সময় কলকাতা ডেস্ক:- স্ট্রেস, ডিপ্রেশন থেকে পুলিশকর্মীদের রেহাই দিতে এবার ‘হ্যাপিনেস গ্যারান্টি প্রোগ্রাম’-এর আয়োজন করল কলকাতা পুলিশ। কাজের জন্য লাগাতার শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় ফোর্সের অফিসার ও কর্মীদের। অনেক পুলিশকর্মীর মধ্যে ডিপ্রেশনও দেখা গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এ সব বিষয় মাথায় রেখেই এই প্রোগ্রামের আয়োজন পুলিশের। সেখানেই পুলিশকর্মীদের দেওয়া হয় মন্ত্র। অতিরিক্ত চাপ কমাতে নিয়ম মেনে রোজ করতে হবে যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন।
যোগব্যায়াম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘পুলিশের চাকরিতে সময় বলে কিছু নেই। তাই যখনই সময় পাবেন ডিউটির পরে হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম করা দরকার। প্রাণায়ম, ব্রিদিং এক্সারসাইজ, কপালভাতির মতো ব্যায়াম করতে পারেন তাঁরা। এতে মন পজিটিভ থাকবে।’ ব্রিদিং এক্সারসাইজে স্ট্রেস লেভেল অনেকটা কমে যায়। পুলিশকর্মীদের এটা অবশ্যই করা উচিত বলেই মনে করছেন মনোবিজ্ঞানীরা।
‘হ্যাপিনেস গ্যারান্টি প্রোগাম’-এর বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে।
যেমন চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখা, সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করা, রোজকার জীবনে সুস্থ ও আনন্দের সঙ্গে কাজ করা, এই বিষয়গুলিতে জোর দেওয়া হয়। কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, অপরাধ প্রতিরোধে, নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশকর্মীরা নিজেদের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলেন। বিভিন্ন চাপ, বিষণ্ণতার মুখোমুখি হন। ‘হ্যাপিনেস গ্যারান্টি প্রোগাম’-এ পুলিশের মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যা কর্মীদের মনোবল ও মানসিক আধ্যাত্মিক, একাগ্রতা বৃদ্ধি করবে। ফলে স্ট্রেস উদ্বেগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হবে।’
এই প্রোগ্রামের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন এসিপি হেডকোয়ার্টার্স অলোক স্যানাল। তিনি বলেন, ‘এই সব পরামর্শ পুলিশকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অনেকটাই উন্নতি করবে। আমরা জেনেছি, ডিউটি থেকে ফেরার পরে ঘরের কাজ করা প্রয়োজন। অফিস বা ডিউটি নিয়ে অহেতুক চিন্তা বাড়িতে বয়ে নিয়ে যাওয়া বন্ধ করতে হবে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুলিশ আধিকারিকদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে ডিউটি করা, পরিবারের জন্য কম সময় দেওয়া, চ্যালেঞ্জ নিয়ে কর্তব্য পালন করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়া, এ সব মিলিয়েই চাপ বাড়ছে দিনের পর দিন। বাড়ছে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, পোস্ট-ট্রম্যাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার–সহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যা। বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ, কার্ডিওভাসকুলার সমস্যাও। এ সবের কারণে কর্মদক্ষতা কমে যায়। পারিবারিক ক্ষেত্রেও সমস্যার সৃষ্টি হয়।
কলকাতা পুলিশের পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে এই অনুষ্ঠানে প্রায় আড়াইশো পুলিশকর্মী ও অফিসার উপস্থিত ছিলেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন কম্যান্ডো, র্যাউ, উইনার্স টিমের কর্মীরা। ছিলেন এসিপি, জয়েন্ট কমিশনার পদের অফিসার সহ অন্য পুলিশ আধিকারিকরাও।


More Stories
লিগের খেলা সুসম্পন্ন করে বারাসাত স্টেডিয়াম দিল ডার্বির বার্তা
অসহায়,ভবঘুরে, মানসিক ভারসাম্যহীনদের ভালোবাসতে শেখাচ্ছে বীরপাড়ার পুলিশ
নতুন দুই মামলায় আবার পুলিশ হেফাজতে অভিজিৎ দে ভৌমিক