সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ অক্টোবরঃ নাগরিকত্ব আইনে বৈধতা পেল অসম চুক্তি । বৃহস্পতিবার এই ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি, এমএম সুন্দরেশ, বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রকে নিয়ে গঠিত পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। ফলে নাগরিকত্ব আইনের ৬ এ ধারার সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রইল। যদিও এই মতের ক্ষেত্রে ভিন্নমত দিয়েছিলেন বিচারপতি পাদরিওয়ালা। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে স্বীকৃতি পেয়ে গেল অসম চুক্তি।

অসম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। ভারত সরকার ও অসম সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয় সে রাজ্যের অনুপ্রবেশ বিরোধী আন্দোলনকারীদের। সেই চুক্তি অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত যে শরণার্থীরা বাংলাদেশ থেকে অসমে অনুপ্রবেশ করেছে তাঁদের ভারত সরকার নাগরিকত্ব দেবে। তারপর যারা অনুপ্রবেশের করেছে সকলের নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে। অসম চুক্তির এই শর্তকে বৈধতা দিতে সাংবিধানিক পরিবর্তনও করা হয়। নাগরিকত্ব আইনে যুক্ত করা হয় ৬(এ) ধারা। এটি হয়েছিল ‘মানবিকতার’ ভিত্তিতে।
আরও পড়ুনঃ Allahabad High Court: ধর্ষণের অভিযুক্তকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট
২০১২ সালে সংবিধানের ৬ (এ) ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিচারব্যবস্থার দ্বারস্থ হয় অসম সম্মিলিত মহাসংঘ। এই ধারার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সংঘ। অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা শর্তের বিষয়টি তাঁরা তুলে ধরেন। বৃহস্পতিবার ওই সংগঠনের আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই যে তথ্য প্রকাশ করেছে সেখানে দেখা গিয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে নাগরিকত্ব আইনের ৬-এ ধারায় প্রায় ১৪ হাজার ৩৪৬ জন অনুপ্রবেশকারীকে বিতড়িত করা হয়েছে। নতুন নাগরিকত্ব পেয়েছেন ১৭ হাজার ৮৬১ জন। ইতিমধ্যে আরও ৩২ হাজার ৩৮১ জনকে অবৈধ নাগরিক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট শুনানির সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছে যে, ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের পর অসম-সহ উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে অনুপ্রবেশকারীদের একটি হিসাব দাখিল করতে।


More Stories
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
কেরলের নামবদল : প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক