সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ অগস্টঃ আরজি কর কাণ্ড নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। উত্তাপের পারদ ক্রমশ চড়ছে। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজের ডাকা নবান্ন অভিযান ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজপথ। আন্দোলনকারী ও পুলিশের সংঘর্ষের আবহে বিজেপির ১২ ঘন্টার ধর্মঘটের ডাক। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। তা হলে কি আন্দোলন হাইজ্যাক হল? পূর্ব পরিকল্পনার তত্ত্ব আওড়াচ্ছে বিভিন্ন মহল।

আরজি কর কাণ্ডের জেরে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল রাজ্যের সর্বত্র। বিভিন্ন রূপে বিভিন্ন ভাবে ধরা পড়েছিল প্রতিবাদের চিত্র। স্কুল কলেজের ছাত্র থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল রাস্তায় দাবি ছিল একটাই বিচার চাই অর্থাৎ উই ওয়ান্ট জাস্টিস। এই উই ওয়ান্ট জাস্টিস স্লোগানকে সামনে রেখেই চিকিৎসক মহল আইনজীবী মহল বুদ্ধিজীবী মহল, ছাত্র ও ছাত্রী ,চিত্রশিল্পী,গায়ক, নায়ক সবাই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তখন আন্দোলন ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। সামাজিক প্রচার মাধ্যমে এমনও স্লোগান উঠতে শুরু করেছিল “পুলিশ তুমি চিন্তা কর, তোমার মেয়েও হচ্ছে বড়”। অর্থাৎ প্রকারান্তে পুলিশকে সরকারের পক্ষ না নিয়ে প্রতিবাদীদের পক্ষ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল।
সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত এই প্রতিবাদের অনেকাংশই সরকার বিরোধী প্রতিবাদের রূপ হিসেবে ধরা পড়ছিল। আবার বহু প্রতিবাদীর শুধুমাত্র দাবি ছিল বিচার চাই, সরকার তাদের টার্গেট ছিল না। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে রাস্তায় নেমে দাবি তুলেছিলেন অভিযুক্তের ফাঁসি চাই। অনেকে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল যে মুখ্যমন্ত্রী কি স্ববিরোধীতায় নেমেছেন ? কারণ তিনিই তো রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিবাদ আন্দোলন থেকে দাবি উঠেছিল সিবিআই তদন্তের। সাধারণ মানুষের দাবির মান্যতা পায় যখন আদালত সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। তারপরেও ক্রমাগত চলেছে শাসক-বিরোধী তরজা। শাসক দলের পক্ষ থেকে সামাজিক প্রচার মাধ্যমকে হাতিয়ার করে প্রচার করার চেষ্টা করা হয়েছে যে, সিবিআই এই ঘটনার তদন্ত করতে পারছে না। অর্থাৎ সিবিআইয়েরর উপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশলে হেঁটেছে রাজ্যের শাসক শিবির। আর প্রথম থেকেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি ক্রমাগত সরকার এবং প্রশাসনকে আক্রমণ করে গিয়েছে। আর তখন থেকেই কার্যত স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদী আন্দোলন তার অভিমুখ বদলে রাজনীতির পথে এগিয়ে যায়।
বর্তমানে রাজনীতির অন্যতম হাতিয়ার সামাজিক প্রচার মাধ্যম। আর সেই সামাজিক প্রচার মাধ্যম ক্রমশ ইঙ্গিত পেতে শুরু করে আন্দোলন হাইজ্যাকের সংকেত। চারজন যুবকের ডাকা পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজের নামে নবান্ন অভিযান অনেকটাই সেই ইঙ্গিত বহন করে। চারজন ছাত্রের ভিতর এক ছাত্রের আরএসএসের যোগ নিয়ে শাসক দল তৃণমূল থেকে তোলা হয়েছিল প্রশ্ন। কার্যত তারপরেই পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে জানানো হয় এই আন্দোলন অরাজনৈতিক।
মঙ্গলবার শহর কলকাতায় ছাত্রসমাজের বিক্ষোভ কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ব্যারিকেড ভেঙে ছাত্ররা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ জলকামান, লাঠিচার্জ এবং টিয়ার সেল ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে। আহত হয় প্রায় ২৪ জন ছাত্র, আহত হয়েছেন চন্ডীতলা থানার আইসি সহ একাধিক পুলিশ কর্মী। বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এদিনের আন্দোলনে ছাত্রদের থেকে বেশি দেখা গিয়েছিল বয়স্ক ব্যক্তিদের। সকাল থেকেই যখন মিছিল আসতে শুরু করে, তখন দেখা যায় একাধিক জায়গায় বিজেপির দলীয় পতাকা নিয়ে হেঁটে চলেছে মিছিল। কলেজ স্কোয়ারে অর্জুন সিংহের উপস্থিতি এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সাংগঠনিক সভাপতি গ্রেপ্তারি প্রশ্ন তুলে দিয়ে যায় যে এই আন্দোলন কি শুধু ছাত্রদের? বিভিন্ন মহল থেকে একাধিক প্রশ্ন ঘোরাফেরা করতে থাকে। যেমন চারজন ছাত্রের মধ্যে একজনের আরএসএস যোগাযোগ।
শুভেন্দু অধিকারীর বলেন যে আমাদের বলা হয়েছিল এই আন্দোলনে স্টেট লেভেলের কোনও নেতা থাকবেন না। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন, তা হলে কি নিচু স্তরে কর্মী এবং সমর্থকদের উপস্থিতি তারা অনুমোদন করেছিল? বিজেপি সোশ্যাল মিডিয়া সমর্থকদের লাগাতার প্রচার ছিল, এক দফা, এক দাবি পদত্যাগ চাই। এদিনও মিছিলের সর্বত্রই এই স্লোগানই শোনা যায়। এক দফা এক দাবি মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ চাই। প্রশ্ন আরও উঠেছে। একদিকে যখন আন্দোলন চলছে, তখন বিজেপির সদর দপ্তরে সমস্ত নেতা উপস্থিত হয়ে রয়েছেন এবং মিছিল শেষ না হওয়ার আগেই কার্যত সাংবাদিক সম্মেলন করে সুকান্ত মজুমদার জানিয়ে দিলেন ১২ ঘন্টার ধর্মঘটের কথা।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?