Home » আরজি কর কাণ্ডে এবার ধর্না কংগ্রেসের, থাকছে বাম সংস্কৃতির ছোঁয়া

আরজি কর কাণ্ডে এবার ধর্না কংগ্রেসের, থাকছে বাম সংস্কৃতির ছোঁয়া

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ আরজি কর-কাণ্ডের দাবদাহে জ্বলছে রাজ্য। এবার সুবিচারের দাবিতে ধর্নায় বসল কংগ্রেস। এবার কলকাতার ধর্মতলায় দু’দিনের ধর্না-অবস্থান শুরু করেছে তাঁরা। বুধবার ও বৃহস্পতিবার বেলা ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। ধর্নার পাশাপাশি চলবে বক্তৃতা সভাও। এই মর্মে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ হাত শিবিরকে অনুমতি দিয়েছেন । এই ধর্নার প্রকৃত উদ্যোক্তা মধ্য কলকাতা জেলা কংগ্রেসে। তাঁদের আয়োজিত দু’দিনের এই কর্মসূচীতে অংশ নেবেন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং আরও এক প্রাক্তন সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্যরা।

আরও পড়ুনঃ RACHANA BANERJEE:  ‘ধোঁয়া ধোঁয়ার’ পর ‘কুইন্টাল কুইন্টাল’! আবারও বেঁফাস মন্তব্য করে ট্রোলড রচনা

কংগ্রেস আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ধর্নার পাশাপাশি বুধবার বিকালে দেখা যাবে প্রতিবাদ মূলক কিছু সাংস্কৃতিক প্রদর্শনও। যা সাধারণত বামেদেরে আন্দোলন মূলক সব কর্মসূচির একটি অবিচ্ছেদ্দ অঙ্গ। জানা গিয়েছে ধর্নায় সাংস্কৃতিক প্রদর্শনে বামেদের সাহায্য নিচ্ছে হাত শিবির। এদিন কংগ্রেসের অন্যতম সম্পাদক তথা মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরীকে এই নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানিয়েছেন, ‘‘আমরা সিপিএমের জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদারকে বলেছিলাম একটি সাংস্কৃতিক দলকে আনানোর বন্দোবস্ত করতে। তিনি সাহায্য হাত বাড়িয়েছেন।’’

আরও পড়ুনঃ আরজিকরে ‘থ্রেট কালচারের’ অভিযোগে সন্দীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ ১২ জন জুনিয়র চিকিৎসককে তলব CBI-র

সভাপতি পদে শুভঙ্কর সরকার দায়িত্ব পেয়েছেন বেশিদিন হয়নি। এর আগে এই দায়িত্বভার সামলেছেন অধীর চৌধুরী। তাঁর আমলেই এই কর্মসূচি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। প্রথমে রাজ্যের পুলিশ ধর্নার না দিলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল শুভঙ্কররা। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্ট অনুমতি দিলেই আজ থেকে রাস্তায় নেমে পড়েছে কংগ্রেস।

উল্লেখ্য, প্রদেশ সভাপতি হিসেবে এটাই শুভঙ্করের অভিষেক কর্মসূচি। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই বলাবলি শুরু হয়ে গিয়েছে, অধীর বিরোধীদের সঙ্গে যতটা কড়া প্রকৃতির আচরণ করেছেন তার তুলনায় অনেকটাই নরম শুভঙ্কর। তার কারণ, ২০১৬ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার বিরোধিতা করেছিলেন রাজ্য সিপিএমের যে গুটি কয়েক নেতা, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন এই কল্লোল। এদিন তাঁর সাহায্যে চলতি কর্মসূচিতে বেশকিছু শিল্পীকে এনেছেন বর্তমান প্রদেশ সভাপতি। যদিও কল্লোলের সেই আসন সমঝোতা নিয়ে বিরোধিতার পর কেটে গেছে অনেক বছর। তারপর তিনি জেলা সম্পাদকও হয়েছেন। পাশাপাশি এখন তিনি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীরও সদস্য। তাই অনেকেই মনে করছেন, রাজ্যে সিপিএম এর সঙ্গে সমন্বয় রেখেই পথ চলার পক্ষপাতী শুভঙ্কর। কংগ্রেসের ধর্নামঞ্চে সাংস্কৃতিক উপস্থায়নায় সাহায্য করে সেই পথে হাঁটতে সম্মতি জানিয়েছেন কল্লোলও।

About Post Author