সানী রায়,সময় কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর : কঠোরতম শাস্তি প্রয়োগের কথা উঠছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। ২০০৪ সালের পর থেকে রাজ্যে ফাঁসি হয় নি কারও, অন্যদিকে ইদানীং একের পর নৃশংস ধর্ষণ – খুন কাণ্ড সামনে আসছে। এক বিরাট অংশের সাধারণ মানুষ ও বুদ্ধিজীবী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ধর্ষণ – খুন মামলায় ফাঁসির রায়ের পক্ষে সওয়াল করছেন। আরজিকর হাসপাতালের চিকিৎসক নির্মম ধর্ষণ ও খুনের প্রেক্ষাপটে ধর্ষণ-খুনের সাজা ফাঁসি দাবি আরও জোরালো হয়েছে।আরজিকর ধর্ষণ -খুন কাণ্ডের ঠিক ২৯ দিনের মাথায় আরেকটি ধর্ষণ – খুনের রায় শোনালো আদালত যেখানে সর্বোচ্চ সাজার কথা ঘোষণা করা হল। নাবালিকা ছাত্রীকে মাটিগাড়ায় ধর্ষণ-খুনের সাজা ফাঁসি,নির্দেশ দিল শিলিগুড়ি আদালত। ১৩ মাসের মধ্যে সাজা ঘোষণা করল আদালত।

শিলিগুড়ি আদালতের রায়
কি হল শিলিগুড়ি আদালতে? মহম্মদ আব্বাস আগেই তথ্য প্রমাণাদির ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল নাবালিকার ওপরে যৌন অপরাধে এবং তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করার অপরাধে । ভারতীয় আইনের তিনটি ধারায় আব্বাসের দোষ যার মধ্যে খুন, ধর্ষণ এবং নাবালিকার ওপরে চূড়ান্ত যৌন অপরাধ (পকসো) রয়েছে তা প্রমাণিত হয়। শনিবার,মাটিগাড়ায় স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত আব্বাসকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিল শিলিগুড়ি আদালত। এদিন অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছেন শিলিগুড়ি আদালতের অ্যাডিশনাল সেশনস জাজ কোর্টের (পকসো) বিচারক অনিতা মেহেত্রা মাথুর। এদিন শিলিগুড়ি আদালত চত্বরে ভিড় জমিয়েছিলেন প্রচুর সাধারণ মানুষ। মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা হওয়ার পরই আদালত চত্বরে উল্লাসে মেতে ওঠেন তাঁরা। কান্নায় ভেঙে পড়েন নাবালিকার মা। সাজা ঘোষণার পর তিনি বলেন, “আমার মেয়ে বিচার পেল।” ধর্ষণ-খুনের সাজা ফাঁসি জানতে পেরে আদালতে, আদালত চত্বরে এবং আদালতের বাইরে মানুষের মধ্যে জয়োল্লাসের ছবি লক্ষ্য করা যায়।

বিরলের মধ্যে বিরলতম অপরাধ
১৩ মাস আগে কি হয়েছিল
১৩ মাস, আরও নিখুঁত ভাবে বললে ১ বছর ১৭ দিন আগের একটি অন্ধকার দিন । গত বছর ২১ অগাস্ট মাটিগাড়ায় জঙ্গলের ভেতর একটি পরিত্যক্ত ঘরে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছিল মহম্মদ আব্বাস নামে এক ব্যক্তি। ধর্ষণের সময় নির্মম শারীরিক অত্যাচারের জেরে মৃত্যু হয় ওই নাবালিকার। এরপর পরিচয় গোপন করতে ইট দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয় নির্যাতিতার মুখ। ঘটনাটি ভয়াবহতা ও পৈশাচিকতায় যেন সবকিছুতেই ছাপিয়ে গিয়েছিল। আব্বাস ধরা পড়ার পরে বিচারের শুনানির সময় বারবার অনুতাপহীন থেকেছে। হাসিমুখে আদালতে এসেছে ও সংবাদ মাধ্যমের সামনে বার বার নিজেকে নির্দোষ বলে জানিয়েছে অথচ তার মধ্যে শনিবারের আগে পর্যন্ত কোনদিন কোনও রকম স্নায়বিক দৌর্বল্য চোখে পড়ে নি। অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল আব্বাস।।
# ধর্ষণ-খুনের সাজা ফাঁসি


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
জার্সিতে যৌন অপরাধে প্রাক্তন শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?