সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ জুলাই: রাজ্যে একের পর এক গণপিটুনির ঘটনা কড়া হাতে মোকাবিলা করার কথা জানাল রাজ্য। একইসঙ্গে গণপিটুনির ঘটনায় মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরি এবং পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হল। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মা। এদিন আলাপন বলেন, যেকোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। অর্থ বা চাকরি দিয়ে সেই ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সরকারের তরফে পরিবারগুলির পাশে থাকার জন্য এই সিদ্ধান্ত। এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মা বলেন, জনগণকে বলব, হাতে আইন তুলে নেবেন না। কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে পুলিশকে জানান। কিন্তু তা না করে হাতে আইন তুলে নিলে আমরা বরদাস্ত করব না।
সম্প্রতি রাজ্যে একাধিক গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এর পাশাপাশি চোপড়ায় এক যুগলকে নৃশংসভাবে মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একের পর এক ঘটনা সামনে আসায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার এবং রেলের পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে সামাজিক মাধ্যম এবং টিভি চ্যানেলে সচেতনতামূলক প্রচার করতে হবে। নজর রাখতে হবে এই সংক্রান্ত ভুয়ো খবরের দিকেও। ভুয়ো খবরের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করতে হবে। উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলির প্রতি বাড়তি নজরদারি রাখতে হবে। এরপরেই মঙ্গলাবারের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মানুষকে আইন মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশকে নজরদারি ও জনসংযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চোপড়ায় তরুণ-তরুণীকে মাটিয়ে ফেলে গণপিটুনির ঘটনায় তোলপাড় সারা রাজ্য। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে রিপোর্ট তলব করেছেন রাজ্যপাল। রবিবারই প্রকাশ্যে এসেছে চোপড়ার ‘নীতি পুলিশি’র ভিডিও। তাতে দেখা যায়, এক তরুণ এবং এক তরুণীকে রাস্তায় ফেলে একছড়া কঞ্চি দিয়ে বেধড়ক মারছেন এক ব্যক্তি। মার খেতে খেতে বিশ্রস্ত অবস্থায় প্রায় গুটিয়ে যাওয়া তরুণীকে চুলের মুঠি ধরে টেনে এনে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে আবার চলছে মার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মহিলা বিবাহিত। তবে তিনি এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘর ছাড়েন। পরে ফিরে এলে তাঁদের কাছে ১০ হাজার টাকা জরিমানা চাওয়া হয়। এ-ও বলা হয়, টাকা না দিলে এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না। তার পরও সেই টাকা না দেওয়ায় রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয় তাঁদের। পরে জানা যায়, ভিডিয়োয় যিনি তাঁদের মারছিলেন, তাঁর নাম তাজিমুল ইসলাম ওরফে জেসিবি। তিনি তৃণমূল নেতা। তবে এলাকায় পরিচিত চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমানের ঘনিষ্ঠ বলে।
#Latestbengalinews


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
বারাসাত বিজেপিতে ভাঙন, দল ছাড়লেন তাপস মিত্র
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কুস্তিগীরকে ফাঁসিতে ঝোলালো ইরান