সময় কলকাতা,সৌভিক সান্যাল:-মেদিনীপুর স্যালাইন কাণ্ডের জল গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন কেন ব্যবহার করা হল? মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু এবং সেইসঙ্গে ৩ প্রসূতি আশঙ্কাজনক হওয়ার ঘটনায়, এই প্রশ্ন তুলে এবার কলকাতা হাই কোর্টে জোড়া জনস্বার্থ মামলা।
জনস্বার্থ মামলা
দুটি মামলার মধ্যে একটি জনস্বার্থ মামলা করতে চেয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি। দ্বিতীয়টির জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী কৌস্তভ বাগচি। দুটি জনস্বার্থ মামলাই দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। চলতি সপ্তাহেই শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। যে রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনটিকে ঘিরে অভিযোগ উঠেছে, সেটির কারখানাও রয়েছে এ রাজ্যেই। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার তিনমাইল হাটে রয়েছে ওষুধ কোম্পানির কারখানা।
ব্ল্যাক লিস্টেড
চোপড়ার এই কারখানার স্যালাইন ব্যবহার করে গত বছর কর্নাটকে ৫ জন রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। এরপরই গত বছরের ৪ থেকে ৬ ডিসেম্বর কর্নাটক ড্রাগ কন্ট্রোল ব্যুরো, কেন্দ্র এবং এ রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলের প্রতিনিধিদের নিয়ে টানা ৩ দিন ধরে চোপড়ার ওই কারখানায় অভিযানও চালায়। অভিযানের পর ওই ওষুধ কোম্পানির স্যালাইন পরীক্ষা করে কর্নাটক ড্রাগ কন্ট্রোল ব্যুরো সেটিকে ব্ল্যাক লিস্টেড করে। দাবি করা হয়, স্যালাইনে যে নমুনাগুলি ব্যবহার করা হয়, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির স্যালাইনে তা অত্যন্ত নিম্নমানের।
সূত্রের দাবি, এরপরই এ রাজ্যেও ওই কোম্পানির স্যালাইন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তারপরও কেন রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে তা ব্যবহার করা হচ্ছে? এই প্রশ্ন তুলে সোমবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কৌস্তভ বাগচী ও বিজল সিংঘল। তাঁদের আরও দাবি, চলতি মাসে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও তা ব্যবহৃত হয়েছে।
গত সপ্তাহেই মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসব করাতে এসে কেশপুরের এক মহিলার মৃত্যু হয়। সন্তান জন্মের পর তাঁকে যে স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল, তার জেরেই মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে পরিবার। আরও তিন প্রসূতির শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় গ্রিন করিডর করে মেদিনীপুর থেকে এসএসকেএমে আনা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য ৫ সদস্যের বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি হয়েছে। এসবের জেরে রিঙ্গার ল্যাকটেট নামে ওই স্যালাইন নিয়ে বিতর্ক চলছে। স্বাস্থ্যদফতরের দাবি, আগেই এই স্যালাইন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও কেন বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে তা ব্যবহার করা হচ্ছে? কেনই বা সকলের চোখের আড়ালে তা উৎপাদন করা হতো? সেসব প্রশ্নের এখন উত্তর অধরা। এনিয়ে রিপোর্ট তলব করে নবান্নও। এসবের মাঝেই এবার আদালতে পৌঁছে গেল রিঙ্গার ল্যাকটেট মামলা।


More Stories
রূপের মধ্যে অরূপের ছোঁয়া : গাজলডোবা এক ব্রাত্য মুগ্ধতা
ডিমথেরাপি অশোকনগরের গ্রেফতার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকারকে
জেলে জায়গা হবে তো? কৃষ্ণ ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের মাফিয়া নন্দন গ্রেফতার