Home » ‘ময়নাতদন্তের বদলে দেহ চলে যেত সোজা ওয়ার্কশপে’ , বিস্ফোরক অভিযোগ সন্দীপের বিরুদ্ধে

‘ময়নাতদন্তের বদলে দেহ চলে যেত সোজা ওয়ার্কশপে’ , বিস্ফোরক অভিযোগ সন্দীপের বিরুদ্ধে

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ সেপ্টেম্বর: চিকিৎসকদের ওয়ার্কশপের জন‌্য বেআইনি ভাবে মৃতদেহ পাঠানো হত আরজি করের মর্গ থেকে। আর জি করে মৃত দেহ দুর্নীতি মামলায় হাসপাতালের প্রাক্তন অধ‌্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের হাত রয়েছে অভিযোগ সিবিআই আধিকারিকদের। এই হাসপাতালের মর্গ থেকে মৃতদেহ ও দেহের বিভিন্ন অংশ বাইরে পাচার করা হত, এমন বিস্ফোরক অভিযোগ আগেই উঠেছিল। এবার সিবিআইয়ের অভিযোগ,  মৃতদেহ পাচার কাণ্ড থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পেত প্রাক্তন অধ্যক্ষ। ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত দফতরের কর্তারা।

আরও পড়ুন   আরজিকর কাণ্ডে এবার টালা থানার প্রাক্তন ওসি-র স্ত্রীকে তলব CBI-র

আরজি কর হাসপাতালের মর্গ থেকে মৃত দেহগুলি বাড়ির লোকের অনুমতি ছাড়াই কোনও ওয়ার্কশপ বা গবেষণার কাজে পাঠানো হত। সিবিআইয়ের সূত্র থেকে আসা খবর অনুযায়ী, সন্দীপ ঘোষের নির্দেশে তাঁর ঘনিষ্ঠ ফরেনসিক বিভাগের প্রধান দেহগুলি অন‌্যান‌্য বিভাগে পাঠাতেন। সাধারণত নিয়মানুযায়ী দেহ মর্গে আসার একদিনের মধ্যে তার ময়নাতদন্ত হয়, তবে আরজি করে তা হত না। ময়নাতদন্তের আগেই দেহ চলে যেত ওয়ার্কশপে। অনেক সময় এক সপ্তাহ পর তা মর্গে ফিরে এলে ময়নাতদন্ত হত। মৃতদের পরিবার দেহ চাইলে তাঁদের বিভিন্ন উপায়ে চুপ করিয়া রাখতেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ। এর ফলে সন্দীপ মানবাধিকার লঙ্ঘন করত বলেও অভিযোগ সিবিআইয়ের।

বিশেষ সূত্র থেকে সিবিআই জেনেছে, আর জি কর হাসপাতালের তৎকালীন ইএনটি বিভাগের প্রধান ২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর সন্দীপ ঘোষকে চিঠি লিখে জানান যে, ইএনটি বিভাগের পক্ষ থেকে একটি ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হয়েছে ডাক্তারি ছাত্রছাত্রীদের জন‌্য। সেখানে তাঁদের ওয়ার্কশপের জন‌্য ৬টি মৃতদেহ লাগবে। ইএনটি প্রধান প্রাক্তন অধ্যক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তিনি যেন ফরেনসিক বিভাগকে বলে মৃতদেহগুলির ব্যবস্থা করে দেন। তখন সেই প্রস্তাবে মৃতদেহ পাঠানো সম্ভব না হলেও গত বছর ৫ জানুয়ারিতে মর্গ থেকে পাঁচটি দেহ ইএনটি বিভাগে পাঠায় ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ। সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন সন্দীপ ঘোষই।
এরপর ওয়ার্কশপ শেষ হলে দেহগুলি আবার মর্গে ফেরৎ পাঠানো হয়। মর্গে ওই দেহগুলির ময়নাতদন্ত হলে, তার রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল কলকাতা পুলিশের কাছে। এরকমই একটি রিপোর্টের তথ‌্য এদিন পেয়েছে সিবিআই। সেখানে স্পষ্ট লেখা আছে, ‘একটি মৃতদেহের নাকের উপর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। ওই চিহ্নটি মৃত্যুর পর হয়েছে।’ এর পরই সিবিআই অভিযোগ তুলেছে, কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর দেহটি আর জি করের মর্গে পাঠানো হয়েছিল, তবে সেই মৃতদেহ আত্মীয় পরিজনদের অনুমতি ছাড়াই সন্দীপ ঘোষ ইচ্ছেমত ওয়ার্কশপে ব্যবহার করেছে।

#RGkarHospital  #RGkarFormerPrincipalSandeepGhosh  #RGKARDoctorDeath  #Latestbengalinews #CBI #RGKarHospitalfinancialcorruptioncase

About Post Author