Home » হেনরিক ক্লাসেন : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রাজিক নায়ক

হেনরিক ক্লাসেন : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রাজিক নায়ক

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ৩০ জুন : ভারতের আশায় জল ঢেলে কাজ প্রায় হাসিল করে এনেছিলেন তিনি। দেশের হয়ে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপ  ঘরে তুলেই ফেলেছিলেন প্রায়। অক্ষর প্যাটেল যখন ১৫ তম ওভার করতে এলেন তখন দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ৩৬ বলে ৫৪। তাঁর তান্ডবলীলায় চিরকালের ইকোনোমিক বোলার অক্ষরের করা বল বারবার উড়ে যেতে শুরু করল মাঠের বাইরে। অক্ষরের ওভারে ২৪ রান তোলার পরে  ম্যাচ প্রায় হাতের মুঠোয় চলে এসেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। ৩০ বলে ৩০ রান দরকার। ১৬ তম ওভারের প্রথম বলে  হার্দিক পান্ডিয়ার স্লোয়ারে  তাঁর ব্যাট ছুঁয়ে বল হৃষভ পন্থের দস্তানায় জমা পড়ল। বিষন্ন মনে সাজঘরের দিকে হাঁটতে শুরু করেন  তিনি। তখনও হাতে পাঁচ উইকেট  রয়েছে। তবুও তিনি ক্রিজে থাকার সময় যে কাজ অত্যন্ত সহজ বলে মনে হচ্ছিল, তা আর সহজ থাকে নি।তিনি ফিরতেই ১৭৭ রানের টার্গেট হয়ে ওঠে দুঃসাধ্য।

শেষ পাঁচ ওভারে ওঠে মাত্র ২২ রান  আর তার মধ্যেই চার উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এককথায়, হেনরিক ক্লাসেনের উইকেটই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। হেনরিক ক্লাসেন ক্রিজে থাকলে ভারতের যে বিশেষ আশা ছিল না, তা বলাই বাহুল্য। তিনি ফিরে যাওয়ার ফলশ্রুতি সাত রানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে যায় ভারত। জিতে নেয় ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ ফাইনালের ট্রাজিক নায়ক হয়ে থেকে গেলেন হেনরিক ক্লাসেন।

২৭ বলে ৫২ রান করে হেনরিক ক্লাসেন যখন ফিরছেন তখন গ্যালারিতে আনন্দে ভারতীয় দর্শকদের কেঁদে ফেলতে দেখা গেল। তাঁরা বুঝতে পারছিলেন অতিমানব হয়ে ওঠা ক্লাসেনের পতন ম্যাচের রং ঘুরিয়ে দিতে পারে।হয়েছে ও তাই। তাঁর পতন দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ে আরেকবার চোকার্স ট্যাগকে মজবুতভাবে ঝুলিয়ে দিয়েছে। যত দুর্দান্ত বল করুন বুমরা, যতই আশ্চর্য ক্যাচ ধরুন সূর্য কুমার যাদব, ক্লাসেন থাকলে কী হত বলা যায় না। এক ক্লাসেনের উইকেটই যেন সাতবার সেমিফাইনালে ওঠার পরে, প্রথম ফাইনালেও ব্যর্থতা বয়ে আনল।  ট্রফি বা কাপ অধরা থেকে গেল দক্ষিণ আফ্রিকার।

স্লো মিডিয়াম বা স্পিনে খুবই দক্ষ ব্যাটার তিনি। শনিবারও খুব ঠান্ডা মাথায়  ভারতীয় বোলিংকে খুন করছিলেন ক্লাসেন। নিষ্পৃহ ভঙ্গিতে নির্দয় হয়ে বলকে সীমানার বাইরে পাঠাচ্ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমির কোচ কনরাড সাধে কীআর তাঁর বরফ শীতল মস্তিষ্কের জন্য এম এস ধোনির সঙ্গে তাঁর মিল খুঁজে পান! ইতিমধ্যেই  দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ হয়েছে ৩২ বছরের প্রিটোরিয়া-জাত দীর্ঘদেহীর। কুইন্টন ডি কক মনে করেন তিনি বিশ্বমানের খেলোয়াড়। এরকম মনে করার যে যথেষ্ট কারণ আছে টি-টোয়েন্টি  বিশ্বকাপ ফাইনালে  বোঝালেও দিনশেষে হেনরিক ক্লাসেন  ট্রাজিক নায়ক।

বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই রোহিত – কোহলির অবসর

ফাইনালের ট্রাজিক নায়ক হেনরিক ক্লাসেনের সম্বন্ধে খুব বেশি তথ্য মানুষ জানেন না । আড়ালে থাকতেই ভালোবাসেন তিনি। বেশ দেরিতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেছেন। বছর পাঁচেক আগে ২৭ বছর বয়সে প্রথম সুযোগটাও পেয়েছেন ডুপ্লেসি-র বদলি হিসাবে। দুপ্লেসি আহত না হলে দক্ষিণ আফ্রিকা এক নক্ষত্রকে খুঁজে পেত কিনা সন্দেহ। উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান ক্লাসেন অবশ্য টেস্টে বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি। তার যাবতীয় সাফল্য  সাদা বলের ক্রিকেটে। একদিনের ক্রিকেটে তার চারটি শত রান রয়েছে।

নিজেকে গুটিয়ে রাখতে ভালোবাসলেও পরিবারের জন্য তিনি যে যথেষ্ট সময় দেন তা তার সতীর্থদের কাছে ও ক্রিকেট সার্কিটে অজানা নয়। তাঁর পৃথিবী তাঁর স্ত্রী ও দেড় বছরের কন্যা। কুকুর প্রেমী হেনরিক ক্লাসেনের প্ৰিয় বা আদর্শ ক্রিকেটার ক্রিস গেইল। ক্রিকেট মাঠের বাইরে যতই ফারাক থাকুক নিজের দিনে ক্রিস গেইলের মতই ভয়ঙ্কর হেনরিক ক্লাসেন। ফাইনালে হার্দিক পান্ডিয়া তাঁকে আউট করেন মোক্ষম সময়। তবুও ৫ টি ওভার বাউন্ডারি মেরে ২৭ বলে ৫২ রান করা হেনরিক ক্লাসেন বুমরা,কোহলি, অক্ষর,পান্ডিয়ার মতই ফাইনালের অন্যতম প্রধান চরিত্র । ফারাক, তাঁর কাব্য ভারতীয়দের মতো আনন্দের নয়, তাঁর কাব্য বিষাদে ঢাকা।  নইলে ১৯২ এর বেশি স্ট্রাইক রেটে অর্ধশতরান করার পরেও তাঁকে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ খালি হাতে ফেরাত না। ভারতের দলগত শক্তির কাছে হেরেছেন হেনরিক ক্লাসেন, অতিমানব হয়েও তিনি ট্র্যাজিক নায়ক।।

ডেনমার্ককে দু গোলে হারিয়ে জার্মানি শেষ আটে

About Post Author