Home » স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছে ভারত! আলোচনায় বসতে চায় ইউনুস সরকার

স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছে ভারত! আলোচনায় বসতে চায় ইউনুস সরকার

সময় কলকাতা ডেস্ক:- মহম্মদ ইউনুসের বাংলাদেশকে উচিত শিক্ষা মোদি সরকারের। দিল্লির কোপে পদ্মাপাড়ের বাণিজ্য! ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পোশাক, খাবার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক। এটা স্পষ্ট, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের জেরে বড়সড় ধাক্কা খাবে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি। কারণ, বাংলাদেশের ৯৩ শতাংশ পণ্য স্থলবন্দর দিয়েই প্রবেশ করে ভারতে। এই পরিস্থিতিতে সমস্যা মেটাতে এবার ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনুসের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন রবিবার বলেন, যদি কোনও সমস্যা দেখা দেয়, তবে দু’পক্ষ আলোচনা করতে হবে এবং তা মেটানোর চেষ্টা করতে হবে।

গত শনিবার ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক শনিবার একটি বিবৃতি জারি করে জানায়, এ দেশের কোনও স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের রেডিমেড পোশাক ভারতে ঢুকবে না। কেবল মুম্বই এবং কলকাতা বন্দর দিয়ে জলপথে এই পণ্য ভারতে ঢুকতে পারবে। ফল, ফলের স্বাদযুক্ত কার্বনেটেড পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার, তুলো, সুতো, প্লাস্টিকের পণ্য এবং কাঠের আসবাবপত্র অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা বা মিজ়োরামের কোনও স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ঢুকতে পারবে না। পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়ি দিয়েও এই পণ্য ঢুকতে দেওয়া হবে না।

গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিসিয়েটিভ-এর পরিসংখ্যান বলছে, ভারতীয় মুদ্রায় এই সমস্ত পণ্যের বার্ষিক আমদানির মোট মূল্য সাড়ে ছ’হাজার কোটি টাকার বেশি। যদিও, মাছ, এলপিজি, ভোজ্যতেল, চুনোপাথরের ক্ষেত্রে অবশ্য স্থলপথে বাণিজ্যে কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করেনি ভারত। তা ছাড়া, ভারতের মাধ্যমে নেপাল বা ভুটানে বাংলাদেশের যে পণ্য যায়, তার ক্ষেত্রেও কোনও বিধিনিষেধ থাকছে না বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত সরকারের নির্দেশিকা মেনে এখন থেকে পোশাক, তেল, ফল বা সুতো এ দেশে রফতানি করতে হলে বাংলাদেশের একমাত্র ভরসা জলপথ। তা ব্যবহার করা হবে।

কিন্তু এতে রফতানির পরিমাণ কমতে বাধ্য। ফলে বাংলাদেশ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। কিন্তু হঠাৎ করেই বা কেন এমন বিধিনিষেধ চাপাল নয়াদিল্লি?

গণবিক্ষোভের মুখে পড়ে গত বছর ৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন শেখ হাসিনা। তার পর থেকে দেশ চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার, যার প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। অভিযোগ, ইউনুসের আমলে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বেড়ে গিয়েছে বাংলাদেশে। এ নিয়ে ভারত সরকার একাধিক বার উদ্বেগও প্রকাশ করেছে।

কিছু দিন আগে ইউনুস চিন সফরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি সম্পর্কে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধিও নয়াদিল্লির নজর এড়ায়নি। পাশাপাশি, তৃতীয় কোনও দেশে পণ্য রপ্তানির জন্য ‘ট্রান্সসিপমেন্ট’ সুবিধা বন্ধ করেছিল ভারত সরকার।

কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, এর ফলে ভারতের রপ্তানিকারক সংস্থাগুলি অসুবিধার মুখে পড়ছে। যদিও সেক্ষেত্রে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশকে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে ছাড় দেয় ভারত সরকার। এই সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশের তরফে ঘোষণা করা হয়, ভারত থেকে স্থলপথে সুতো আমদানি বন্ধ করছে তারা। ভারতকে এই পণ্য পাঠাতে হলে তা পাঠাতে হবে সমুদ্রপথে। এর পাল্টা এবার বাংলাদেশকেও উচিত শিক্ষা দিল ভারত। অনেকেই মনে করছে, চিনে বসে ইউনুসের সেভেন সিস্টার নিয়ে করা মন্তব্য এবং সুতো আমদানি বন্ধ করার পরিণাম ভুগছে বাংলাদেশ।

About Post Author