সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩১ জুলাইঃ ভয়াবহ ভূমিধসে মৃত্যুপুরী কেরলের ওয়েনাড়। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৩। মাটির নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত বিপুল সংখ্যক মানুষের জনজীবন। ধসের জেরে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েছে বহু গ্রাম। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বহু মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। তবে একনাগাড়ে বৃষ্টিতে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। মঙ্গলবার ভোরে ওয়েনাড়ে ভয়াবহ ধস নামে। মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে কার্যত পাহাড় ভেঙে নেমে আসে। কেরলের মুন্দাক্কাই, চুরামালা, আতামালা ও নুলপুজ়া জেলা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই চার জেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন Kriti Sanon : নির্জন দ্বীপে সিগারেট হাতে কার সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছেন কৃতি? ফাঁস হল ছবি
টানা বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেখানে। ভেঙে গিয়েছে রাস্তা, সেতু। নদীতে ভাসছে একের পর এক মৃতদেহ। সেনাবাহিনীর তরফে অস্থায়ী সেতু তৈরি করে পাহাড়ি এলাকা থেকে কমপক্ষে ১ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেই জানানো হয়েছে। আহত অবস্থায় হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে প্রায় ৩০০ জনকে। শতাধিক লোক চাপা পড়ে থাকতে পারে এই ভূমিধসে এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজ, বুধবার ওয়েনাড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর (Priyanka Gandhi)। ইতিমধ্যেই কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে ফোন করে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর তরফে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা সাহায্যের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোররাতে ধস নামে মেপ্পাদি, মুন্ডক্কাই টাউন এবং ওয়েনাড় জেলার চুরালমালায়। ওয়ানড়ের কালপেট্টা থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মেপ্পাদির পাহাড়ি অঞ্চলের একাধিক পাহাড়ে ধস নামে। রাত ১টা নাগাদ মুন্ডাক্কাই টাউনের কাছে প্রথম ধসের খবর পাওয়া যায়। এর ঘণ্টা তিনেক পর ওই এলাকায় এক স্কুলের কাছে দ্বিতীয় ধস নামে। আশেপাশের বাড়ি ও দোকানের মধ্যে জল কাদা ঢুকে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভেসে যায় একাধিক গাড়ি। এই ঘটনায় এলাকায় অন্তত ৪০০টি পরিবার আটকে পড়ে। ভেঙে পড়ে একটি ব্রিজ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হয় প্রশাসন। বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে। শাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যেখানে যেখানে ধস নেমেছে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। দমকল ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সঙ্গে সঙ্গে পাঠানো হয় ওই এলাকায়। উদ্ধারকাজে নামানো হয় রতীয় বায়ুসেনার হেলিকপ্টার Mi-17 এবং একটি ALH। রাজ্যের সব সরকারি এজেন্সিকে উদ্ধারকাজে হাত লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। যদিও ব্যাপক বৃষ্টির জেরে পদে পদে ব্যহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মুন্ডাক্কাই থেকে দুর্গতদের যাতে এয়ারলিফট করা যায় সে চেষ্টা চলছে।
#Kerala’sWayanadlandslide
#Latestbengalinews


More Stories
আবার বাড়ল পেট্রোল, ডিজেলের দাম
সুপ্রিম রায় : বিবাহিতা মহিলাদের বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ টিকবে না
আমাদের চেয়ে ভালো গলা কাটতে কেউ জানেনা, বাংলাদেশকে হুঁশিয়ারি নাগাল্যান্ডের মন্ত্রীর