সময় কলকাতা,নিজস্ব প্রতিনিধি, বাংলাদেশ:- বাংলাদেশে আগস্ট বিপ্লবের পর দ্রুত পরিবর্তনশীল বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি’র সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের দূরত্ব বাড়ছে। ফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে মহম্মদ ইউনুস যতদূর সম্ভব নির্বাচন পিছোতে চাইছেন। এখনই কোন নবনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা হস্তান্তর করবার কোন ইচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার নেই। অথচ বিএনপি চাইছে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন হোক।
- বিএনপি নেতৃত্বের আশা এখন যদি দেশে নির্বাচন হয় সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক যা অবস্থা তাতে বিএনপি মোটামুটি নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসবে। যে কারণে বিএনপি নেতৃত্ব ইউনুস সরকারের উপর চাপ দিচ্ছে প্রয়াত জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেকের উপর থেকে বাংলাদেশে চালু থাকা বিভিন্ন ফৌজদারী মামলার দ্রুত তুলে নেওয়ার জন্য। যদিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি মামলা এখনো তুলে নেওয়া হয়নি। আদালতের রায় তারেকের অনুকূলে যাওয়ার পরেও। বিএনপি নেতৃত্বের আশঙ্কা পরিকল্পিতভাবেই তারেকের বিরুদ্ধে মামলা গুলি তোলা হচ্ছে না যাতে তারেকের দেশে ফেরা পিছিয়ে দেয়া যায়। কারণ বিএনপি মনে করে তারেক দেশে ফিরলে দেশে বিএনপি’র সমর্থনে জোরালো হওয়া উঠবে।
উল্লেখ্য এতদিন গৃহবন্দী অবস্থাতেও প্রয়াত জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। দেশের প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস বর্তমানে জামাত নেতৃত্ব এবং বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে চলেছেন। জামাতের উপস্থিতি ক্রমশ জোড়ালো হলেও গোটা দেশ জুড়ে বিএনপি’র সংগঠনের এবং রাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে পাল্লা দেয়ার মত ক্ষমতা এখনো জামাতের নেই।
দ্বিতীয়তঃ জামাত-শিবিরের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কোন মুখ নেই। কিন্তু বিএনপিতে একাধিক নেতা রয়েছেন যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় সংগঠক ছিলেন। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের আবেদন এখনো পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি জামাত যত চেষ্টাই করুক না কেন।
স্বাভাবিকভাবে ইউনুস আশঙ্কা এখনো যদি নির্বাচন হয় তাহলে বিএনপি ক্ষমতায় চলে আসবে। এই পরিস্থিতিতে ইউনুস বলেছেন যে নির্বাচন ২০২৫ এর শেষে অথবা ২০২৬ এর প্রথমার্ধে হতে পারে।। কিন্তু তার সঙ্গে ইউনুস নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংস্কারের শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। বিএনপি নেতৃত্ব মনে করছেন, এই সংস্কারের শর্ত জুড়ে দেয়া এবং নির্বাচনকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যমতে পৌঁছানোর শর্ত কার্যত নির্বাচনকে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা। ইউনিসের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের মূল কারণ এটা। বিএনপি নেতৃত্ব যেমন আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করবার চেষ্টার ও প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছেন।
দ্বিতীয়তঃ যেটা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে ভারত বর্ষ সম্পর্কে অবস্থানের প্রশ্নে ইউনুস এবং জামাত-শিবিরের সঙ্গে বিএনপি একমত নয়। কারণ বিএনপি নেতৃত্ব পরিস্কার বলে দিয়েছেন তারা ভারতবর্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান। যদিও ইউনুস এবং জামাত-শিবিরের অবস্থানের অন্যতম মূল নির্ণায়ক ছিল ভারত বিরোধিতা।
এখন ইউনুস লবির পৃষ্ঠপোষক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোদি ঘনিষ্ঠ ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ক্ষমতায় আসবার পর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা কট্টর ভারত বিরোধী অবস্থান কতটা ধরে রাখতে পারবেন সেটা দেখবার আছে। কারণ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জোটবদ্ধ হওয়া ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসন পূর্ববর্তী জমানার মতো মোঃ ইউনুসকে সর্বাত্মক সমর্থন দেবে না।
মার্কিন কূটনীতিকরা ইতিমধ্যে খেয়াল করেছেন ভারতবর্ষ সীমান্ত ইস্যুতে চীনের সঙ্গে গন্ডগোল মিটিয়ে নিতে চাইছে। ইউক্রেন প্রশ্নে পশ্চিম শিবিরের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে কার্যত রাশিয়ার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়া থেকে প্রয়োজনীয় তেল আমদানি করে চলেছে।সব মিলিয়ে সময় যত এগোবে ইউনুসের উপর চাপ বাড়বে। কারণ অগাস্ট বিপ্লবের অন্যান্য যে সমস্ত শরিক ছিল যেমন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি এবং অন্যান্য লেফট র্যাডিক্যাল পার্টি তারাও চাইছে নতুন করে কোন একনায়ক তন্ত্রী শাসক যেন জায়গা না পায়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি যে বিশাল সমাবেশ করেছে ঢাকার বুকে তাতে একটা জিনিস পরিষ্কার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন জামাত এবং বিএনপির বাইরেও অন্যান্য সামাজিক রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে যাদের অস্থির এই পরিস্থিতিতে পুরোপুরি উপেক্ষা করা ইউনুসের পক্ষেও সম্ভব হবে না। কারণ অগাস্ট বিপ্লবের সময় জামাত-শিবির ছাড়াও বিএনপি এবং একাধিক বামপন্থী গোষ্ঠী সরাসরি রাস্তার লড়াইতে শরিক ছিল। শুধুমাত্র ছাত্র নেতৃত্ব এবং জামাতকে সঙ্গে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা কতদিন রাজত্ব চালিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন সে ব্যাপারে স্বাভাবিকভাবেই সংশয় রয়েছে। বলাবাহুল্য এই পরিস্থিতির উপর ভারতবর্ষ সতর্ক নজর রাখছে।


More Stories
শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার জয়প্রকাশ
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
অভিষেকের দুয়ারে ইডি