সময় কলকাতা ডেস্ক:- রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের উত্তরসূরি কে, তা নিয়ে তুঙ্গে চর্চা। রবিবার সল্টলেকের কার্যালয়ে বৈঠকেও বসেন রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির সদস্যরা। তার চব্বিশ ঘণ্টা পার হতে না হতেই দিল্লি গেলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আচমকা কেন রাজধানীতে গেলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা? তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর কাটাছেঁড়া। শুভেন্দু অবশ্য নিজেই দাবি করেন, সুকান্ত মজুমদারের দিল্লির বাড়িতে বৈঠকের কারণে তিনি দিল্লি গেলেন।তবে হঠাৎ দিল্লিতে এই বৈঠকের আয়োজন কেন? আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু না বললেও, সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে রণকৌশল ঠিক করতে ও দলীয় সাংসদদের কী কী করণীয়, তা আলোচনা করতে এই বৈঠক।
এত দ্রুত এই বৈঠক আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা কেন?
যেহেতু বর্তমানে অধিবেশন চলছে, তাই দিল্লি ছেড়ে রাজ্যে আসতে পারবেন না সাংসদরা। তাই দিল্লিতে শুভেন্দুকে আমন্ত্রণ জানিয়ে এই বৈঠকের আয়োজন। কিছুদিন পরেই সাংসদরা কলকাতায় ফিরবেন। তাহলে এত দ্রুত এই বৈঠক আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা কেন? বিজেপির একাংশের মতে, খুব শিগগিরি রাজ্য সভাপতি নির্বাচন করতে হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছে, তার আগেই রাজ্য বিজেপির দুই শীর্ষনেতার মধ্যে সমন্বয় বাড়ুক। আগামী ২৯ মার্চ রাতে একদিনের সফরে কলকাতা আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরদিন একাধিক সাংগঠনিক বৈঠক সেরে রাতে ফিরে যাবেন দিল্লি। রবিবার একথা জানান রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
এই ঘোষণার পরই রাজ্য বিজেপির সভাপতি বদল নিয়ে নতুন করে চর্চা জোরালো হয়েছে। কারণ, আগামী বছরের বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়েই যে অমিত শাহর সাংগঠনিক বৈঠক করবেন, তা খুব স্বাভাবিকভাবেই স্পষ্ট। সাধারণ হিসাব বলে, যে রাজ্য সভাপতির নেতৃত্বে বিজেপি বিধানসভা ভোট লড়বে, তাঁকে পাশে বসিয়ে সাংগঠনিক বিষয়গুলি চূড়ান্ত করবেন শাহ। এ বিষয়ে সুকান্ত জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে ২৫টি জেলার সভাপতি নির্বাচন করা হয়ে গিয়েছে। যার অর্থ এখন রাজ্য সভাপতি নির্বাচন করা যেতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দেশিকা আসেনি। নির্দেশ এলেই মনোনয়ন পর্ব শুরু হবে।সুকান্তর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অনেকেরই ব্যাখ্যা, রাজ্য সভাপতি কে হবেন, তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই ঠিক করার কথা বলে সুকান্ত বুঝিয়ে দিয়েছেন যে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব চাইলে এক ব্যক্তি এক পদ সরিয়ে বর্তমান কমিটিকে বহাল রাখতেই পারে।
আগামী বছর রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন থাকায় সভাপতি পদে বসানোর ঝুঁকি না নেওয়াও স্বাভাবিক। যদিও অন্য একটি সূত্রের মতে রাজ্য সভাপতি পদে একজন সাংসদ ও এক প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির নামও আলোচনায় রয়েছে। যদিও, বিজেপির সাংগঠনিক এই পর্যালোচনা, রাজ্য সভাপতি নির্বাচন – এই সবটুকু নিয়েই বারবার কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছে বাংলার শাসক শিবির।
তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার এই যে, শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহাবৈঠকের পরপরই রবিবার বৈঠকে বসে বঙ্গ বিজেপি। সামনে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন। তারআগে দলের রণকৌশল ঠিক করতে দফায় দফায় বৈঠকে বসছে বঙ্গ বিজেপি।


More Stories
বাড়ি রং করাও ধ*র্ষণ! ঋতব্রতকে নিয়ে ধর্ষ*কের নতুন সংজ্ঞা মদনের
পারিবারিক ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে খু*ন করে আত্ম*ঘাতী স্বামী
অহংকার মমতার পতনের কারণ বললেন জগন্নাথ দয়িতাপতি