Home » Flood in South Bengal: এখনও জলমগ্ন বহু গ্রাম, জেলায় জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দক্ষিণবঙ্গে

Flood in South Bengal: এখনও জলমগ্ন বহু গ্রাম, জেলায় জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দক্ষিণবঙ্গে

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ সেপ্টেম্বরঃ দু’সপ্তাহ আগের নিম্নচাপের জেরে ভারী বৃষ্টি এবং ডিভিসির ছাড়া জল দক্ষিণবঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকাকে বানভাসি করেছিল। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতেই নতুন করে নিম্নচাপ এবং ঘূর্ণাবর্তের জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা ভাসার আশঙ্কায় মানুষ।

বানভাসি বাংলা আরও বড় দুর্যোগের মুখে। টানা বৃষ্টিতে নতুন করে জল ঢুকতে শুরু করেছে প্লাবিত এলাকাগুলিতে, জলস্তর বাড়ছে গ্রামে। কয়েকদিন আগেই ভারী বৃষ্টিপাতের পর ডিভিসি জল ছাড়ে হু-হু করে। তার ফলে দক্ষিণবঙ্গে বেশ কিছু জায়গায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাজ্যের একাধিক জেলা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বহু ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই নিম্মচাপের ভ্রূকুটি কাটতে না কাটতেই ফের নিম্নচাপের খাড়া। পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, হাওড়া, বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমানের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বন্যা পরিস্থিতি। পুজোর মুখে যা চরম সমস্যায় ফেলে দিয়েছে হাজার হাজার মানুষকে।  আগামী কয়েকদিন ইতিমধ্যেই উত্তর-দক্ষিণ দুই বঙ্গেই বৃষ্টিপাত জারি থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আরও পড়ুনঃ TMC Councillor: ‘প্রোমোটারকে’ ‘বিগ বিলিয়ন ডে’-র ছাড়! বন্ধ ঘরে তৃণমূল কাউন্সিলরের কীর্তি ফাঁস করলেন বিরোধী দলনেতা

তবে এসবের মাঝেও নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে। তবে ঘাটাল মহকুমার ঘাটাল, দাসপুর, চন্দ্রকোনা, মেদিনীপুর সদর মহকুমার কেশপুর, খড়্গপুর মহকুমার ডেবরা অঞ্চলের বহু গ্রাম এখনও জলমগ্ন। ঘাটাল মহকুমায় এখনও ১১৪টি ত্রাণ শিবির চালাচ্ছে মহকুমা প্রশাসন। বিলি করা হচ্ছে ত্রাণ, শুকনো খাদ্যসামগ্রী, এমনকি রান্না করা খাবারও। বন্যার কারণে জলের তলায় চলে গিয়েছে চাষের জমি। গ্রামীণ হাওড়ার আমতা এবং উদনারায়ণপুরের বন্যা পরিস্থিতিরও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও বহু এলাকা জলমগ্ন রয়েছে। ত্রাণশিবির গুলি খোলা রয়েছে। পুজোর মুখে সব হারিয়ে কার্যত পথে বসেছেন বহু মানুষ। জল দাঁড়িয়ে থাকায় এলাকায় বহু বাড়িঘর রাস্তাঘাট ভেঙেছে। ক্ষতি হয়েছে চাষের জমিরও। পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়ার মতো বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে হুগলিতেও। জেলার খানাকুল, গোঘাট, পুরশুড়া এবং তারকেশ্বরের জলমগ্ন গ্রামগুলি থেকে জল নামছে। তবে জল নেমে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পুজো গড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। যে সব এলাকায় জল নেমে গিয়েছে, সেখানে জলবাহিত রোগের প্রকোপ কমাতে ব্লিচিং, ফিনাইল দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। আশাকর্মী এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা নৌকা, ডিঙি বা বোটে চেপে কেউ অসুস্থ কি না, সে খবর নিচ্ছেন। প্রয়োজনে বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়ে ওষুধও দিয়ে আসছেন। রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মামলা হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টে। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি বিভাস পট্টনায়কের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, হাওড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, আগামী ৩ অক্টোবর তা রাজ্যকে জানাতে হবে।

About Post Author