সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ জুলাইঃ সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তাল বাংলাদেশ। দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র যাত্রাবাড়ী-শনিরআখড়া। আন্দোলনে সামিল হয়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রলিগের সদস্যরা। মঙ্গলবার কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ এবং পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভের আঁচ। কোটাবিরোধী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন। বুধবারই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এদিকে, বৃহস্পতিবার কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশে ‘ কমপ্লিট শাটডাউন ‘ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। শুধু হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছেন তাঁরা। বিক্ষোভের জেরে বাংলাদেশের গণপরিবহণ ব্যবস্থা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। জাতীয় সড়কগুলিতে আটকে রয়েছে হাজার হাজার যানবাহন। রাজধানী ঢাকার রাস্তাতেও পুলিশের গাড়ি আর অ্যাম্বুল্যান্স ছাড়া অন্য যানবাহনের দেখা মেলেনি। তবে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।
প্রসঙ্গত, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে চলছে কোটা সংস্কার আন্দোলন। রবিবার এই আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি মন্তব্য করেন। এরপর সোমবারই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন একাংশের শিক্ষার্থীরা। এদিন থেকেই মূলত আন্দোলন ভয়াবহ আকার নেয়। ক্যাম্পাসের মধ্যেই আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর ছাত্রলিগের সদস্যরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামি লিগেরই ছাত্র শাখা হল ছাত্রলিগ। এদিন সেই সংঘর্ষ আরও বড় আকার নেয়। সব মিলিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েকশো মানুষ। এদিকে, কোটাবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনার পর আন্দোলনকারী ছাত্রীদের তোপের মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের নেত্রীরা৷ মঙ্গলবার রাতে তাদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ৷ বাংলাদেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রলীগের কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সংঘর্ষের ঘটনার পরে মঙ্গলবারও বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশজুড়ে থমথমে পরিবেশ ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনা। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বুধবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হল বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়।
#QuotaMovementBangladesh
#Latestbengalinews
# completeshutdowninbangladesh


More Stories
সীমান্তে চ্যাংড়াবান্ধায় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের পরই শুরু মাপজোক
সীমান্ত সমস্যা সমাধানে শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত দ্রুত পদক্ষেপে কোন বার্তা?
আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস : বাংলাদেশে পালাবদল ও বিতর্ক