সময় কলকাতা ডেস্ক:- তৃণমূল সংসদীয় দলের অন্দরে গৃহযুদ্ধ, আর সেই যুদ্ধ আজ খুলেআম। সাংবাদিক বৈঠক করলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এক মহিলা সংসদের সঙ্গে অশান্তির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কল্যাণ বিঁধে ফেললেন দলের আরও এক প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়কেও। সরাসরি বলেই ফেললেন, সৌগত রায়ের নারদা কেসের জন্যই তো দলের ভাবমূর্তি অনেক নষ্ট হয়েছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ তো বটেই, দলের সচেতকও বটে। সচেতন ভাবেই তিনি খুব একটা রাখঢাক রেখে কথা বলতে পছন্দ করেন না। সে বিরোধী হোক ছাই দলের কেউ। মঙ্গলবারও তাঁর এই চরিত্রের অন্যথা হয়নি। দলেরই অনুগত তথা দমদমের সাংসদ সৌগত রায় কে ‘চোর’ বলে কটাক্ষ করলেন কল্যাণ। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সৌগতকে শুধু চোর বলেই ক্ষান্ত থাকেননি, বর্ষীয়ান রাজনীতিকের চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
কল্যাণের এই সরাসরি সমালোচনা বা কটাক্ষ নতুন নয়। তবে নিজের দলেরই অনুগত তথা প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়কে এর আগেও একাধিকবার কটাক্ষ করলেও সরাসরি ‘চোর’ বলে নিশানা করা প্রথমই বটে। যদিও সৌগত রায় মনে করছেন, কল্যাণের এই আচরণ আসলে ক্ষমতার অপব্যবহার। স্বাভাবিকভাবেই তা লুপে নেয় বিজেপি। তুঙ্গে তর্জা।
এপ্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলছেন, সৌগত রায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনেই বর্ষীয়ান নেতা। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব গোটা বিষয়টি দেখছেন।
প্রসঙ্গত, সদ্য লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে কোন্দল বেঁধেছে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও নাকি কল্যাণের সঙ্গে বাগযুদ্ধ হয়েছে বিস্তর। সেই নিয়েই মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেশ রগড়ের ঢঙে নাম না করে দলের দুই সাংসদকে বিঁধছিলেন। তখনই উঠে আসে সৌগত রায়ের নাম। কল্যাণ মঙ্গলবার ভরা সাংবাদিক বৈঠকে যা বলেছেন, তাতে তৃণমূলের সংসদীয় দলের ‘গৃহযুদ্ধ’ আরও ঘোরালো হওয়ারই সম্ভাবনা।


More Stories
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
বালাসাহেব-উদ্ধব ও একনাথই কি যথাক্রমে মমতা – অভিষেক ও ঋতব্রত?
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর