সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ সেপ্টেম্বর: গুঞ্জন বেশ কয়েক মাস ধরেই ছিল। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুরে কংগ্রেসের হার অর্থাৎ অধীর চৌধুরীর হার সেই গুঞ্জন আর গুঞ্জন ছিল না। হলও তাই। অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে সরিয়েই দিলেন কংগ্রেস হাইকমান্ড। তাঁর জায়গায় পদে এসেছেন ‘নরমপন্থী’ শুভঙ্কর সরকার। সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সম্পাদক ছিলেন শুভঙ্কর সরকার। শনিবারই সর্বভারতীয় কংগ্রেসের তরফে এক বিবৃতি পেশ করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক হলেন কে সি বেণুগোপাল। জানা গিয়েছে, তিনি নিজেই ‘কট্টরপন্থী’ অধীরকে ফোন করে এই খবর দিয়েছেন। তবে প্রদেশ কংগ্রেসের পদ থেকে তাঁকে সরালেও অধীরকে ওয়ার্কিং কমিটিতে রেখে দেওয়া হচ্ছে। দলের তরফে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তাতে অধীরের দলের প্রতি অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের শতাব্দীপ্রাচীন দল কংগ্রেস। কংগ্রেসের দলীয় সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরেই প্রদেশ কংগ্রেসগুলিতে সভাপতি পদে রদবদল হবে। মল্লিকার্জুন খাড়গে সভাপতি হওয়ার পরে কংগ্রেসের প্রদেশ কমিটিগুলিতে সভাপতি পদে যে বদল হবে তা জানাই ছিল।
আরও পড়ুন Jadavpur University: এবার পরীক্ষার নম্বর কারচুপির অভিযোগ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে
বাংলার শেষ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে ছিলেন অধীর চৌধুরী। লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণার অব্যবহিত পরেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি অস্থায়ী সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অধীর শুধু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিই ছিলেন না। তিনি গত মেয়াদে লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতা ছিলেন। তবে লোকসভায় বহরমপুরে হারের পর সে পদ চলে যায় অধীরের। এর মধ্যে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে অধীরকেই পুনর্বহাল করা হবে, নাকি অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেদিকে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। দেখা গেল, অধীরকে সরিয়েই দিল দিল্লি। বদলে দায়িত্ব দিল শুভঙ্করকে। প্রদেশ কংগ্রেসে অধীরের মতো লড়াকু নেতা এবং সংগঠক আর কেও ছিল না বললে খুব একটা ভুল হবে না। এবার প্রশ্ন হচ্ছে, কেন হঠাৎ অধীরকে এই পদ থেকে সরানো হল? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, তৃণমূলকে একপ্রকার বার্তা দেওয়ার জন্যই তাঁকে সরানো হয়েছে! অধীর আপাদমস্তক তৃণমূল-বিরোধী রাজনীতিতেই অভ্যস্ত।

সূত্রের খবর, তিনি তাঁর পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সনিয়া গান্ধিকে বলে এসেছিলেন, তাঁকে হারাতে গিয়ে তৃণমূল মুর্শিদাবাদের মাটিতে মেরুকরণের রাজনীতিকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। সংখ্যালঘু হিসেবে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন খ্যাতনামী ইউসুফ পাঠানকে গুজরাট থেকে আনা হয়েছিল। সেই মেরুকরণের কাছেই তিনি পরাস্ত হয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল, সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী শক্তির অন্যতম অক্ষ তৃণমূলকে কি বাংলায় ঘাটাতে চাইবে কংগ্রেস? দেখা গেল, তৃণমূল বিরোধী হিসাবে পরিচিত অধীরকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে রাখলেন না সনিয়ারা। এর পাশাপাশি আরও একটি যে কারণ উঠে আসছে তা হল আরজি কর প্রসঙ্গ। বর্তমানে আরজি কর কাণ্ডের জেরে পশ্চিমবঙ্গে যে একটা সরকার বিরোধী পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার জন্য অধীর ক্রমাগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল নিয়ে সমালোচনা করে যাচ্ছেন। কংগ্রেস এই বিষয়টিকে ভাল চোখে দেখছে না। তাই অধীর চৌধুরীকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে তাঁরা সরিয়ে দিয়েছে। অধীরের জায়গায় যিনি এসেছেন, সেই শুভঙ্কর সরকার আদতে ‘নরম নেতা’ এবং সাংগঠনিকভাবে মোটেই সফল বা কার্যকরী নন বলে দলের একাংশের মত।
#WestBengalPradeshCongressCommitteepresident #AdhirChowdhury #SoniaGandhi #ShubankarSarkar #KCBenugopal, #MallikarjunKharge


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি