সময় কলকাতা ডেস্ক:- ৬ এপ্রিল রবিবার রাম নবমী। ইতিমধ্যে রাম নবমীকে কেন্দ্র করে গত ২ এপ্রিল থেকে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশের সব কর্মীর ছুটি বাতিল করেছে রাজ্য। এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে আগেই। এবার এডিজি আইন ও শৃঙ্খলা তরফে রাম নবমীকে কেন্দ্র করে ৫ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল, রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলির কোথায় কোন পুলিশ অফিসার দায়িত্বে থাকবে, তার তালিকা প্রকাশ করা হল।
ভবানীভবন থেকে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, হাওড়া শহর ও গ্রামীণ, ব্যারাকপুর, চন্দননগর, শিলিগুড়ি, মালদহ, ইসলামপুর ও কোচবিহারের জন্য বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের তরফে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ৫ থেকে ৭ এপ্রিল, টানা তিনদিন হাওড়া সদরের দায়িত্বে থাকছেন মোট ৬ জন অফিসার। এদের মধ্যে থাকছেন আইজি পদ মর্যাদার একজন অফিসার, তিনজন ডিআইজি এবং একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। একইভাবে ব্যারাকপুর, চন্দননগর, শিলিগুড়ি, মালদহ, ইসলামপুর ও কোচবিহারের নজরদারিতে বিশেষ পদ মর্যাদার অফিসাররা।
অশান্তি রুখতে সতর্ক লালবাজার। আসানসোল, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ জেলা ও জেলার কমিশনারেটগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। ওই দশটি জেলা ও পুলিশ কমিশনারেটে ২৯ জন আইপিএসকে পাঠানো হচ্ছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি রুটেই একমাত্র যাবে রামনবমীর মিছিল। ওই রুটগুলিতে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে লালবাজার। একই সঙ্গে রাজ্যের দশটি জেলা ও পুলিশ কমিশনারেটকে সংবেদনশীল বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
লালবাজার জানিয়েছে, রামনবমীতে কলকাতায় মোট ৫৯টি মিছিল বের হবে। সেগুলির মধ্যে পাঁচটি বড় মিছিল। এই মিছিলগুলি শুরু হবে এন্টালি, পিকনিক গার্ডেন, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, হেস্টিংস, কাশীপুর থেকে। প্রত্যেকটি মিছিলেই থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ, রামনবমীর মিছিলে থাকা পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশকর্মীর শরীরে যেন ‘প্রোটেকটিভ গিয়ার’ থাকে। যদি কেউ ইট বা বোতল নিয়ে হামলা চালায়, সঙ্গে সঙ্গেই যেন পুলিশ এগিয়ে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিছিলগুলির উপর আকাশপথে নজর রাখবে ড্রোন।
মিছিলের আগে ও পরে হাঁটবে পুলিশ। থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশের গাড়িও। আশপাশের রাস্তাগুলিতে থাকবে পুলিশের টহলদার গাড়ি। পুলিশের নির্দেশ, বাইক নিয়ে মিছিল করা যাবে না। একমাত্র নির্দিষ্ট রুটেই মিছিল করা যাবে। যদি অন্য রুটে কেউ মিছিল করেন, তখন পুলিশ তা আটকাবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে অস্ত্র নিয়ে যাতে মিছিল না হয় বা মিছিলে কারও হাতে অস্ত্র না থাকে, সেই ব্যাপারে নজর থাকবে পুলিশের। প্রত্যেকটি মিছিলের রুট, বিশেষ করে বড় মিছিলের রুটে থাকবে অতিরিক্ত সিসিটিভির ক্যামেরা। সিসিটিভির মনিটরে নজর রাখবে পুলিশ। এ ছাড়াও পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের পোশাকের সঙ্গে বডি ক্যামেরাও থাকবে। যদি কোনও সমস্যা হয়, ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতীতে রাম নবমীর দিন রাজ্যের একাধিক এলাকায় অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। মূলত, সেই এলাকাগুলিতেই এবারে বাড়তি পুলিশি নজরদারির ব্যবস্থা করেছে নবান্ন। কেন এত সতর্কতা জারি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ি ? প্রতি বছর রামনবমী উপলক্ষে রাজ্যের একাধিক জায়গায় ধর্মীয় মিছিল বের হয় এবং কখনও কখনও উত্তেজনাও তৈরি হয়। রামনবমী ও ঈদের আগে বিভিন্ন মহল থেকে অশান্তি ও গোলমাল পাকানোর চেষ্টা হচ্ছে জানিয়ে আগেই রাজ্যবাসীকে সতর্ক করেছিলেন পুলিশকর্তারা।


More Stories
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
বালাসাহেব-উদ্ধব ও একনাথই কি যথাক্রমে মমতা – অভিষেক ও ঋতব্রত?
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর