সময় কলকাতা ডেস্ক:- উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ দেবীনগর কৈলাসচন্দ্র রাধারানি বিদ্যাপীঠে ইকোনমিক্সের শিক্ষিকা ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গোহ। শুধু পড়ানো নয়, তিনিই ছিলেন ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত নোডাল অফিসার। ডেটা এন্ট্রি, পুরোনো কেস রিনিউ, ‘কন্যাশ্রী ক্লাব’ তৈরি করে ছাত্রীদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভিজিট করা, সচেতনতা বাড়ানোর মতো কর্মসূচি চালানোর গুরুদায়িত্ব ছিল তাঁরই উপরে।
একই সমস্যা রাজারহাট ব্লকের স্যর রমেশ ইনস্টিটিউশন, অম্বিকা সৌদামিনী বালিকা বিদ্যালয়, রাজারহাট শিক্ষা নিকেতন, যাত্রাগাছি প্রণবানন্দ হাইস্কুলেও। বৈদিক ভিলেজ লাগোয়া বাগু সপ্তগ্রাম সর্বেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে এই মুহূর্তে পড়ুয়ার সংখ্যা ১৩৮৫। এদের মধ্যে ৬৪৩ জন মিড ডে মিল প্রাপক। প্রধান শিক্ষক সুব্রত দাস বলেন, ‘প্রতীক মজুমদার নামে এক শিক্ষক লাইফ সায়েন্সের ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে সহযোগিতা করতেন। উনি চলে যাওয়াতে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে।’
শুধুমাত্র ভাঙড়-২ ব্লকের অবস্থা দেখলেই গোটা রাজ্যের একটা খণ্ডচিত্র পাওয়া যাবে।
বিডিও পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এই মুহূর্তে ভাঙড়ের ৩৮টি জুনিয়র ও হাইস্কুলে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি। এখানে ফি বছর দশ হাজার মেয়ে কন্যাশ্রী ভাতা পায় এবং ১৮ হাজার পড়ুয়া প্রতিদিন মিড ডে মিল খায়। এই পরিস্থিতি সামলাতে প্রধান শিক্ষকরা রীতিমতো অসুবিধায় পড়ছেন।’
পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণাংশু মিশ্র জানিয়েছেন, ‘একসঙ্গে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চলে যাওয়ায় এই সামাজিক প্রকল্পগুলোও আগামী দিনে মুখ থুবড়ে পড়বে। কারণ, বাকি শিক্ষকরা বাড়তি ক্লাসের চাপ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি এই সব প্রকল্পের কাজ চালাবেন কী ভাবে। ফলে প্রকল্পগুলির নথি ও তথ্য সংরক্ষণে প্রবল অসুবিধায় পড়তে হবে।’
রাজ্যের বিভিন্নপ্রান্তে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার স্কুলে ‘কন্যাশ্রী’, মিড ডে মিল, ‘ঐক্যশ্রী’ (তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের স্কলারশিপ), বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ, ওবিসি এবং সংখ্যালঘুদের প্রাক ও পোস্ট মাধ্যমিক স্কলারশিপ, পড়ুয়াদের মধ্যে ট্যাবলেট বিলির (ডি–ওয়ার্মিং এবং আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড) মতো একগুচ্ছ কর্মসূচি চলে।
প্রতিটি স্কুলে এই রকম এক একটি প্রতিটি বিষয়ে একজন করে শিক্ষক-শিক্ষিকাকে নোডাল অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনিই ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য সমন্বয় রক্ষার পাশাপাশি স্কুল স্তরে গোটা প্রকল্প দেখভাল করেন। এ ছাড়াও স্কুলের সমবায় ক্লাব, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, ক্রেতাসুরক্ষা ক্লাব এবং ইকো ক্লাবের জন্য সরকারি নির্দেশ মেনে স্কুলের একজন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে নোডাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ফলে আজ, বুধবার পুরোদমে স্কুল চালু হলে এই প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রেও একটা বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে বলে আশঙ্কা প্রধান শিক্ষকদের।


More Stories
বিরল রোগে মরণাপন্ন আফগান পেসার দিল্লির
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক