সময় কলকাতা ডেস্ক:- থাইল্যান্ড সফর সেরে শুক্রবার তিন দিনের জন্য শ্রীলঙ্কা গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সেখানে যাওয়ার পরই তাঁকে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। এরপর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করা হল। তাঁকে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ সম্মান ‘মিত্র বিভূষণ পদক’-এ সম্মানিত করল প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েক।
ভারত ও দ্বীপরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে, উভয় দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উন্নীতকল্পে ব্যতিক্রমী অবদানের জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হল মোদিকে। শ্রীলঙ্কা পৌঁছনোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়েছিল। তারপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে। তিনি বলেন, শ্রিলঙ্কা বিশ্বাস করে নরেন্দ্র মোদি এই সম্মানের যোগ্য, তাই তাঁকে এই সম্মান দিতে পেরে তাঁরা গর্বিত। এই ঘোষণার পর মোদিও জানিয়েছেন, এই সম্মান পাওয়া তাঁর জন্য গর্বের বিষয়।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, শ্রীলঙ্কার তরফে তাঁকে যে সম্মান দেওয়া হয়েছে তা শুধু তাঁর নয়, ১৪০ কোটি ভারতবাসীর। ভারত এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যে যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং গাঢ় বন্ধুত্ব এখনও অটুট রয়েছে, তা এই সম্মান প্রদানই প্রমাণ করে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের বন্ধুত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই প্রবর্তিত হয় ‘মিত্র বিভূষণ পদক’। দুই দেশের সম্পর্কের স্বীকৃতি দেওয়া হয় এই সম্মানের মাধ্যমে।
মোদিকে দেওয়া পদকের নকশায় রয়েছে ভারত-শ্রীলঙ্কা বন্ধনের নানা প্রতীক। যেমন, ধর্মচক্র যা বৌদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতিনিধি, পুন কলস—ধানের আঁটি রাখার একটি আনুষ্ঠানিক পাত্র, যা সমৃদ্ধির প্রতীক। এবং নবরত্ন বা নয়টি মূল্যবান রত্ন। এছাড়া পদ্মের পাপড়ি একটি গোলকের মধ্যে আবদ্ধ নকশাও রয়েছে, যা স্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতীক। পদকটির নকশায় খোদাই করা সূর্য ও চাঁদ চিরকালীন সম্পর্কের প্রতীক। প্রাচীন সভ্যতা থেকে অসীম ভবিষ্যতের দিকে দিকনির্দেশ করে।
বলে রাখা ভালো, এই নিয়ে ২২টি দেশের থেকে সম্মান পেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সব দেশের মধ্যে রয়েছে, মিশর, সৌদি আরব, মরিশাস।
শ্রীলঙ্কা মোদিকে যে মিত্র বিভূষণ সম্মানে ভূষিত করেছে তা এর আগে দেওয়া হয়েছিল মলদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গায়ুম এবং প্রয়াত প্যালেস্টাইন নেতা ইয়াসির আরাফত।
উল্লেখ্য, সাক্ষাতের পর দুই রাষ্ট্রনেতাই ভারত-শ্রীলঙ্কা দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা দেন। পাশাপাশি, ভারত-বিরোধী কোনও কার্যকলাপে শ্রীলঙ্কার মাটিকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আশ্বাস দিয়েছেন দিসানায়েকে। এই প্রথম ভারত-শ্রীলঙ্কা প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। দুই শীর্ষ নেতার আলোচনা শেষে এই চুক্তিগুলি স্বাক্ষরিত হয়।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?