Home » দূষণ ধূপগুড়ি জুড়ে, আবর্জনার কোল ঘেঁষে রাখা প্রতিমা বিক্রি

দূষণ ধূপগুড়ি জুড়ে, আবর্জনার কোল ঘেঁষে রাখা প্রতিমা বিক্রি

সানী রায়, সময় কলকাতা,১৭ অগাস্ট : বেশি দিন আগের কথা নয়, পাঁচ বছরও পূর্ণ হয় নি। সেসময় একটি ভয়াবহ পরিসংখ্যান সামনে আসে। পরিবেশ দূষণ ২০১৯ সালে  সারা বিশ্বে নব্বই লাখ লোকের প্রাণহানির কারন হয়ে উঠেছিল। সারা বিশ্বের যত মানুষ সে বছর মারা যান  তাঁদের প্রতিছজনের একজনের মৃত্যুর কারণ ছিল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দূষণ। বিগত চার বছরে দূষণের হার আরও বেড়েছে। মানুষ সচেতন হয়নি। দূষণের বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলি যেমন বায়ু দূষণ, জল দূষণ, আবর্জনা বেড়েই চলেছে। আবর্জনা যে সার্বিক দূষণের কারণ হয়ে উঠেছে মানুষকে বোঝায় কে ? ধূপগুড়িতে মনসা পূজোর প্রাক্কালে একদিকে আবর্জনা দূষণ ছড়াচ্ছে আর সেই আবর্জনার কোল ঘেঁষে রাখা প্রতিমা ভক্তের কোলে করে পৌঁছে যাচ্ছে বাড়িতে বাড়িতে।

পুজোর সময় বিভিন্ন দূষণ বাড়ে। বায়ু, জল, শব্দ, প্লাস্টিক – সর্বক্ষেত্রে  দূষণের মাত্রা বাড়ে। ধূপগুড়িতে এর চেয়েও হতাশাজনক ছবি চোখে পড়লেও মানুষ ও প্রশাসন নির্বিকার। আবর্জনার স্তুপ আর আবর্জনার কোল ঘেঁষে রাখা প্রতিমা বিকিকিনি চলছে দেদার।

দীর্ঘদিনের জমা নোংরা আবর্জনার স্তুপের পাশেই বিক্রি হচ্ছে দেবীর প্রতিমা । দূষণের মধ্যে দেবীর প্রতিমা বিক্রির ছবি প্রকাশে আসতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রতিমা ছাড়াও যে শহর জুড়ে আবর্জনার স্তূপ। জঞ্জালের শহর ধুপগুড়ি কে পরিষ্কার রাখার দায় কার?

আর পাঁচটা শহরের মত ধুপগুড়ি শহর যেন নোংরা আর আস্তাকুড় । সবথেকে খারাপ অবস্থা ধুপগুড়ি কমিটি হল সংলগ্ন এলাকার। পাশাপাশি, নোংরা আবর্জনা জমে রয়েছে  জাতীয় সড়কের পাশেও । নোংরা আবর্জনার কারণে হচ্ছে বায়ু দূষণ।দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। কমিউনিটি হল সংলগ্ন এলাকায় থানা বা স্কুল থাকলে কি হবে – সবই যেন গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে ।

স্কুলের সিলেবাসে পরিবেশ রক্ষা ও পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে বহু অধ্যায় অর্থহীন হয়ে পড়ে  যখন  পচা পাঁক আর নোংরা আবর্জনা ভেসে আসে ধূপগুড়ি হাইস্কুলের গেটে। পড়ুয়াদের সেই নোংরা পচা জল পায়ে করে যেতে হয় স্কুলে। বারংবার পুর-কর্তৃপক্ষকে জানানো সত্বেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এমনটাই অভিযোগ।অভিযোগ, ধূপগুড়ির  পুর প্রশাসন দূষণ নিয়ন্ত্রণে বড়ই উদাসীন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  সদ্য প্রশাসনিক এক বৈঠক থেকে শহরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বার্তা দিয়েছেন। তিনি নাগরিক পরিষেবা কোনও ভাবেই বিঘ্নিত না হয় সেদিকে নজর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তথাপি ধুপগুড়ি যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে। আর একে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আছে।

বিজেপি কনভেনর চন্দন দত্ত বলেন, ধুপগুড়ি শহরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা বা শহরের অন্য কোনও পরিষেবা নিয়ে চিন্তিত নয়।  শহরজুড়ে আবর্জনা পড়ে থাকলেও পুরসভার উদাসীনতার পেছনে রয়েছে কাটমানির অনুপস্থিতি, জানিয়েছেন তিনি। কাটমানি বা অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকলে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা শহুর পরিষ্কার রাখত, অভিমত বিজেপি নেতার।

তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক অরূপ দে তিনি জানান, এই বিষয়গুলি দেখার দায়িত্ব পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান এবং প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারপারসনের। তিনি দায় এড়ালেও তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার ওপরে দায় চলে এসেই যায় আর সেকথায় পুরবোর্ড বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তা শহরের আবর্জনা আর আবর্জনার কোল ঘেঁষে রাখা প্রতিমা প্রমাণ দেয়।

তবে ধুপগুড়ির সাধারণ মানুষ বা নাগরিক সমাজের পক্ষেও আবর্জনা পরিষ্কার করে শহরকে সাতসুতরো রাখার কোনও উদ্যোগ দেখা যায় না। ফলে ধুপগুড়ি বঙ্গের রাজধানী কলকাতা সহ রাজ্যের অন্য শহরের মতই আবর্জনায় ভরে উঠতে থাকে।সারা বিশ্বের সমগ্র বাস্তুতন্ত্র কে দূষণ  হুমকির মুখে ফেললেও  আমজনতা বা জনপ্রতিনিধি  কেউই যে আদৌ সচেতন নয় তার ছবি আর পাঁচটা শহরের মত ধুপগুড়িতে  ফুটে ওঠে। শহরকে গ্রাস করে দূষণ। আবর্জনার বুক থেকে উঠে আসা দেবীপ্রতিমার পুজো হয় মঙ্গল ও শুভ কামনায়। অথচ মঙ্গল ও শুভ চাপা পড়তে থাকে আবর্জনার ভিড়ে।।

About Post Author