Home » আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবস : ভালোবাসার দিনে , শ্রদ্ধার দিনে মাতৃপুজা

আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবস : ভালোবাসার দিনে , শ্রদ্ধার দিনে মাতৃপুজা

সানী রায় ও পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ১২ মে : মানবজীবনের চূড়ান্ত মৌলিক স্তর ছবির মত করে তুলে ধরার জন্য দুটি চরিত্র দরকার। একটি চরিত্র  যা অনন্যা তিনি হলেন মা।অন্য চরিত্র সন্তান। সন্তানের কাছে মা পূজনীয়া। মা   সব গান দুঃখ-জাগানিয়া কোনো কাঠের সিন্দুকে, রেখেছেন বন্ধ ক’রে আজীবন – মাতৃ দিবস মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জ্ঞাপনের দিন। সন্তানের সঙ্গে মায়ের নাড়ির যোগ কারণ মা সন্তানকে বলেন “ইচ্ছা হয়ে ছিলি মনের মাঝারে’। সারাবছর ধরে ইচ্ছেরা লালিতপালিত হয়। মা ও সন্তানের সম্পর্ক থেকে যায় জীবনে ও মৃত্যুর পরেও।তবুও একটি বিশেষ দিন বেছে নেওয়া হয় আলাদা করে মাতৃপুজার ।  আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবস  বিশেষ ইচ্ছেদের ডানা মেলার দিন ।সন্তানদের মাকে প্রণাম জানানোর দিন প্রতি বছর মে মাসের  দ্বিতীয় রবিবার।শ্রদ্ধার দিনে মাতৃপুজা বয়ে আনে আলাদা সুগন্ধ যেখানে মা ও সন্তানের বন্ধনকে দেয় বিশেষ তাৎপর্য।

এক হাজার বছর আগে রোমানরা এরকম একটি দিন উদযাপন করলেও প্রথা মেনে মাতৃ দিবসের পালন শুরু হয় বিংশ শতকের প্রথম দশকে। ১৯০৮ সালে আমেরিকান মহিলা সমাজ কর্মী আনা জার্ভিস তার মাকে সম্মান জানাতে এই দিনটিকে মাতৃ দিবস হিসেবে পালন করতে শুরু করেছিলেন।

বিশেষ দিনের উদযাপন বঙ্গ জুড়ে, উত্তরবঙ্গেও। মাকে পুজো করার রীতিকে আত্মস্থ করে আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবসে মাকে পুজো দিয়ে দিনটি উদযাপন করলো ধূপগুড়ির স্কুল পড়ুয়ারা । মাতৃ পুজা পালিত হলো বিদ্যালযয়ে, মায়েদের পা ধুইয়ে পায়েস খাইয়ে দিলো সন্তানরা ।স্কুলের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল এই মা দিবসের।”

আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবস তিথিতে মায়ের পুজো পালন বিদ্যালয়ের পেল অন্য মাত্রা । সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী এই সময় গরমের ছুটি চলছে, সমস্ত স্কুল বন্ধ রয়েছে। তবে এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করার জন্য অভিভাবক এবং পরুয়াদের থেকে সহমত নিয়ে স্কুলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অভিনব উদ্যোগ বারঘড়িয়া স্বর্ণময়ী বটতলী প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকরা।

রবিবার ছুটির দিনে আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবস উদযাপন করা হল ।ধূপগুড়ি ব্লকের বারঘড়িয়া স্বর্ণময়ী বটতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।জলপাইগুড়ি জেলায় এবার নিয়ে দ্বিতীয় বার এই মা দিবসের আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার বিদ্যালয়ে দেখা গেল চেয়ারে সারিবদ্ধভাবে বসে রয়েছেন মায়েরা। আর তাদের সামনে নীচে বস্তায় বসে রয়েছেন তাদের সন্তানরা। এরপর মায়েদের পা ধুইয়ে মোছে দিলে সন্তানরা। এরপর হাতজোড় করে শপথ বাক্য পাঠ করালেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয় বসাক, আর সেই শপথ করল সবাই। ” আমি সারাজীবন মা- বাবাকে ভালোবাসব। তাদের দেখাশোনা করব।” এরপর মায়েদের পায়েস খাইয়ে দেয় সন্তানরা।তারপর সন্তানদের পায়েস খাইয়ে দেয় মায়েরা। এভাবেই বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীরা একে একে তাদের মায়েদের শ্রদ্ধা জানালেন।
গোটা পৃথিবীর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় বিভিন্ন স্কুলে মায়েদের পুজো দেওয়ার রীতি রয়েছে। তবে ভারতবর্ষে শুধু জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি তে আয়োজিত হয়। এমন টাই দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের।

আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবসের দিন স্কুলে আয়োজিত মাতৃ পূজা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত অতিথিরা। দিন ভেসে গেল মা ও সন্তানের নিবিড় যোগের তিথি উদযাপনে।ইচ্ছেরা ডানা মেলে দিল।।

#international mother’s day 2024

About Post Author