Home » বিধানসভা উপনির্বাচন, ফলাফল কিসের ইঙ্গিত?

বিধানসভা উপনির্বাচন, ফলাফল কিসের ইঙ্গিত?

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ জুলাই : লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশ  হওয়ার চল্লিশ দিনের মধ্যে প্রকাশ পেল সাত রাজ্যের ১৩ টি কেন্দ্রের বিধানসভা উপনির্বাচন কেন্দ্রিক ফল । কী ইঙ্গিত দিচ্ছে উপনির্বাচনের ফল?

সারা ভারতের ৪১২৩টি বিধানসভা আসন তারমধ্যে ১৩ টি তে উপনির্বাচন হয়ে গেল। যা এক শতাংশও নয়। ফল প্রকাশ হতেই দেখা গেল বিজেপির ঝুলিতে এসেছে মাত্র ২ টি।  ইন্ডিয়ার ভাগে ১০। নির্দলের আসন ১। কিন্তু ভগ্নাংশের হিসেবে ব্যর্থতাতেও ভাঁজ পড়তে বাধ্য এনডিএ জোটের প্রধান – নরেন্দ্র মোদির কপালে। কংগ্রেস যেখানে চারটি আসন পেয়েছে সাত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে – সেখানে দলীয় ব্যর্থতা তো বিজেপিকে ভাবাবেই। বিশেষ করে, লোকসভা নির্বাচনে  তিনশোর গণ্ডি পার করা দূরে থাক এনডিএ শরিকদের কল্যাণে ২৪০ থেকে ২৯৩ নিয়ে সংসদে সামান্য প্রাধান্য নিয়ে বিরাজ করছে এনডিএ।

সবচেয়ে বড় কথা,  কংগ্রেসের ৪ টি আসনের পাশাপাশি তৃণমূলের ঝুলিতে চারটি আসন এবং ডিএমকে ও আপ একটি করে আসন পেয়েছে। কংগ্রেসের পাশাপাশি, ডিএমকে, আপ প্রত্যেকেই জয়ের পরে ইন্ডিয়া জোটের কথা বলছে। ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলি কি বলছে আর এনডিএ জোটভুক্ত দলগুলি কি বলছে তা থেকেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

তামিলনাড়ুর ডিএমকে নেতা ও মন্ত্রী পোনমুদি বলছেন, ‘এই জয় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের জয় এবং তিনি গত তিন বছরে যা করেছেন জয় তার। তার পেছনে রয়েছে মানুষ। ইন্ডিয়া জোটের দলগুলিও আমাদের সাথে রয়েছে এবং সেই কারণেই আমরা এই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছি। ‘

একদিকে ডিএমকে যখন তাদের কৃতিত্বের ভাগীদার করে নিচ্ছে আপ -কংগ্রেস -তৃণমূলকে তখন রুপাউলি উপনির্বাচন অদ্ভুত এক ছবি তুলে ধরছে। এখানে নির্দল প্রার্থী শঙ্কর সিং জয়ী হয়েছেন তার ক্ষেত্রে আরজেডি দলের শিক্ষালাভের কথা তুলে আনছে নীতিশ কুমারের  দল জনতা দল (ইউনাইটেড )। সেখানে রাজীব রঞ্জন বলছেন, এটা নাকি লালুর আরজেডির কাছে এক বিরাট শিক্ষা। প্রসঙ্গত, শংকর সিংয়ের বিরুদ্ধে ১৯ টি ফৌজদারী মামলা জারি রয়েছে। শংকর সিংহের বিরুদ্ধে যত কথা না বলছে নীতিশ কুমারের দল তার চেয়ে লালুর বিরুদ্ধে মুখর তারা।

ইন্ডিয়া যেখানে নিজেদের জোটের শক্তি বাড়ানোর কথা ভাবছে, এনডিএ জনাদেশকে মানতে রাজি নয়। পশ্চিমবঙ্গে চারটির মধ্যে তিনটি আসন হারিয়ে রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলছেন যা তার মধ্যে বেশিরভাগই শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ। তাঁর কেন্দ্র বালুরঘাটের লাগোয়া রায়গঞ্জে কংগ্রেস প্রার্থী মোহিত সেনগুপ্ত যে শক্তি বৃদ্ধি করেছেন তা যে তৃণমূলের কল্যাণে হতে পারে না , একথা তাঁকে কে বোঝায়? বঙ্গে ইন্ডিয়া জোট হাতে -হাত রেখে লড়ল কোথায়? লড়লে তো বঙ্গ থেকে নিশ্চিত ভাবে উবে যেত বিজেপি। কিন্তু এবার দলগুলির সমঝোতার দিকে তাকাচ্ছে না মানুষ। তারা বিজেপি বিরোধী দল হিসেবে একটি দলকে বেছে নিচ্ছে। দুমাস যেতে না যেতেই বিজেপির ভোট প্রচুর কমেছে। কেবলমাত্র রিগিঙ, ছাপ্পা, বুথ দখলের অভিযোগে  এনে বিজেপি নিজের ব্যর্থতা চাপতে পারে না।

ইঙ্গিত পরিষ্কার, বিজেপি বিরোধী শক্তি প্রবল থেকে প্রবলতর হয়ে চলেছে। বঙ্গে এই চিত্র আরও ভালো করে ধরা পড়ছে। আইএসএফের অনেকেই যে আইএসএফকে ভোট না দিয়ে বিজেপিকে হারাতে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে তা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।  ফলাফল কিসের ইঙ্গিত? বিধানসভা উপনির্বাচন ও কি বিজেপি বিরোধীদের বার্তা স্পষ্ট করছে না ? বিজেপি বিরোধীরা কি ভিন্ন ভিন্ন কেন্দ্রে একটি বিজেপি বিরোধী দলকে বেছে নিতে চাইছে? লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের চল্লিশ দিনের মধ্যে কি দেশে বিজেপি হওয়ার বাতাস বইতে শুরু করল?

About Post Author