ার্ড রয়েছে ধুপগুড়ি পুরসভায় । প্রত্যেক ওয়ার্ডে দেখা যাচ্ছে রীতিমতো কংক্রিটের পিলারসহ উপরে ছাদ নির্মাণ কোথাও প্রায় -সম্পন্ন তো কোথাও মাঝপথে থমকে আছে । কার্যত আবাস যোজনার বরাদ্দ বাড়িতে কাগজে কলমে পৌঁছে গেলেও বা পৌঁছে যাওয়ার কথা থাকলেও কাউকে থাকতে হচ্ছে অন্যের বাড়িতে, তো কেউ আবার ঝুপড়ি করে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে নিয়েছেন।
উদাহরণ একাধিক। যেমন ধরা যাক জনৈক বসাক দম্পতির কথা। ধূপগুড়ি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অমল বসাক ও ঝর্ণা বসাক তাদের একমাত্র কন্যা সন্তানের বিয়ে দিয়েছেন গত বছর। বিয়ের যাবতীয় খরচ বহন করার তাগিদে নিজেদের ভিটে মাটি থেকে কিছুটা অংশ বিক্রি করে দিয়েছেন। আর বাকি অংশে আবাস যোজনার ঘর অর্ধ সমাপ্ত অবস্থায় গত চার বছর ধরে পড়ে রয়েছে। একদিকে অর্ধ সমাপ্ত ঘর, অন্যদিকে জমি ক্রয় করা ব্যক্তির প্রত্যেক দিনের মানসিক চাপ। সবমিলিয়ে যেন টালমাটাল অবস্থা। এদিকে আগের জমি দিয়ে বিক্রি করে দিয়েও পাকাপাকি বসতবাড়ি কিছুই নেই।আবাস যোজনার ঘর পরিপূর্ণভাবে থাকার উপযোগী করে দিতে পারেনি প্রশাসন।আশ্বাস আছে। তারিখ পে তারিখ।
আবার রয়েছেন মনোরঞ্জন দাসের মত মানুষ।আবাস যোজনার ঘর আধখানা হয়ে পড়ে রয়েছে। থাকবেন কোথায়? উপ পৌরপ্রধানের কাছে দরবার করছেন। তারিখ পে তারিখ।
মনোরঞ্জন দাস হয়তো নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারছেন কারণ তিনি তো আর একা ভুক্তভোগী নন।তাঁর দাদা সুভাষ দাস কোন এমন ভালো আছেন? আবাস যোজনার তালিকায় নাম ওঠার পরে পুরনো বাড়ি ভেঙে ফেলেছিলেন, নতুন বাড়িতে উঠবেন বলে।চার বছর ধরে, কমবেশি চোদ্দোশো দিন ধরে, বাড়ি আজ হচ্ছে- কাল হচ্ছে করেই দিন কাটছে। তারিখ পে তারিখ।

তারিখ পে তারিখ এবং আবাস যোজনায় বাড়ির ছবি ও জলজ্যান্ত সমস্যা দেখে আবাস যোজনার ঘরের প্রথম কিস্তির ৩৫ হাজার টাকা হাতে পেয়েও ঘরের কাজ শুরু করতে অনীহা ধুপগুড়ি পৌরসভার বাসিন্দা সুদিপ বিশ্বাসের। তার কথায় বর্তমানে যে পরিস্থিতিতে কোনভাবে পরিবার নিয়ে আছি, সেটা ভেঙে দিয়ে আবাস যোজনার ঘরের পেছনে দৌড়ালে পায়ের নিচে মাটি কিংবা মাথার উপর ছাদ টুকুও থাকবে না।
পুরসভার উপ পুরপ্রধান রাজেস কুমার সিংয়ের দাবি, কেন্দ্র সরকার আবাস যোজনার টাকা আটকে দেওয়ায় ধূপগুড়ি র প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের আবাস যোজনা প্রাপকদের নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, লোকসভা নির্বাচনের জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তথা ধুপগুড়ির বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায়ের সমর্থনে ধুপগুড়িতে নগর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ধূপগুড়িতে এসেছিলেন । ইতিমধ্যেই ধুপগুড়ি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের আবাস যোজনার ঘর নিয়ে আলোচনা হয়ে একটি বিষয় নিশ্চিত। কেন্দ্র আবাস যোজনার বরাদ্দ টাকা না দিলে রাজ্য সরকার তাদের নিজস্ব ফান্ড দিয়ে প্রত্যেকটি আবাস যোজনা প্রাপকদের ঘর সম্পূর্ণভাবে তৈরি করে দেবে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অবশ্য এসব তত্ত্বকথা মানতে নারাজ। বিজেপির বিরোধী দলনেতা কৃষ্ণ চন্দ্র রায় বা সিপিএম নেতা জয়ন্ত মজুমদাররা সরাসরি বলছেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য বা দাবির কোন সারবত্তা নেই। তাঁদের অভিযোগ,তৃণমূল নেতারা আকণ্ঠ দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছেন, সিবিআই তদন্ত না হলে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সমাধান হবে না। বাড়িও আর হবে না। থাকবে আশ্বাস, তারিখ পে তারিখ চলতেই থাকবে। তদন্ত না হ’লে পরিত্রাণ মিলবে না সাধারণ মানুষের – আবার তদন্ত হ’লে নিশ্চিত শাস্তির হাত থেকে পরিত্রাণ মিলবে না তৃণমূল নেতাদের , সরব বিরোধী নেতারা।।


More Stories
আবার বিক্ষোভ বারাসাত পুরসভায়, কাজ করা অসম্ভব বলছেন চেয়ারম্যান
মিলেছে”প্রমাণ “, বারাসাত কলেজে গোপনে মদ্যপান ও যৌনশিক্ষার আসর চলার অভিযোগ
বাজেট ও ক্ষুদ্র চা-চাষীদের স্বপ্ন