Home » এবার একেবারে তৃণমূল কার্যালয়ের ভিতরেই ধর্ষণের অভিযোগ! জল গড়ালো আদালতে

এবার একেবারে তৃণমূল কার্যালয়ের ভিতরেই ধর্ষণের অভিযোগ! জল গড়ালো আদালতে

সময় কলকাতা ডেস্ক:- মেদিনীপুরের নারায়ণগড়। রাজ্যে সাধারণ মানুষ এক সময় এই এলাকার নাম জানতেন রাজ্যের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সূর্যকান্ত মিশ্রের গ্রাম বলে। আর আজ সেই গ্রামের নাম উঠে এলো ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে। স্থানীয় সূত্রে খবর, নারায়ণগড়ের মকরামপুর তৃণমূল কার্যালয়ের ভিতরে এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। মামলাকারীর অভিযোগ, থানায় অভিযোগ জানালেও ধর্ষণের ধারা যুক্ত করেনি পুলিশ। অভিযুক্তকেও এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাই পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মামলাকারীর আইনজীবী। নির্যাতিতাকে নিরাপত্তা দিক আদালত, সঙ্গে কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক, এই মর্মেই মামলা দায়ের করার আবেদন জানানো হয় সোমবার। মামলা দায়ের করার অনুমতি দেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নির্যাত মহিলা একসময় সক্রিয়ভাবে বিজেপি করতেন। এটাই তার সবথেকে বড় অপরাধ। ওই মহিলার পাশে দাঁড়িয়েছে তাঁর পুরোনো দল বিজেপি। বিজেপি নেতারা বিক্ষোভ অবস্থান শুরু করেছেন গ্রামে। গত ৯ মার্চের ঘটনা। ওই মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে নারায়ণগড় থানা এলাকার মকরামপুরের দাপুটে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা পাল্টা দাবি করেন, একটি বিষয়ে মীমাংসার জন্য দুই মহিলা ও এক যুবক তাঁর কাছে এসেছিলেন। কথা চলাকালীন হঠাৎই ওই যুবক তাঁর গায়ে হাত তোলেন। এমনকী, আচমকা ভিডিয়োগ্রাফি করতে শুরু করেন। বলতে থাকেন, ‘আপনি ধর্ষণ করলেন কেন?’ ওই তৃণমূল নেতাও থানায় অভিযোগ জানান। তার ভিত্তিতেই একজন গ্রেপ্তারও হন। ১০ মার্চ মেদিনীপুর মেডিক্যাল থেকে কল্যাণী এইমস-এ নিয়ে যাওয়া হয় নির্যাতিতাকে। ১২ মার্চ এইমস থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও অভিযুক্তকে এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

নির্যাতিতার স্বামী জানান, ইমেলে নারায়ণগড় থানা এবং পুলিশ সুপারের কাছে ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ মূল অভিযোগ নিয়ে একেবারেই তৎপর নয়। রবিবার জাতীয় মহিলা কমিশন এসেছিল অর্চনা মজুমদারের নেতৃত্বে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসডিও-র সঙ্গে তিনি নারায়ণগড় থানায় বৈঠকও করেন। বেরিয়ে এসে অর্চনা মজুমদার জানান, দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার। আর আজ সোমবার নির্যাতিতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন।

About Post Author