Home » মা-এর কিডনিতেও বাঁচল না ছেলে, মরণোত্তর অঙ্গদান

মা-এর কিডনিতেও বাঁচল না ছেলে, মরণোত্তর অঙ্গদান

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ক্লাস সেভেনে পড়া ছেলেকে মা নিজের কিডনি দিয়ে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। মায়ের কিডনি ছেলের শরীরে প্রতিস্থাপিত হলো ঠিকই, তা সত্ত্বেও উমং গালাডা (১২) ব্রেন ডেথের কবলে পড়লেন। মঙ্গলবার যখন ওই ঘটনা ঘটল, তখন ছেলের মরণোত্তর অঙ্গদানে সম্মতি দিতে দেরি করেননি ওই কিশোরের অভিভাবকরা।

এ দিন উমংয়ের মা জ্যোতি গালাডা বলেন, ‘আমার ছেলে খুব প্রাণবন্ত ছিল। কিন্তু ওর জন্য প্রতিস্থাপনযোগ্য একটি কিডনির সন্ধান আমরা এক বছর ধরে করে গিয়েছি। কিন্তু নিরাশ হয়েছি আমরা। তার পর আমার একটা আমি কিডনি দিই ওকে। তাই, অঙ্গের জন্য অপেক্ষার যন্ত্রণা আমরা বুঝি। তার জন্যই ছেলের ব্রেন ডেথের পর ওর অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নিতে আমরা সময় নষ্ট করিনি।’

চিকিৎসকরা সন্দেহ করেন, ওই কিশোর ক্রমেই ব্রেন–স্টেম ডেথের দিকে এগোচ্ছে। গুচ্ছ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর মঙ্গলবার তাকে ব্রেন ডেড বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। কলকাতায় সম্ভাব্য অঙ্গ গ্রহীতা না–মেলায় এ দিন বিকেলের উড়ানে উমংয়ের মরণোত্তর লিভার মুম্বই উড়ে যায়। গ্রিন করিডর করে কলকাতা পুলিশ অল্প সময়ে অঙ্গটি একবালপুরের ওই বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পৌঁছে দেয় কলকাতা বিমানবন্দরে। তার আগে সিএমআরআই কর্তৃপক্ষ উমংকে মরণোত্তর ‘গার্ড অফ অনার’ দেন। উমংয়ের লিভার মঙ্গলবার রাতেই মুম্বই গ্লেনিগেলস হাসপাতালে এক ৮ বছরের বালিকার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। উমংয়ের কর্নিয়া দু’টি সংরক্ষণ করেছে শঙ্কর নেত্রালয়ের আই ব্যাঙ্ক।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অস্ত্রোপচারের পর থেকে ধীরে ধীরে উমংয়ের অবস্থার উন্নতি চোখে পড়েছিল। তার প্রস্রাবের পরিমাণও ছিল সন্তোষজনক। কিন্তু দিন কয়েক আগে থেকে আচমকাই অবস্থার অবনতি ঘটে। কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। তার পর হার্ট সচল হলেও মস্তিষ্ক ক্রমেই অকেজো হয়ে পড়তে থাকে।

নিউ আলিপুরের উমংয়ের ক্রনিক কিডনি ডিজিজ ধরা পড়ে শৈশবেই। ডায়ালিসিস দিয়েও অবস্থা সামাল দেওয়া যাচ্ছিল না। চিকিৎসকরা তাই কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। কারও কাছে না–পেয়ে, এক বছর পর পরিবার ঠিক করে, উমংয়ের মা জ্যোতি গালাডা তাঁর কিডনি দান করবেন ছেলেকে। সেই মতো গত ২৮ মার্চ সিএমআরআই–তে ভর্তি হয় উমং, তার সঙ্গে জ্যোতিও। মায়ের কিডনি সফল ভাবে প্রতিস্থাপিত হয় ছেলের শরীরে।

About Post Author