সময় কলকাতা ডেস্ক:- ছেলে ধরা সন্দেহে আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রুখতে অনেক দিন থেকেই প্রচার চালাচ্ছে পুলিশ। কিন্তু কিছুতেই নীতি পুলিশদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এবার হরিপাল লোকালে ছেলে ধরা সন্দেহে এক মহিলাকে হেনস্থার ঘটনা সামনে এল।
সমাজবিদদের ব্যাখ্যা, ‘যত দিন যাচ্ছে মানুষের অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। কোনও কিছু গভীরে গিয়ে ভাবার সময় নেই কারও। শুধু নিজে ভাল থাকার মানসিকতা থেকে বাড়ছে স্বার্থপরতা । ব্যক্তিগত জীবনে, পারিবারিক জীবনে তার চাহিদাগুলো না মিটলে সে ক্ষিপ্ত এবং অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। এটা এক ধরনের সংক্রামক সামাজিক ব্যাধি।
জিআরপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনের কামরায় পূর্ণিমাকে হেনস্থা করার ঘটনায় দুই মহিলা যাত্রীকে জিঞ্জাসাবাদ করা হয়েছে। তারাও নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে। আবেগ ও উত্তেজনার বশে তারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে। উল্লেখ্য, এক মাসের অসুস্থ বোনপো’কে কলকাতায় ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাবেন বলে অফিস টাইমে সিঙ্গুর থেকে কোনও রকমে ভিড়ে ঠাসা ডাউন হরিপাল-হাওড়া লোকালে উঠেছিলেন সিঙ্গুর সাত মন্দির তলার বাসিন্দা পূর্ণিমা দাস। কিন্তু সেই ট্রেনে উঠতে পারেনি শিশুটির বাবা-মা। তাতেই কিছুটা ভ্যাবাচাকা খেয়ে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা। উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি তাঁদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ঠিক সেই সময় তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। তাতে তিনি আরও ঘাবড়ে যান। সেই সময় তাকে দেখে ছেলে ধরা বলে সন্দেহ করে নেন কয়েকজন যাত্রী। এর পরই নীতি পুলিশের দায়িত্ব শুরু করে দেন ওই সব যাত্রীরা। এতে মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন পূর্ণিমা।
সেই সময় যাত্রীদের মধ্যে থেকে কেউ বা কারা তার ভিডিও মোবাইল ফোনে ক্যামেরাবন্দি করে সমাজ মাধ্যম ছেলে ধরা বলে ছড়িয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে সেটা ভাইরাল হয়ে যায়। শেওড়াফুলিতে ট্রেনটি থামতেই হট্টগোল শুনে জিআরপি’র লোকেরা কামরায় উঠে মহিলাকে ও শিশুকে কোনও মতে উদ্ধার করে। এরপর পূর্ণিমা জিআরপির সাহায্যে ফোনের যোগাযোগ করে তার দিদি জামাইবাবুর সঙ্গে। পরবর্তী ট্রেনে শিশুর বাবা-মা এসে শেওড়াফুলি স্টেশনে জিআরপি’র সঙ্গে যোগাযোগ করে। সব ঘটনা জানার পর জিআরপি’র সহযোগিতায় শিশু ও তার পরিবারের লোকেরা কলকাতার দিকে রওনা দেয়।


More Stories
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?