সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ মেঃ বাংলাদেশের সাংসদ আনোয়ারুল আজিম খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। উঠছে একাধিক প্রশ্ন। দুই দেশের তদন্তকারী সংস্থার তথ্য আদান-প্রদানের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, আজিমকে খুনের পরিকল্পনা বাংলাদেশেই করা হয়। তিনি ভারতে আসবেন জানতে পেরেই সাংসদের ঘনিষ্ঠ কেউ খুনের চক্রান্ত করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে, দেখা গিয়েছে, লাল রঙের একটি ছোট চারচাকার গাড়ি নিউটাউনের অভিজাত ওই আবাসনের বাইরে এসে থামে। সেই গাড়ি থেকে নেমে আসেন মৃত সাংসদ আনোয়ারুল আজিম-সহ তিন জন। এরপর তাঁরা সকলেই আবাসনে ঢোকেন। কিন্তু, সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরেই পুলিশ জানতে পেরেছে, সাংসদের সঙ্গে যাঁরা এসেছিলেন গাড়িতে চেপে, তাঁরা একে একে বেরিয়ে গিয়েছিলেন আবাসন থেকে। কিন্তু মৃত সাংসদ বের হননি আবাসন থেকে।
আরও পড়ুন Anwarul Azimঃ বাংলাদেশের সাংসদ আনোয়ারুল আজিম খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ৩
ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরেই লাল রঙের ওই গাড়িটিকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। গাড়ির মালিক ও গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, চার কোটি টাকা দেওয়া নিয়ে আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে তাঁর এক ব্যবসায়ী বন্ধুর বিবাদ চলছিল। তিনিই এই খুনের মাষ্টারমাইন্ড কি না? তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, গত ১৩ মে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই আনোয়ারুলকে খুন করা হয়েছে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। খুন করার ২০ মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশের সাংসদের দেহ একাধিক টুকরো করে চারটি ট্রলিব্যাগে ভরে লোপাট করা হয়েছে। এমনকী ওই সময়ের মধ্যেই ফ্ল্যাট পরিষ্কারও করে দেওয়া হয় বলে খবর। যদিও দেহের কিছু অংশ ওই ফ্ল্যাটের ফ্রিজে রাখা ছিল। ফ্ল্যাট থেকে প্লাস্টিক ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের অনুমান, প্লাস্টিক ব্যাগে ভরেই দেহাংশ বিভিন্ন জায়গায় ফেলা হয়েছে। তবে দেহাংশ কারা ফেলে রেখেছে, কোথায় ফেলা হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, চিকিৎসার জন্য গত ১২ মে কলকাতায় এসেছিলেন বাংলাদেশের ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাংসদ আনোয়ারুল আজিম। কলকাতায় স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু, কলকাতায় আসার পর ১৮ মে থেকে তিনি নিরুদ্দেশ ছিলেন। অবশেষে মঙ্গলবার নিউটাউনের অভিজাত আবাসন থেকে উদ্ধার হয় বাংলাদেশের সাংসদের দেহ। সূত্রের খবর, গত আট দিন ধরে তাঁর কোনও খোঁজ মিলছিল না। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ মে কলকাতায় এসেছিলেন আজিম। একজন অফিসারের ফ্ল্যাটে উঠেছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন আরও তিন জন। বরানগর এলাকার সিঁথিতে যে বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিলেন আজিম, তাঁর নাম গোপাল বিশ্বাস। গত ১৩ মে তাঁর বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভাড়া করা গাড়িতে উঠেছিলেন আজিম। দুপুরে বেরিয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। ১৩ মে-র পর ওই সাংসদের পরিবার তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেনি। সাংসদের মেয়ে বাংলাদেশের থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, তারপরই শুরু হয় তদন্ত। গোপাল বিশ্বাস ১৮ মে বরানগর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। সেই সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত শুরু করে। পরে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গেও যোগাযোগ করে তারা। ইতিমধ্যেই গোঁটা ঘটনার তদন্ত করছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। সঙ্গে রয়েছে আইবি, এসটিএফ।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস : বাংলাদেশে পালাবদল ও বিতর্ক
বাংলাদেশে কট্টর পাক বিরোধী মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের জয় কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?