সানী রায়, সময় কলকাতা, ৩ অক্টোবরঃ ছোট্ট মেয়েকে দুর্গা মন্ডপে বসিয়ে পুজো করা হবে! শুনে চমকে উঠেছিল বাবা-মা। তারপর পরিবারের অনুমতি নিয়েই ধুপগুড়ির দুর্গাপূজার বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সৃজিতা চক্রবর্তী। গত বছরের মত এই বছরেও ধুপগুড়িতে ফের কুমারী রূপেই পূজিত হবে সেই খুদে দুর্গা। ছোট্ট মেয়েটির কথায়, “মা দুর্গা সাজতে ভীষণ ভালো লাগে। আর সবথেকে ভালো লাগে যেদিন আমি মা দুর্গা সেজে থাকি আমাকে প্রত্যেকের অনেক আদর করে। সন্দেশ খেতে দেয়। ছবি তোলে। আমার সব রকম আবদার পূরণ করে।”

আরও পড়ুনঃ আলিপুর আদালত থেকে এক হাজার টাকার বন্ডে জামিন পেলেন রুপা
ধুপগুড়ির একটি ইংরেজি মাধ্যমের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সৃজিতা চক্রবর্তী। বয়স আট ছুঁই ছুঁই। কিন্তু আর পাঁচটি কিশোরীর থেকেও অনেক গুণ বেশি অদম্য ইচ্ছা শক্তি তাঁর। বরাবরই ভীষণ ধীর স্থির মিষ্টি মেয়ে হিসেবেই স্কুল এমনকি বাবা-মায়ের কাছে পরিচিত সে। ‘কথায় আছে, বংশের টান তো টানবেই’। বাবা শিব চক্রবর্তী একজন প্রতিষ্ঠিত পেশাদার সংগীত শিল্পী। ছোটবেলা থেকেই শ্রীজিতা ধুপগুড়ির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মঞ্চে ‘যেমন খুশি সাজো’ প্রতিযোগিতায় দেবী দুর্গা সাজার জন্য ভীষণভাবে বায়না করতো। কিন্তু একরত্তি ওই মেয়ের শরীরে অত ভারী সাজের ধকল সে সইতে পারবে না, সে কারণেই বহুবার বাবা-মা না করে দিয়েছে তার আবদারে। এইতো গত বছর ধুপগুড়ি ‘স্বয়ংসিদ্ধা শারদোৎসব’ কমিটির তরফে প্রথম প্রস্তাব আসে চক্রবর্তী পরিবারের কাছে। মেয়েকে মন্ডপে বসিয়ে পুজো দেওয়া হবে! প্রথম অবস্থায় অনেকটা ভিড়মি খেয়ে গিয়েছিল বাবা-মা। তবে সময় লাগেনি মেয়ের ছোটবেলার ইচ্ছেকে পূরণ করতে। ব্যস তারপরেই শুরু। গত বছরের অভিজ্ঞতা নিয়েই আত্মবিশ্বাসী হয়ে ধুপগুড়িতে আবারো কুমারী রূপে পূজিত হবে সৃজিতা চক্রবর্তী। ছোট্ট মেয়েটির জানিয়েছে মা দুর্গা সাজতে তাঁর ভীষণ ভালো লাগে যখন দুর্গা সাজলে তাঁকে সবাই আদর করে। সন্দেশ খেতে দেয়। ছবি তোলে। তাঁর সব রকম আবদার পূরণ করে। এদিকে বাবার কথায়, “আমার একমাত্র মেয়ে সৃজিতা। ভীষণ শান্তশিষ্ট। কুমারী পূজোয় প্রায় দু’ঘণ্টার বেশি পূজোয় একই ভাবে বসে থাকতে হয়। সে ভীষণ শান্ত তাই তার কাছে কোন সমস্যার নয় এটা।”
আরও পড়ুনঃ ছাত্র মৃত্যুর প্রতিবাদে রাতভর ধর্নায় রুপা, সকাল হতেই বিজেপি নেত্রীকে গ্রেফতার করল পুলিশ
পিতৃ পক্ষের অবসান ঘটিয়ে মাতৃ পক্ষের সূচনা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। তাই এই পুজোর আয়োজক কমিটি একেবারে অন্তিম পর্বের প্রস্তুতিতে। পূজোর সমস্ত রকম বিধি নিয়ম থেকে শুরু করে কুমারী মায়ের সাজগোজ সবকিছুই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। পুজো উদ্যোক্তাদের কথায়, একদিকে শান্ত পাশাপাশি এই ছোট্ট মেয়েটি যে দেবী রূপে আদর্শ চরিত্র তা অনস্বীকার্য। ধুপগুড়ির স্বয়ংসিদ্ধা কমিটি এবার ১৮ বছরে পদার্পণ করল। সৃজিতা চক্রবর্তীকে কুমারী পূজোয় বেছে নেওয়া নিয়ে পুজো কমিটির সম্পাদক টিকায় সরকার জানান, হিন্দু শাস্ত্র বিধি অনুসারে কুমারী দেবী হিসাবে যাকে পূজো করা হয় তাকে বেশ কিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে বেছে নিতে হয়। সমস্ত রকমের দিক নির্বাচন করেই আমরা সৃজিতাকে বেছে নিয়েছিলাম গত বছর। সমস্ত রকম নিয়ম নিষ্ঠাকে পালন করেই এ বছরও তাঁকে আমরা দুর্গা রূপে পুজো করতে চলেছি।
এদিকে গোটা দেশ তথা জেলা বাসী গভীর আগ্রহে দিন গুনছে মায়ের আগমনের। পাশাপাশি ধুপগুড়ির স্বয়ংসিদ্ধা কমিটির এই কুমারী মায়ের পুজোয় নিজের মেয়েকে কুমারী রূপে দেখার অধীর আগ্রহে দিন গুনছেন সৃজিতার পরিবারের লোকজনেরাও। বাড়িতে এখন সাজু সাজু রং। সৃজিতার বাবা শিব শংকর চক্রবর্তী পেশায় একজন ব্যবসায়ী। পাশাপাশি পেশাদার সংগীত শিল্পী। নিজের যাবতীয় কাজ সেরে একদিকে যখন বাবা মেয়ের এই পুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সেই সঙ্গে মা সুদীপ্তাও দেবীও মত্ত মেয়ের কুমারী সাজের প্রস্তুতিতে নিয়ে। শাস্ত্রীয় বিধি পালনের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বাড়ির সবাই নিরামিষ খাওয়া শুরু করে দিয়েছে, অবশ্য এই বিধি নিয়ম গত বছরই তাদেরকে রপ্ত করতে হয়েছিল। তবে মায়ের গলায় ভীষণ আনন্দের সুর, নিজের সন্তানের ইচ্ছা পূরণ তাও আবার দেবী দুর্গার আশীর্বাদে এভাবে হবে ভাবতেও যেন গা শিউরে উঠছে । একদিকে একরত্তি মেয়েটা মহা অষ্টমীর অপেক্ষায় রয়েছে দিন গুনছে। অপেক্ষায় রয়েছে গোটা পরিবারসহ ধুপগুড়িবাসী আট থেকে আশি।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে
ময়নাগুড়িতে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২ তরুণী , আহত ৫