সময় কলকাতা ডেস্ক:- তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের মুখে সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্তুতি। তবে এবার একেবারে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের সঙ্গে তুলনা করলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। এর আগে সারদা ও নাইটিঙ্গলের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। এবার নেতাজির সঙ্গে তুলনা। টেনে আনলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা প্রখ্যাত কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও। হইচই পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
কোন প্রসঙ্গে একথা বলে বসলেন কুণাল ঘোষ ? সূত্র খুঁজে বের করতে হবে ফিরে দেখতে হবে শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতায় কী হয়েছিল ! শনিবার উত্তর কলকাতায় উত্তর কলকাতায় সোমেন মিত্রের মূর্তি উন্মোচনের অনুষ্ঠানে দেরিতে হাজির হয়েছিলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য। সেই অনুষ্ঠানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি শোনা যায় প্রদীপ ভট্টাচার্যের মুখে।ব্যাস, এই বক্তব্যের পরই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শুরু হয় তর্জা। সেপ্রসঙ্গেই মন্তব্য করতে গিয়ে কুণাল ঘোষ একেবারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের সঙ্গে তুলনা করে বসলেন।
বিভিন্ন সময়ে বহুবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা শোনা গিয়েছে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের মুখে। এর আগে সারদা ও নাইটিঙ্গলের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। তবে এবার আর স্রেফ প্রশংসা নয়। বরং একেবারে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর সঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর তুলনা করে বসলেন তিনি! এমনকী, নেতাজির পর এদেশের প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা প্রখ্যাত কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও মমতার তুলনা করেন কুণাল। তৃণমূল নেতা বলেন, প্রণব মুখোপাধ্যায় দল তৈরি করে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে বাংলার মাটিতে আলাদা দল তৈরি করে যদি কেউ সফল হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের একেবারে পুরনো সৈনিকদের মধ্যে একজন কুণাল ঘোষ। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও রয়েছে তাঁর কাঁধে। তিনি মুখপাত্রও বটে। স্বাভাবিকভাবেই কুণালের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।
বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ ঝাঁঝালো আক্রমণ শানিয়ে বলেন, বলেন, সব সময় উনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিতর্কিত কথা বলেছেন। পাগল ধরার গাড়িতে ওকে ধরে নিয়ে যাওয়া উচিত।মুখে কেউ কিছু না বললেও, তৃণমূলের অন্দরে কান পাতালে শোনা যায় কালীঘাট শিবির এবং ক্যামাক স্ট্রিট শিবির। তার মধ্যে তৃণমূল নেতার এই বক্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কুণাল ঘোষ সহ বিভিন্ন নেতারা তৃণমূলের গোষ্ঠী সমীকরণে নবীন প্রজন্মের নেতা বলেই পরিচিত ছিলেন। সেই জায়গা থেকে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য ও তাঁর কথাই শেষ কথা এই বিষয়টিই বারেবারে ধ্বনিত হচ্ছে কুণালের গলায়। একটুও সুযোগ ছাড়েনি বিরোধীরাও।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?