Home » Mamata Banerjee: বনগাঁর জনসভায় আক্রমণাত্মক মমতা, বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেসের পাশাপাশি নিশানায় নির্বাচন কমিশনও

Mamata Banerjee: বনগাঁর জনসভায় আক্রমণাত্মক মমতা, বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেসের পাশাপাশি নিশানায় নির্বাচন কমিশনও

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ মে: চতুর্থ দফার ভোট পর্ব মিটতে পঞ্চম দফার প্রচার শুরু করে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বনগাঁর তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাসের সমর্থনে প্রচার করেন তিনি। এদিন এই লোকসভার  অন্তর্গত কল্যাণীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফুটবল মাঠের জনসভা থেকে সিএএ, সন্দেশখালি থেকে চাকরি-সহ একাধিক প্রসঙ্গ নিয়ে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেসের পাশাপাশি এদিন তিনি নিশানা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকেও। চলতি লোকসভা নির্বাচনে কটা আসন পেতে চলেছে বিজেপি, তাও বলে দেন মমতা।

২০১৯ সালে বনগাঁ আসনটি তৃণমূলের হাতছাড়া হয়। ঠাকুর বাড়ির লড়াইয়ে মমতা বালা ঠাকুরকে হারিয়ে এই কেন্দ্রে জয়ী হন শান্তনু ঠাকুর। উত্তর ২৪ পরগনার অন্তর্গত এই কেন্দ্রটি পেতে এবার মরিয়া ঘাসফুল শিবির। রাজ্যে চার দফা নির্বাচন সমাপ্ত হয়ে গিয়েছে। পঞ্চম দফার আগে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিজেপির আঁতাতের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে আমি সম্মান করি। কিন্তু তাদের কয়েকজন বিজেপির হাতের পুতুলে পরিণতচ হয়েছে। দু’-তিন মাস ধরে নির্বাচন করা হচ্ছে। আমি আগে এ রকম নির্বাচন দেখিনি। সব সরকারি কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু মোদীকে সমর্থন জোগাতে এমনটা করছে।” অনেকদিন ধরে প্রচার করার ফলে তার গলা ধরে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মমতা।

একইসঙ্গে এদিন চাকরি প্রসঙ্গ নিয়ে সরব হতে শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি রাজ্যের বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেসের দিকে আঙুল তোলেন। সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকেও নিশানা করে মমতা বলেন, “সিপিএমের বিকাশবাবু বিখ্যাত আইনজীবী। তিনি কলকাতার মেয়র থাকার সময় হাজার হাজার ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট বার করেছিলেন। কিন্তু আমি ওই সব কথা মনে রাখিনি। চাকরি যাওয়ার মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ দিতে এদের গায়ে জ্বালা ধরেছে।” সন্দেশখালি নিয়েও সিপিএম ও বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, “সিপিএমের হার্মাদরা এখন বিজেপিতে রয়েছে। যারা সন্দেশখালিতে যারা কারসাজী করেছে সবাই আগে সিপিএম দলে ছিল। এখন বিজেপি করে। ওরা জানে না মা বোনদের কাছে টাকার থেকেও বড় সম্মান। তাদের না জানিয়ে যা তা লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবার শাস্তি চাই। সত্যের জয় হবেই।”

আরও পড়ুন: Optical Illusion: পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যে ৩ টি পার্থক্য খুঁজে বার করতে পারবেন?

লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ও ইন্ডিয়া জোট কটা করে আসন পাবে তা নিয়েও ভবিষ্যতবাণী শোনা গিয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর গলায়। তিনি বলেন, “ আপনারা জেনে রেখে দিন, হাওয়া বদল হচ্ছে। খুব বেশি হলে বিজেপি ১৯৫ থেকে ২০০ টি আসন পাবে। ইন্ডিয়া জোট পাবে ২৯৫ থেকে ৩১৫ টি আসন।” এরপর সংযোজন করেন, “মোদির ৪০০ পার না পগারপার। বাঙালিরা কেউ চাই না মোদি আসুক। মোদি আসলে দেশ শেষ। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের স্বামী বলেছেন এ দেশের ভবিষ্যত নেই।’’

বনগাঁর বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুরকেও আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “আপনাদের এখানে যিনি লোকসভায় বিজেপি প্রার্থী এবং মন্ত্রী, গত পাঁচ বছরে তাঁর টিকি দেখতে পাওয়া যায়নি। আবার নাগরিকত্ব দেব বলে নামও লিখিয়েছেন। শুনেছি, কোথাও কোথাও টাকাও তুলেছেন। নিজে নাম লেখাননি কেন? লেখালেই বিদেশি। আমরা স্বদেশি থাকব, বিদেশি হতে চাই না।”

About Post Author