Home » এমিশন সেন্টারে দূষণে পাশ গাড়ি রাস্তায় ফেল, জরিমানার কোপে গাড়ির মালিক

এমিশন সেন্টারে দূষণে পাশ গাড়ি রাস্তায় ফেল, জরিমানার কোপে গাড়ির মালিক

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ধোঁয়া পরীক্ষাকেন্দ্রের ছাড়পত্র রয়েছে। তারপরেও পথে র‍্যান্ডম দূষণ পরীক্ষায় আপনার গাড়ি ফেল করল। এল জরিমানার এসএমএস। এই সমস্যা হলে ফের অটো এমিশন সেন্টার থেকে গাড়ির ধোঁয়া পরীক্ষা করিয়ে দূষণমুক্ত হওয়ার ছাড়পত্র আনতে হবে। তবে এই ছাড়পত্র আনতে হবে এসএমএস পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, সরকার অনুমোদিত এমিশন সেন্টার থেকে দূষণের ছাড়পত্র থাকার পরও কেন ওই গাড়িই ফেল করছে র‍্যান্ডম টেস্টে?

অটো এমিশন সেন্টারের দেওয়া পিইউসি সার্টিফিকেট, নাকি পথে আরএসডি অর্থাৎ রিমোর্ট সেন্সিং ডিভাইসে দূষণ পরীক্ষার ব্যবস্থা- কোনটা সঠিক? সরকার স্বীকৃত অটো এমিশন সেন্টারের গলদের কথা মানছেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তিনি জানান, সারা রাজ্যে অন্তত ১৩০০ অটো এমিশন সেন্টার রয়েছে। অথচ ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে গাড়ির মালিক-কে।

এখন যে ধোঁয়া পরীক্ষাকেন্দ্রগুলি রয়েছে, তার প্রযুক্তি বেশ পুরোনো। দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির ইঞ্জিন চালু করে ধোঁয়ার পাইপে সেন্সর বসিয়ে দূষণের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আট বছর বয়স পর্যন্ত গাড়ির এক বছরের জন্য তার থেকে বেশি বয়সের গাড়ির ছ’মাসের মেয়াদে এই সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অটো এমিশন সেন্টার থেকে দূষণমুক্ত সার্টিফিকেট পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে আরএসডি পরীক্ষায় ফেল করেছে একই গাড়ি।

আরএসডি অত্যাধুনিক গাড়ির ধোঁয়া পরীক্ষা ব্যবস্থা। চলন্ত গাড়ির ধোঁয়ার সঙ্গে একযোগে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ও ইনফারেড রশ্মির প্রতিফলন ঘটিয়ে বিশ্লেষণ করা হয় দূষণের মাত্রা। সেকেন্ডে সর্বাধিক ৫০টি রিডিং বিশ্লেষণ গাড়ির দূষণের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। রাজ্য সরকার এই পদ্ধতিতে সার্বাধিক দূষণের মাত্রা যে গাড়িতে মেলে সেটিকে জরিমানা করে। কলকাতায় এই মুহূর্তে একটি আরএসডি রয়েছে।

গ্রিন বেঞ্চের নির্দেশে ২০০৯ থেকে থেকে দূষিত গাড়ি চিহ্নিত করতে কলকাতা জুড়ে অত্যাধুনিক আরএসডি অর্থাৎ রিমোট সেন্সিং ডিভাইস (আরএসডি) নিয়ে অভিযান চলছে। মুম্বইয়ের এজেন্সি, ইএসপিআই এই অভিযানের দায়িত্বে।

পরিবহণ দপ্তর এর জন্য মাসে ৯ লক্ষ টাকা দেয় ওই এজেন্সিকে। সরকারি হিসেবে প্রতিদিন গড়ে শহরের পথে তিন থেকে চার হাজার গাড়ির দূষণ পরীক্ষা করে এই সংস্থা। প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১২০টি গাড়িকে চিহ্নিত করা হয় দূষণ ছড়ানোর জন্য। পরিবহণ দপ্তরের কর্তারা জানান, র‍্যান্ডম টেস্ট করে তাঁদের লক্ষ্য শুধু জরিমানা করা নয়। বরং গাড়ির মালিকদের বায়ুদূষণ নিয়ে সচেতন করা। পাশাপাশি দূষণ রুখতে যাতে সময় মতো মোবিল, গিয়ার অয়েল এবং ফিল্টার বদল করা প্রয়োজন, সেটাও জানানো হচ্ছে গাড়ির মালিকদের।

জরিমানার পরিমাণ প্রথমবারের জন্য ২০০০ টাকা। দ্বিতীয় বার ধরা পড়লে ৫০০০ টাকা। তার পর হলে জরিমানা দাঁড়ায় ১০,০০০। জরিমানা বাবদ মাসে পরিবহণ দপ্তর আয় করে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা।

অনেক সময় অভিযোগ উঠছে, গাড়ি ধূয়া পরীক্ষা সেন্টারে না গিয়েই পিইউসি সার্টিফিকেট পেয়ে যাচ্ছে টাকার বিনিময়ে। এর জন্যই এখন জিও ট্যাগিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রতিটি গাড়ির পিইউসি সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য পরীক্ষার ছবি, বাহন পোর্টালে বাধ্যতামূলক ভাবে আপলোড করতে হচ্ছে। এরপরও যে ত্রুটি প্রকাশ্যে আসছে, সেটা প্রযুক্তিগত।

দূষণমাত্রা মাপার এই ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাসের মালিকরা। অল বেঙ্গল বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘কোন মেশিনের রিডিং ঠিক, অটো এমিশন সেন্টার না আরএসডি–র? পাশাপাশি পুলিশের দূষণ পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।’

About Post Author