Home » রানীগঞ্জে নামী গহনার দোকানে ফিল্মি কায়দায় ডাকাতি, পুলিশের জালে বিহারের কুখ্যাত ডাকাত

রানীগঞ্জে নামী গহনার দোকানে ফিল্মি কায়দায় ডাকাতি, পুলিশের জালে বিহারের কুখ্যাত ডাকাত

সময় কলকাতা ডেস্ক: ১০ জুনঃ  রানীগঞ্জের নামী গহনার দোকানে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল গিরিডি পুলিশ। বিহারের ৭ অপরাধী রানীগঞ্জের স্বর্ণ বিপণীতে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত। ডাকাতেরা রানীগঞ্জ থেকে পালিয়ে একটি চারচাকা গাড়ি করে ঝাড়খন্ড দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। পথেই গাড়ি চালকের কাছ থেকে গাড়িটি ছিনিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। চালক বাধা দিলে চালকের পায়ে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। দুষ্কৃতীরা গাড়িটি ছিনতাই করে জি টি রোড ধরে ঝাড়খন্ড বিহারের দিকে পালাতে শুরু করে। বেঙ্গল পুলিশ রানীগঞ্জ থেকেই গাড়িটির পিছু নেয়। রাস্তায় বিভিন্ন থানায় তারা সতর্কবার্তা পাঠায়। খবর পাঠানো হয় তোপচাঁচি থানায়, নিমিয়া ঘাট থানায়, ডুমরি থানায় ,বাগোদর থানায় এবং সারিয়া থানায়। খবর দেওয়া হয় গিরিডি থানায়। এরপরই রাস্তায় গাড়িটিকে আটক করে গিরিডি থানার পুলিশ। পুলিশ গাড়িটিকে ঘিরে ফেললে দুষ্কৃতীরা আহত এক ডাকাতকে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয়। ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে লুট করা গয়না অস্ত্রশস্ত্র এবং গুলি। বিহারের কুখ্যাত অপরাধী সুরাজ কুমার সিং ধরা পড়লেও এখনো পর্যন্ত অধরা আরও ছয় অপরাধী।   

আরও পড়ুন    কাশ্মীরে পূণ্যার্থীদের বাসে জঙ্গি হামলার তদন্তভার গেল এনআইএ-র হাতে, জঙ্গিদের তল্লাশিতে ভারতীয় সেনা

উল্লেখ্য, রবিবার রানীগঞ্জের ওই সোনার দোকানে ভয়াবহ ডাকাতি হয়। দুষ্কৃতীরা আচমকাই সোনার দোকানে উপস্থিত ক্রেতা এবং কর্মীদের এক জায়গায় বসিয়ে রেখে লুটপাট শুরু করে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। এরপরই শুরু হয় পুলিশ এবং দুষ্কৃতীদের মধ্যে গুলি বিনিময়। অফিসিয়াল কারণে ঘটনাস্থলের অদূরে উপস্থিত ছিলেন জামুরিয়া থানার শ্রীপুরের আইসি মেঘনাথ মন্ডল। দুষ্কৃতীদের লক্ষ্য করে তিনিও গুলি চালান। মেঘনাথ মন্ডলের গুলিতে জখম হন এক দুষ্কৃতী। দুপক্ষের যখন গুলি বিনিময় হয়, তখন এলাকার ব্যবসায়ীরাও রুখে দাঁড়ান। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে শোরুম ছেড়ে রানীগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড় হয়ে নিয়ামতপুর -লিথুরিয়া রোড ধরে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।

পুলিশের অনুমান, নিয়ামতপুর লিথুরিয়ার রাস্তা ধরে পুরুলিয়ার দিকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। ডাকাতির সময় ওই সোনার দোকানের মালিক সুদীপ রায় দোকানে উপস্থিত ছিলেন। সারারাত ধরে ডগ স্কোয়াড, বেঙ্গল পুলিশ এবং ঝাড়খন্ড পুলিশ চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছে সরিয়া এলাকায়।এরপরই মিলল সাফল্য। প্রসঙ্গত, এর আগে আসানসোলেও একই পদ্ধতিতে ডাকাতি হয়েছিল এক স্বর্ণ বিপণীতে। আসানসোল এবং রানীগঞ্জ অঞ্চলে একের পর এক সোনার দোকান সহ একাধিক জায়গায় ডাকাতি হওয়ায় উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী। পাশাপাশি উদ্বিগ্ন পুলিশ প্রশাসন। এলাকায় এখনও পর্যন্ত মোতায়ন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

About Post Author