Home » উচ্চ প্রাথমিকে ১৪ হাজার নিয়োগ মামলায় হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের সুপ্রিম কোর্টে

উচ্চ প্রাথমিকে ১৪ হাজার নিয়োগ মামলায় হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের সুপ্রিম কোর্টে

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ সেপ্টেম্বরঃ উচ্চ প্রাথমিকে শূন্যপদে নিয়োগ নিয়ে ফের তৈরি হল জট। এবার উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের সুপ্রিম কোর্টে। গত মাসেই ১৪ হাজারের বেশি শূন্যপদে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ওই নির্দেশ সংরক্ষণ নীতির বিরোধী, এই দাবি তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজীব ব্রহ্ম-সহ কয়েক জন চাকরিপ্রার্থী। চলতি সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৮ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, কমিশন যে সব প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করেছিল তাঁদের নতুন করে মেধা তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশন ফাইনাল লিস্ট প্রকাশ করলেই কাউন্সেলিং শুরু হবে বলেই জানানো হয়েছিল। সেইসঙ্গে ওইদিন হাইকোর্ট চূড়ান্ত মেধা তালিকায় ১৪০৫ জনকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশও দিয়েছিল। এরই মধ্যে আবার মামলা দায়ের হল।

আরও পড়ুন   ‘ময়নাতদন্তের বদলে দেহ চলে যেত সোজা ওয়ার্কশপে’ , বিস্ফোরক অভিযোগ সন্দীপের বিরুদ্ধে

প্রসঙ্গত, উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছিল ডিভিশন বেঞ্চ। গত ১৮ জুলাই এই মামলার শুনানি শেষ হয়। ১৪ হাজার ৩৩৯টি শূন্যপদের জন্য গত বছরের ২৩ অগস্ট ১৩ হাজার ৩৩৪ জনের মেধাতালিকা প্রকাশ করে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। উল্লেখ্য, আপার প্রাইমারির টেট পরীক্ষা হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট। এরপর ২০১৬ সালে উচ্চ প্রাথমিকের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। মোট শূন্যপদের সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৩৩৯টি। ২০১৯ সালে ভেরিফিকেশন হয় এবং সে সময় ১৩ হাজার ৩৩৩ জনের মেধাতলিকা তৈরি হয়। তাদের মধ্যে ৮ হাজার ৯০০ জন চাকরিপ্রার্থীকে কাউনসেলিংয়ের পর প্যানেলভুক্ত করা হয়।

২০১৯ সালের ২৭ জুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলে পার্সোনালিটি টেস্ট হবে। কিন্তু সেখানে সঠিকভাবে নথি যাচাই করা হচ্ছে না, এই অভিযোগ তুলে মামলা হয়। এরমধ্যেই স্কুল সার্ভিস কমিশন ইন্টারভিউ লিস্ট প্রকাশ করে। সেই তালিকায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে মামলা করা হয়। বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চে ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ মামলা হয়। ২০২০ সালে বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য পুরো তালিকা বাতিলের নির্দেশ দেন। নতুন করে ভেরিফিকেশন করার পাশাপাশি নির্দেশে বলা হয় নম্বর বিভাজন করে নতুন করে তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পরবর্তীকালে ওই মামলা গড়ায় বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। তবে ভেরিফিকেশন চালু রাখতে বলা হয়। এহেন পরিস্থিতিতে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় স্থগিতাদেশ দেন ইন্টারভিউ লিস্টের উপর। পরে স্থগিতাদেশ তুলে দিয়ে জানান, একটি ‘গ্রিভান্স মেকানিসম’ করা হচ্ছে। রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ফের মামলা হয়। মামলা যায় বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চে। ২০২১ সালের ২০ জুলাই বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে ইন্টারভিউ হয়। ২০২৩ সালের ১৬ অগস্ট ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে ১৩ হাজার ৩৩৩ জন প্রার্থীর মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ৭ মাস পর সেই মামলার জট কাটল আজ।

#HCOnUpperPrimary #SSCUpperPrimaryRecruitment  #CalcuttaHighCourt  #Recruitmentcorruptioncase #Latestbengalinews #UpperPrimaryVacancies

About Post Author