সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ মেঃ রামকৃষ্ণ মিশন নিয়ে এবার বিবৃতি জারি করল রাজভবন। সাধু-সন্ন্যাসীদের সঙ্গে রাজনীতির যোগের অভিযোগে গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। লোকসভা ভোটের প্রচারে রামকৃষ্ণ মিশনের সাধু-সন্ন্যাসীদের একাংশ প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, ‘সব সাধু সমান হন না। সরাসরি তাঁর নিশানায় ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের কার্তিক মহারাজও। এরই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সন্ন্যাসীদের একাংশ। মমতার বিতর্কিত মন্তব্যের পরেই এবার রাজভবনের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, ‘ বাংলার মানুষের মনে রামকৃষ্ণ মিশনের জন্য এক গর্বের জায়গা রয়েছে। গোটা বিশ্বের জন্য এটা অনুপ্রেরণার এক উৎস। যদি কেউ জেনে বুঝে বা অজান্তে এই সংগঠনকে অসম্মান করে তাহলে মনে রাখতে হবে শ্রী রামকষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দ সহ আরও মহান ব্যক্তিত্বদের তাঁরা অসম্মান করছে। এমন ঘটনা মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করবে।’ জানা গিয়েছে, রাজভবনের তরফে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তাতে শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দ সহ আরও মহান ব্যক্তিত্বদের প্রসঙ্গ টানা হয়েছে।
আরও পড়ুন Nandigram: ভোটের আগে ফের উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম, TMC-BJP তুমুল সংঘর্ষে মহিলা বিজেপি কর্মীর মৃত্যু, জখম ৮
প্রসঙ্গত, গত শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরামবাগের গোঘাটে লোকসভা ভোটের প্রচারে বেরিয়ে বলেন, রামকৃষ্ণ মিশনের সাধু-সন্ন্যাসীরা সমান হন না। সরাসরি তাঁর নিশানায় ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের কার্তিক মহারাজও। মমতার সেই ভাষণকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত। তৃণমূল নেত্রী তাঁর বক্তৃতায় বাংলার সাধু সমাজের একাংশের উদ্দেশে তোপ দেগে বসেন। ইসকন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এমনকি রামকৃষ্ণ মিশনকেও বাদ দেননি তিনি। মমতা বলেন, ‘রামকৃষ্ণ মিশনকে সবাই সম্মান করে। ওদের কাছে একটা হোয়াটসঅ্য়াপ গ্রুপ আছে। ওদের যারা মেম্বার হয় তাদের নাম, যারা দীক্ষা নেয়। তাদেরকে আমি ভালবাসতে পারি। আমি দীক্ষা নিতে পারি। কিন্তু, রামকৃষ্ণ মিশন ভোট দেয় না কোনওদিনও। এটা আমি জানি। তাহলে আমি অন্যকে কেন ভোট দিতে বলব? কেউ কেউ ভায়োলেট করছে, সবাই নয়।’ এই মন্তব্যের পরই বিতর্কের ঝড় ওঠে। শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক তরজা।
এদিকে, রামকৃষ্ণ মিশনের সাধু-সন্ন্যাসীদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সরব হয়েছেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুবীরানন্দ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংগঠনের সাথে যুক্ত সন্ন্যাসীরা কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন না। এমনকী তারা তাদের ভোটের অধিকারও প্রয়োগ করেন না। এটি ছিল স্বামীজির নির্দেশ যা সমসময় অনুসরণ করা হয়। রামকৃষ্ণ মিশন একটি অরাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িতদের একমাত্র লক্ষ্য নিঃস্বার্থ মানব সেবা। আর কিছু নয়। অন্যদিকে, মমতার মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আক্রমণ শানান খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলায় এসে তিনি বলেন, তৃণমূল সরকার তোষণের রাজনীতি করবে বলে সাধুদেরও ছাড়ছে না।
#BharatSevashramSangh
#KarthikMaharaj
#GovernorCVAnandBose
#Latestbengalinews
#স্বামীসুবীরানন্দ
#Ramakrishna Mission


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা