সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ জুলাই: রাষ্ট্রনায়ক বা রাষ্ট্র নেতাদের উপর বন্দুকবাজের হামলার ঘটনা ইতিহাসে নতুন নয়। এমন ঘটনা ভারতে মহাত্মা গান্ধীর উপর নাথুরাম গডসে নামক জনৈক আততায়ীর প্রাণঘাতী আক্রমণের ঘটনার স্মৃতিকে উস্কে দেয়। বন্দুকবাজের নিশানায় পড়ে প্রাণ হারাতে হয়েছিল ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকেও। ২০২২ সালে বন্দুক বাজের হামলায় প্রাণ হারান জাপানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিঞ্জে আবে। তবে শুধু ভারত বা জাপান নয় বারবার বন্দুক বাজের নিশানায় পড়তে হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাষ্ট্রনেতা বা রাজনীতিবিদকে। রবিবার পেনসিলভেনিয়ায় সেদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের ওপর বন্দুক বাজের হামলা যার সাম্প্রতিকতম নিদর্শন। তবে বরাত জোরে তিনি রক্ষা পেয়ে যান। গুলি তাঁর কান ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। এই ঘটনায় দল মত নির্বিশেষে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গোটা বিশ্বের নেতারা। একনজরে দেখে নেওয়া যাক সেদেশের কোন কোন রাষ্ট্রপ্রধানকে বন্দুকবাজের হামলায় পড়তে হয়েছে।

পশ্চিমী দুনিয়ায় নিজেদের উন্নত দেশ বলে দাবি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের দাপট বজায় রেখেছে তারা। নিজেদের দেশ ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করার গুরু অভিযোগও ওঠে আমেরিকার বিরুদ্ধে। সেই দেশের অন্দরে নাকি সুরক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের মধ্যে উন্নততম। কিন্তু বারবা নিজের দেশেই বারবার আততায়ীর হামলার শিকার হতে হয় সেদেশের রাষ্ট্রনায়কদের।
আরও পড়ুনঃ Rohit Arya Joins BJP : বিজেপিতে যোগ দিলেন আরও এক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি
দেশের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বন্দুকবাজের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন আব্রাহাম লিঙ্কন। ১৮৬৫ সালে থিয়েটার দেখতে গিয়ে বন্দুকবাজের হামলার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। মাথার ঠিক পিছনে গুলি লাগে তাঁর। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। পরের দিন মৃত্যু হয় তাঁর। ১৮৮১ সালে ফের গুলিবিদ্ধ হলেন আমেরিকার আরও এক রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি জেমস গারফিল্ড। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে তাঁকে বন্দুকবাজের হামলার মুখে পড়তে হয়েছিল। ওয়াশিংটনের এক স্টেশনে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মৃত্যু হয়। ১৯০১ সালে নিউইয়র্কে গুলিবিদ্ধ হন আমেরিকার ২৫ তম রাষ্ট্রপতি উইলিয়াম ম্যাককিনলে। বাফেলোতে একটি সভার পর সমর্থকদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলেন তিনি। তখনই তাঁকে উদ্দ্যেশ্য করে গুলি চালায় এক বন্দুকবাজ। তাঁর বুকে দুটি গুলি লাগলে তিনি লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার আটদিন পর জীববিনযুদ্ধে হার মানেন ম্যাককিনলে। ১৯১২ সালে মিলয়াউকিতে থিওডোর রুজভেল্টকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
১৯৩৩ সালে মিয়ামিতে বন্দুকবাজের হামলার মুখে পড়েছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট। হুডখোলা গাড়ির পিছনে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করার সময় তাঁকে উদ্দ্যেশ্য করে গুলি চালানো হয়। তবে তিনিও অল্পের জন্য বরাত জোরে রক্ষা পান। ১৯৫০ সালে বন্দুকবাজের হামলার মুখে পড়তে হয় সেদেশের ৩৩ তম রাষ্ট্রপতি হ্যারি এস ট্র্যুম্যানকে। হোয়াইট হাউসের কাছে ব্লেয়ার হাউসে ভাষণ দেওয়ার সময় তাঁকে নিশানা করা হয়। ঘটনায় এক রক্ষী ও এক আততায়ী প্রাণ হারালেও বেঁচে যান হ্যারি। সব থেকে বড় ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৬৩ সালে। সস্ত্রীক ডালাসে নির্বাচনী প্রচারে গিয়েছিলেন সেদেশের ৩৫ তম রাষ্ট্রপতি জন এফ কেনেডি। হুডখোলা লিমুজিনে চড়ে জনসংযোগ করার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ১৯৬৮ সালে জনের ভাই রবার্ট এফ কেনেডিকেও গুলি করে হত্যা করে আততায়ীরা।


More Stories
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?