পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ২৩ নভেম্বর : হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কোনও সম্ভাবনাই দেখাচ্ছে না মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফল গণনা।রেকর্ড গড়ে জয়ের পথে মহাযুতি। অধিকাংশ সমীক্ষায় যেরকম পূর্বাভাস ছিল তেমনটাই হলেও মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনে সব প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট বা মহাযুতি। সকাল সাড়ে দশটার মধ্যেই গণনার প্রথমদিকে রেকর্ড গড়ে জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছে মহাযুতি। মহারাষ্ট্রের ২৮৮ টি আসনের মধ্যে ২১৫ টিতে এগিয়ে রয়েছে তারা। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মহা বিকাশ আঘাদি এবারের ভোটে হালে পানি পাচ্ছে না। গণনার প্রথম অর্ধে তারা মাত্র ৬১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে (সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত )। বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতির জয়জয়কারের প্রবল সম্ভাবনা। অর্থাৎ মহারাষ্ট্রে কার্যত সরকার গড়ার দিকে এগোচ্ছে মহাযুতি।
এবারের ভোটে মহারাষ্ট্রে উৎসাহের অন্ত ছিল না। এমন সংখ্যায় ভোটার ভোটদান করেছে যা বিগত তিন দশকে দেখা যায় নি। কী হবে মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ? তখত কার হস্তগত হবে? প্রতিদ্বন্দ্বী জোট মহাযুতি (বিজেপি-শিবসেনা-এনসিপি) এবং মহা বিকাশ আঘাদি (কংগ্রেস -শিবসেনা -এনসিপি )মসনদের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হলেও প্রাথমিক ফল বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতির প্রবল ভাবে জয়ের ট্রেন্ড বা সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। মহারাষ্ট্র বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা ২৮৮। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে ১৪৫টি আসনে জয় পেতে হবে। আর ভোট গণনার প্রথমদিকে কার্যত বাজিমাত করেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট।
এনিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই যে,এবারের মহারাষ্ট্রের নির্বাচন অনেক কিছুর সূচক হয়ে উঠবে। পরীক্ষা বহুমুখী। বিভিন্ন দলের মধ্যে বিদ্রোহ এবং বিভাজনে ভেঙে যাওয়া শিবসেনা এবং এনসিপির জন্যও পরীক্ষা এই নির্বাচন। মহা বিকাশ আঘাদি জিতলে, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে নিজেদের ভেতরে বিভিন্ন সমীকরণকেন্দ্রিক বাধা জোটবদ্ধ দলগুলিকে অতিক্রম করতে হবে। এনডিএ বা মহাযুতি জোট জিতলেও যে সবকিছু নির্বিঘ্নে হবে তাও নয়।সবমিলিয়ে নির্বাচনে জেতার পরও যে সব লড়াই থেমে যাবে না। তবুও প্রাথমিক লক্ষ্য জোটবদ্ধ জয়। জোটের জয় প্রথম লক্ষ্য আর সেদিকে পাখির চোখ করে এগোনো বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতি গণনার প্রাথমিক ট্রেন্ডে অনেকটাই স্বস্তিতে।
মহাযুতি তথা বিজেপির স্বস্তির কারণ -এখনও পর্যন্ত মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে মহাযুতি নজিরবিহীন রেকর্ড জয়ের পথে এগোচ্ছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে মহারাষ্ট্রে কোনো জোট কখনই ২০০ আসনের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বে একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এবং অজিত পাওয়ারের এনসিপি এবারের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির নেতৃত্বাধীন উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ও শারদ পাওয়ারের এনসিপি দলগুলিকে কার্যত পর্যুদস্ত করে সকাল ১০ টা ৩০ নাগাদ রাজ্যের ২৮৮টি আসনের মধ্যে ২১৫টিতে এগিয়ে ছিল, এবং মহা বিকাশ আঘাদি তথা কংগ্রেস ও উদ্ধব ঠাকরে -শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বে কংগ্রেস -সেনা – এনসিপি মাত্র ৬১ টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। জোটনিরপেক্ষ দলগুলি ১২ টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।।


More Stories
আসন বাড়িয়ে সংবিধান সংশোধনী তথা মহিলা সংরক্ষণ বিল আনতে ব্যর্থ কেন্দ্র
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?