সময় কলকাতা ডেস্ক:- বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার। সন্ধে হতেই ফের উত্তেজনা তৈরি হয় জম্মু-কাশ্মীর সহ একাধিক রাজ্যে। ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে পাকিস্তান। ফের নিয়ন্ত্রণরেখায় সংঘর্য বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসলামাবাদ। ফের সীমান্তের আকাশে পাকিস্তানি ড্রোন দেখা যায়। শুধু তাই নয়, কাশ্মীরের একাধিক স্থান থেকে বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া যায় বলে দাবি। টানা দ্বিতীয় রাতেও ভারতের একাধিক সীমান্তবর্তী রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থান এবং গুজরাটে ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ চালায় পাক সেনা। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণ রেখার প্রায় ২৬ টি স্থানে এই হামলা হয়েছে বলে সেনা সূত্রে খবর। শুক্রবার ড্রোনগুলি নজরে আসতেই জম্মু-কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে ইতিমধ্যে ফের ব্ল্যাকআউট করা হয়। জম্মুতে বাজে সাইরেনও। তাছাড়া উরি, কাপওয়াড়া এবং পুঞ্চে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পাঠানকোট এবং পুঞ্চের কিছু অংশ থেকে বোমার আওয়াজ পাওয়া যায় বলে খবর।
এদিকে, অমৃতসর বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা হয়। ঠিক বৃহস্পতিবারের কায়দায় শুক্রবার সন্ধ্যা আটটার পর থেকে ড্রোন মিসাইল হামলা শুরু করে পাকিস্তান। হয়ে যায় সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট। পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়। তা ব্যর্থ করে ভারত। জয়সলমীরে হতে থাকে পরপর ৪টি ড্রোন হামলা। সব কটি ড্রোন টেনে নামায় ভারত। তারই মধ্যে রাত ৯ টার আশপাশে অমৃতসর বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা হয়। তাও ব্যর্থ করে ভারতীয় এয়ার ডিফেন্স। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাক ড্রোন ধ্বংস করে দেওয়া হয় আকাশেই। হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বায়ুসেনা ঘাঁটিগুলি।
শুধু রাজস্থানের জয়সলমিরেই ৯ টি এবং বারমেরে ১ টি ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে। তবে পাঞ্জাবে পাক ড্রোন হামলায় তিন জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভারত পাক সেনা রুখে দিতে পারলেও, কিছু জায়গায় সাময়িক ক্ষতি করেছে তারা। ভারতীয় জওয়ানদের বাগে আনতে না পেরে দেশের নিষ্পাপ নাগরিকদের উপর হামলা চালাতে এক মুহূর্ত চিন্তা করছে না পাকিস্তান। রাত পেরিয়ে ভোরেও জম্মু, পাঠানকোট, শ্রীনগর, উধমপুর লক্ষ্য করে মিসাইল নিক্ষেপ করতে থাকে পাকিস্তান। প্রায় প্রতি ২ মিনিট অন্তর শোনা যায় বিস্ফোরণের শব্দ।
পাকিস্তানের এই নতুন আগ্রাসনের পাল্টা হিসেবে ভারতও দুটির বেশি পাকিস্তানি বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতে সশস্ত্র ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বায়ুসেনা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। এদিকে, যুদ্ধের আবহে শুক্রবার রাতেই ফের দিল্লিতে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, সিডিএস অনিল চৌহান এবং তিন বাহিনীর প্রধান।
সূত্রের খবর, এখনও জারি থাকা অভিযান অপারেশন সিঁদুর নিয়েই আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং আগেই জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান পদক্ষেপ করলে ভারতও পাল্টা দেবে। এই অভিযান এখনও বন্ধ হয়নি। সুতরাং মনে করা হচ্ছে, আগামী দিনে এই অভিযান কোন দিকে যাবে তা ঠিক করতেই এই বৈঠক। শুক্রবার বিকালেই সাংবাদিক বৈঠক করে বিদেশমন্ত্রক। সেখানে বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি অভিযোগ করেন, বেছে ধর্মীয়স্থানগুলিতে আঘাত করে উসকানি দিচ্ছে পাকিস্তান। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। ভারতের ৩৬ জায়গায় অন্তত ৩০০ থেকে ৪০০ বার ড্রোন হামলার চেষ্টা করে পাকিস্তান। সবকটিই ছিল তুরস্কের তৈরি ড্রোন। কিন্তু এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিটা ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। ভারতের নানা গোপন তথ্য হাতানোর ছক ছিল। তার জন্যই এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে সবকটি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং তা ফরেন্সিকে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
সই বিতর্কে বিজেপিকে তোপ চন্দ্রনাথের