স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৯ অক্টোবর: বাঙালির কাছে আবেগের আর এক নাম কলকাতা ডার্বি। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের প্রথম ডার্বিতে মুখোমুখি হতে চলেছে কলকাতা ময়দানের দুই প্রধান ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। শনিবাসরীয় ডার্বিতে নামার আগে দুটি আলাদা চিত্র দেখা গেল দুই প্রধানের শেষে মুহূর্তের প্রস্তুতিতে। চিত্রগুলি কীরকম?

ইন্ডিয়ান সুপার লিগে বর্তমানে দুটি ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করছে ভারতীয় ফুটবলের দুই প্রথিতযশা ক্লাব। একদিকে রয়েছে মোহনবাগান, যারা এটিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গত বার লিগ শিল্ডও ঘরে তুলেছে। অন্যদিকে এই প্রতিযোগিতায় এখনও কাঙ্খিত লক্ষ্যের অনেকটা দূরে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। এখনও পর্যন্ত একবারও তারা শেষ চারে শেষ করতে পারেনি। যদিও এ বারের পরিস্থিতি আরও জটিল। প্রথম ৪ ম্যাচ পর একটি দল রয়েছে চার নম্বরে। অন্যটি প্রথম জয়ের সন্ধান এখনও পায়নি। সবকটিতে হেরে মাঠ ছেড়েছে। মরশুমের মাঝপথে বাধ্য হয়ে কোচ বদল করতে হয়েছে। কার্লেস কুয়াদ্রাতকে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে অস্কার ব্রুজোকে। যদিও তিনি এখনও দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেননি। ইতিমধ্যে ভিসা পেয়ে গিয়েছেন। শনিবার পা রাখবেন কলকাতায়। তবে ডার্বিতে তাঁকে সাইডলাইনে দেখা যাবে না। সেক্ষেত্রে লড়াইটা হবে স্প্যানিশ হোসে মোলিনার সঙ্গে ভারতীয় বিনু জর্জের। যিনি অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দলের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তবে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে ম্যাচ নিয়ে আগ্রহ কমানোর কাজটা করেছে দুই দলের পারফরম্যান্স।
পাশাপাশি, এই ম্যাচের টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে। ন্যূনতম টিকিটের দাম করা হয়েছে ৩০০ টাকা। এই উৎসবের মরশুমে তাই টিকিট কিনে খেলা দেখার থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দলের অনেক সমর্থক। যা নিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে কটাক্ষ শুনতে হয়েছে মোহনবাগানের। কারণ এই ডার্বির আয়োজক লাল-হলুদ। মাঠ কতটা ভরবে সেটা সময় বলবে। তবে, ডার্বির আগের দিন দুই দলের অনুশীলনে কিন্তু দুরকম ছবি দেখা গিয়েছে। যদিও তাঁরা প্রায় একই অবস্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
ইস্টবেঙ্গল শিবিরে চাপটা একটু বেশি। কারণ আয়োজক দল, তার উপর এখনও ইন্ডিয়ান সুপার লিগে জয় অধরা। এই ম্যাচ জিতলে অনেক সমালোচনা বন্ধ রাখা যাবে বেশ কিছুদিন সেটা বিনো জানেন। চুপিসারে নিজের দলকে তৈরি করছেন তিনি। সম্ভবত পরের ম্যাচ থেকে দায়িত্ব নেবেন অস্কার। তার আগে একটা জয় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। জামশেদপুর ম্যাচে হারলেও, খারাপ খেলেনি ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে তাঁর দল জিততে মরিয়া মাঠে নামার ২৪ ঘণ্টা আগে জানিয়ে দিলেন বিনো। পাশাপাশি শুনিয়ে রাখলেন সব দলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তাঁদের থাকে।
অন্যদিকে, মোহনবাগানের উপরও চাপ রয়েছে। এই চাপ রক্ষণের চাপ। প্রতিম্যচে সমর্থকদের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিচ্ছেন নবাগত দুই বিদেশী ডিফেন্ডার। আনোয়ার শিবির বদল করার পর তাঁর কোনও বিকল্প মোহনবাগান পায়নি। মোলিনার পারফরম্যান্স নিয়েও কর্তা ও সমর্থকদের একাংশ হতাশ। ফলে তিনিও চাইবেন না স্বদেশী কুয়াদ্রাতের পরিণতি হোক। আর এটাই তাঁর প্রথম কলকাতা ডার্বি। তবে কলকাতা ডার্বির উত্তজনা ইতিমধ্যে টের পেয়ে গিয়েছেন। শুক্রবার বেশ ফুরফুরে মেজাজে অনুশীলন করল মোহনবাগান। ক্লাবে পালিত হল অপুইয়ার জন্মদিন। তবে সমর্থকদের জন্য খুশির খবর। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন জেমি ম্যাকলরেন, সাহাল আব্দুল সামাদ, আশিক কুরুনিয়নরা।তাই রক্ষণের দুর্বলতা আক্রমণের শক্তি দিয়ে ঢাকতে চাইছেন মোলিনা। এই পরিস্থিতিতে শেষ হাসি কে হাসবে, সেটা বোঝা যাবে আর কয়েক ঘন্টা পর।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার