Home » আবার বড়মাপের চুরি, বারাসাত এখন চোরদের স্বর্গরাজ্য

আবার বড়মাপের চুরি, বারাসাত এখন চোরদের স্বর্গরাজ্য

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ অগাস্ট :পুজোর মরশুম আসছে আর এই সময় বারাসাত শহর জুড়ে বিগত কয়েক বছর ধরেই চোরেদের যেন বাড়বাড়ন্ত। তবে এবছর চুরির সংখ্যা বাড়ছে, বারাসাত  চোরদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠছে। বলেই অভিযোগ উঠছে। বারাসাত স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় আবার একটি বড়মাপের চুরির ঘটনা চমকে দিয়েছে। বাড়ির শুধুমাত্র স্বর্ণালংকার চেঁছেপুছে সাফ। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার রাতের অন্ধকারে হাওয়া হয়ে গিয়েছে।শুক্রবার বিষয়টি নজরে আসে। বাকি চুরিগুলির মত এবারের চুরি নিয়েও নিয়ে জনগণের মত পুলিশও এখনও অন্ধকারে।

বারাসাত শহর জুড়ে চুরির ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে বারাসাত শহরের দু একটি জায়গা চোরেদের যেন মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে। এই এলাকাগুলির মধ্যে অন্যতম বারাসাত শহরের দশ নম্বর ওয়ার্ড ও নপাড়া । এই এলাকার পাইওনিয়ার পার্ক থেকে বারাসাত স্টেশনের ৫ নম্বর প্লাটফর্মের গা ধরে নপাড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কিছুদিন ধরেই চুরিচামারি লেগেই আছে। এখানেরই বাসিন্দা প্রবীণ ব্যবসায়ী প্রণব চক্রবর্তী । তাঁর বাড়ি গভীর রাত পর্যন্ত গমগম করে। পাশেই স্টেশন লেগে থাকে মানুষের নিত্য যাতায়াত। রাতে ঘন্টা দুয়েক সময় বাদ দিলে ট্রেন আসে যায়। যাত্রীদের বলার পর পাওয়া যায় প্রণববাবুর বাড়ি থেকেই অথচ এরকম জনবহুল জায়গায় থানার এক কিলোমিটারের মধ্যে হল দুঃসাহসিক চুরি।

বাড়ির দু একজন সদস্য ছিল না রাতে, তবে প্রণব বাবু সহ একাধিক মানুষ বহুতল বাড়িতে ছিলেন। ছিল দামী রত্ন অলংকারাদি। বাড়ির মানুষজন যখন গভীর ঘুমে সেসময় কাজ হাঁসিল করে চুপিসারে সরে পড়ে তস্কর।  ঘুম থেকে উঠে সকালে উঠে গৃহকর্তা দেখতে পান গ্যাস কাটার দিয়ে ঘরে এসে সুকৌশলে চোর হাতিয়ে নিয়েছে বহুমূল্য স্বর্ণালংকার।দেরাজ বিলকুল ফাঁকা করে হাওয়া হয়ে গিয়েছে চোর। আনুমানিক মাঝ রাত থেকে ভোররাতের মধ্য হওয়া চুরির ঘটনায় প্রণববাবু রীতিমত তাজ্জব, পাশাপাশি অপহৃত গয়নার শোকে কার্যত ভেঙে পড়েছেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর চিন্তা বাড়িয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে বারাসাত শহরের  চুরির ঘটনাগুলি যার মীমাংসা পুলিশ করতে পারেনি।

গৃহকর্তার মুহ্যমান হওয়ার পেছনে কি কারণ রয়েছে তা এলাকার পুরপিতার সঙ্গে কথা বললেই মালুম হয়। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিজেও রীতিমত চিন্তিত। তিনি যা বললেন ও যা বোঝাতে চাইলেন তার মর্মার্থ হল পুলিশকে বারবার বলাসত্ত্বেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।তিনি এও বললেন, রাজবিহারী স্কুল রোডের ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

চোরদের স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠা বারাসাতে পুলিশ আশ্বস্ত করতে পারছে না মানুষকে, স্বয়ং জনপ্রতিনিধি নিজেই বিচলিত। পুলিশ যে চুরির ঘটনাগুলি সুরাহা করতে পারছে না তার প্রমাণ নিত্যনৈমিত্তিক চুরির ঘটনা বেড়ে চলার মধ্যে দিয়েই পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন রবিবারের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে , সিবিআইয়ের ওপরে চাপ বাড়িয়ে আবার ফাঁসির সওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর

About Post Author