সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ মেঃ সৌরভোত্তর যুগে তিনিই বাংলার সফলতম ক্রিকেটার। দেশের হয়ে খেলা থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিসংখ্যান সেই কথাই বলছে। তিনি ঋদ্ধিমান সাহা। বঙ্গ ক্রিকেটের মায়া ত্যাগ করে ২০২২ সালের জুলাই মাসে যিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন পড়শী রাজ্য ত্রিপুরায়। অভিমান করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলার ঋদ্ধি। তার নিশানায় ছিলেন নিজের রাজ্যের ক্রিকেট সংস্থার এক শীর্ষস্থানীয় কর্তা। মান-অভিমানের পাল্লা সাঙ্গ করে নিজের রাজ্যেল ‘ঘর ওয়াপসি’ হল বাংলার এই তারকা ক্রিকেটারের। সোমবার সস্ত্রীক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন তিনি।

দু’বছর আগেও দেখা যেত দৃশ্যটা। বাংলার ম্যাচ থাকলেই উইকেটের পিছনে অতন্দ্র প্রহরীর মত দাঁড়িয়ে থাকতেন। বিপক্ষের ব্যাটারের ব্যাটে বল স্পর্শ করে উইকেটের পিছনে গেলেই, বাজপাখির মত ছোঁ মেরে গ্লাভসবন্দী করে ফেলাই ছিল তার অভ্যাস। দলের প্রয়োজনে কথা বলত ব্যাটও। বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন “শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষার ভরসা।” সেই ঘরের ছেলে ঋদ্ধি বছর দুয়েক আগে নিজ রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ত্রিপুরায়। পড়শি রাজ্যের ক্রিকেট দলের হয়ে নজরকাড়ার পাশাপাশি, আইপিএলে গুজরাটের হয়েও দুরন্ত খেলেছেন। সেই ঋদ্ধির প্রত্যাবর্তন হতে চলেছে বাংলা ক্রিকেটে।
বেশ কয়েকদিন ধরে ঘরের ছেলেকে ঘরে ফেরানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিল বাংলা ক্রিকেট সংস্থা। চলছিল অভিমান ভাঙার পালা। একাধিকবার বেশ কয়েক দফায় সিএবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয় ঋদ্ধির। অবশেষে প্রাক্তন বিসিসিআই ও সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে সস্ত্রীক সাক্ষাৎ করেন ঋদ্ধি। প্রিয় দাদার সঙ্গে কথা বলেই গলল বরফ। তখনই স্থির করে নেন ফের বাংলায় ফিরবেন। জানা গিয়েছে, ঋদ্ধির এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে রয়েছে তার স্ত্রী রোমি সাহার অবদান। তবে শুধু ঋদ্ধি একা নন, বাংলায় ফিরলেন বাংলা ছেড়ে ত্রিপুরায় চলে যাওয়া সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ও।
বাংলা ছাড়ার সময় বাংলার তারকা উইকেটরক্ষক ব্যাটার জানিয়েছিলেন, রাজ্যের প্রতি তার কোনও অভিমান নেই। তার পরে একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা হয় ঋদ্ধির। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান ঋদ্ধির বাংলা ছাড়ার কারণ। তিনিও স্পষ্ট করে সেই কারণ জানিয়ে দেন। তখন মমতা বাংলার উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে অনুরোধ করেন বাংলা ছাড়লেও, তিনি যেন বাংলার কথা ভুলে না যান। ঋদ্ধি তখন মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন ত্রিপুরায় খেললেও সুযোগ পেলে তিনি রাজ্যে প্রত্যাবর্তন করবেন । বাংলায় ফিরে মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া কথাও রাখলেন ঋদ্ধি। তবে বাংলা ক্রিকেট সংস্থা কীভাবে তাকে ব্যবহার করবেন, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার