পহেলগাঁও জঙ্গি হানা পরবর্তী উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পরমাণু অস্ত্র-শক্তিধর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের আবহ তৈরি হওয়ায় উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ। সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এ নিয়ে তুলোধনা করা হয়েছে পাকিস্তানকে। নিরাপত্তা পরিষদের মুখের সামনে বেশকিছু কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় ইসলামাবাদ প্রশাসনকে। যে প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য জবাব দিতে পারেনি শাহবাজ শরিফ সরকার। পাকিস্তানের অনুরোধে বৈঠকে বসেছিল রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু ইসলামাবাদের হাজারো বাক্যবাণ সত্ত্বেও নিস্ফলা হল বৈঠক।
জানা গিয়েছে, সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ১৫টি দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেছিলেন। পহেলগাঁও হামলা থেকে নজর ঘোরাতে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলেন পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিকার আহমেদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের বিশ্ব বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র পহলগামের রিসর্টে জঙ্গিরা ২৬ জন মানুষকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে। সে ব্যাপারে দায় স্বীকার করে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট নামে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা পাকিস্তানি দূতের কাছে জানতে চাওয়া হয় লস্করের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক কী?
পহেলগাঁও ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে ভারত বিরোধী কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, নিরাপত্তা পরিষদকে জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ে ভুল বোঝাতে এদিন ‘ব্যর্থ’ হয় শাহবাজ প্রশাসন। সেই হিসাবে কূটনৈতিক যুদ্ধে প্রথম চালেই পরাজয় মানতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান।
পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন পর্যটকের হত্যার পরে তলানিতে পৌঁছেছে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক। সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত, ভিসা বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ করা, বাণিজ্য বন্ধের মতো একাধিক প্রত্যাঘাত করেছে নয়াদিল্লি। পাল্টা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদও। জানা গিয়েছে, সোমবার বৈঠক চলাকালীন পাক প্রতিনিধি বলেন, সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে দেওয়া আসলে আগ্রাসী নীতিরই প্রতিফলন। এছাড়াও পাকিস্তানের দাবি, ভারত সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে এবং উসকানিমূলক মন্তব্য করছে।
যদিও নয়াদিল্লির পাল্টা জবাব, এসব মন্তব্য করে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান কারণ তারাই ভারতে নাশকতা চালানোর ক্ষেত্রে মদত দিচ্ছে। পরিষদের সদস্যরা পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার ও প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে ইসলামাবাদের দূতকে। শুধু তাই নয়, এই পরিস্থিতির মধ্যেও গত শনিবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আবদালি টু এবং সোমবার মাঝারি পাল্লার ফতেহ্ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোয় প্রশ্নের মুখে পড়ে নিরাপত্তা পরিষদের।
বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য এ ব্যাপারে একান্ত আলোচনার দাবি জানিয়েছিল নিজে থেকেই, যাতে সেখানে ভারতের বিরুদ্ধে পরিষদকে খাড়া করানো যায়। কিন্তু, শেষমেশ পাকিস্তান সেখানেই নিজের পাতা ফাঁদে পড়ে যায়। প্রায় ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে চলা বন্ধ দরজা বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা একযোগে জঙ্গি হানার নিন্দা করে।
পাকিস্তানের কাছে সকলে মিলে জঙ্গি দমনে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের দাবি জানিয়েছে। পরিষদ আরও ক্রুদ্ধ হয়েছে এই কারণে যে এই জঙ্গি হানায় বিদেশি পর্যটক সহ নিরীহ ভ্রমণার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে অবিলম্বে ভারতের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মিটিয়ে ফেলার চাপ দেওয়া হয়েছে শাহবাজ শরিফ সরকারকে।
পরিষদের বৈঠকের পর পাকিস্তানি দূত আসিম ইফতিকার জানান, পহেলগাঁও হানার সঙ্গে তাঁর দেশের জড়িত থাকার যাবতীয় অভিযোগ নাকচ করা হয়েছে। তবে সোমবার ক্লোজড ডোর বৈঠক হলেও তাতে কোনও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
রাষ্ট্রসংঘের তরফে কোনও বিবৃতি মেলেনি, সরকারিভাবে বৈঠক নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। পহেলগাঁও হামলা বা তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ কোনও পদক্ষেপ করেনি। ফলে পাকিস্তানের অনুরোধে বৈঠক হলেও, শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে সুবিধা করতে পারল না ইসলামাবাদ। নিস্ফলা হল বৈঠক।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার