Home » বীরভূমে তুলে দেওয়া হল জেলা সভাপতি পদই! জেলার সার্বিক দায়িত্ব ন’জনের কোর কমিটিকে

বীরভূমে তুলে দেওয়া হল জেলা সভাপতি পদই! জেলার সার্বিক দায়িত্ব ন’জনের কোর কমিটিকে

সময় কলকাতা ডেস্ক:- কোর কমিটিকে উপেক্ষা করে বীরভূম জেলায় একাই দল চালাতে চেয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। কেষ্টর এই কাণ্ডে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় তৃণমূলের অন্দরে। দলীয় কোন্দলে বেসামাল পরিস্থিতি হয় বীরভূমের। একদিকে প্রবীণ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল, অন্যদিকে জেলা তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। এবার কোন নেতাকে জেলা সভাপতির পদে বসানো হবে তা নিয়ে দলের অন্দরে একটা দ্বন্দ্ব লেগেই ছিল। এই পরিস্থিতিতে বীরভূমে তুলে দেওয়া হল জেলা সভাপতি পদই।

জেলার সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হল ন’জনের কোর কমিটিকে। শুক্রবার দলের জেলা সভাপতি এবং চেয়ারপার্সনদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল, তাতেই স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, জেলায় দলের সংগঠন দেখভাল করবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করে দেওয়া কোর কমিটিই। নয় সদস্যের ওই কমিটিতে অবশ্য অনুব্রত রয়েছেন।

তবে জেলায় দলের চেয়ারপার্সন পদটি অক্ষুণ্ণই রয়েছে। ওই পদে রয়েছেন রামপুরহাটের বিধায়ক আশীস বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূম জেলা তৃণমূলের অন্দরের অনেকেই মনে করছেন, মমতার গড়ে দেওয়া কোর কমিটিকে অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়ে নিজের মতো করে জেলা চালাতে চাইছেন অনুব্রত।

গত দেড় মাস জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির কোনও বৈঠক হয়নি। সমান্তরাল ভাবে কেষ্ট তাঁর পারিষদদের নিয়ে ব্লকে ব্লকে কর্মসূচি করে ২০২৬ সালের ভোটের নান্দীমুখ সেরে রাখছেন। অনুব্রতের সেই কর্মসূচি থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখছেন কোর কমিটির অন্যতম সদস্য তথা বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ।

ঘটনাচক্রে, শুক্রবার দেখা গেল, বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদই তুলে দিলেন শীর্ষ নেতৃত্ব। গরুপাচার মামলায় ২০২২ সালে অনুব্রত গ্রেফতার হওয়ার পরেই বীরভূমে কোর কমিটি গড়ে দিয়েছিলেন দলনেত্রী মমতা। কমিটিতে রেখেছিলেন কাজলকে, যাঁর সঙ্গে কেষ্টর আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক সর্বজনবিদিত। কিন্তু অনুব্রতের গ্রেফতারির পরেও জেলায় দলের জেলা সভাপতি পদ ছিল। ওই পদে বহালও ছিলেন অনুব্রত।

পরে যখন তিনি জেল থেকে ছাড়া পান, আলাদা করে তাঁকে ওই পদে বসানোরও কোনও বিষয় ছিল না। জেলা সভাপতি হওয়ার সুবাদে কোর কমিটিতেও তাঁকে যুক্ত করা হয়। তবে দলনেত্রী মমতা বার বার কড়া নির্দেশ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোর কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কেষ্টকে দল চালাতে হবে।

কিন্তু তার পরেও অনুব্রত যে ভাবে কোর কমিটিকে এড়িয়ে কাজ করছিলেন, তাতে জেলার নেতাদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ে। সেই সব খবরাখবর শীর্ষ নেতৃত্বের কানে গিয়েছিল, সেটাই স্বাভাবিক। এ বার জেলা সভাপতি পদটাই তুলে দিয়ে কড়া বার্তা দিল দল। অনেকের দাবি, অনুব্রত জেলে থাকাকালীন লোকসভা ভোটে বীরভূমে ভালই সাফল্য পেয়েছে দল। কোর কমিটিই সংগঠন পরিচালনা করে দলকে জেলার দু’টি আসনেই জিতিয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে যে দুবরাজপুরে বিজেপি জিতেছিল, সেখানেও দল লিড পেয়েছে।

ফলে কেষ্ট ছাড়াও যে জেলায় দলের পক্ষে জেতা সম্ভব, তা দল জানে। যদিও কেষ্ট-ঘনিষ্ঠদের দাবি, কেষ্টর সাজানো সংগঠনের উপরে দাঁড়িয়েই লোকসভায় ভাল ফল করেছিল দল। আগামী বছরেই রাজ্যে‌ বিধানসভা ভোট। আগামীদিনে যদি দলের তরফে কোনও নতুন সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয় তবে জেলায় এই নেতৃত্বের কাঁধেই থাকবে ভোট বৈতরণী পার করানোর কাজ।

About Post Author