Home » গ্রুপ সি-গ্রুপ ডি’র ভাতায় আইনি বাধা! ‘এখনই কোনও টাকা দেবেন না’, রাজ্যকে নির্দেশ হাইকোর্টের

গ্রুপ সি-গ্রুপ ডি’র ভাতায় আইনি বাধা! ‘এখনই কোনও টাকা দেবেন না’, রাজ্যকে নির্দেশ হাইকোর্টের

সময় কলকাতা ডেস্ক:- রাজ্যের সিদ্ধান্তে চাকরিহারা গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি শিক্ষাকর্মীদের যে ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল আপাতত সেই ভাতা স্থগিত রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলে থাকা প্রায় ২৬ হাজার জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশের পর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে আন্দোলনে নামেন গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মীরাও। যার প্রেক্ষিতে শিক্ষাকর্মীদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ-সহ একাধিক সরকারি আমলা।

সেই বৈঠকেই ফোনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয় চাকরিহারাদের। তখনই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের ভাতা দেবে রাজ্য। গ্রুপ সি কর্মীদের প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা ও গ্রুপ ডি কর্মীদের প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা দেবে বলে জানায়। বলে, আদালতে চাকরি বাতিলের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই ভাতা দেবে রাজ্য। পরবর্তীতে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ফের সেকথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পরে রাজ্যের তরফে এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়। গত ১৫ মে ভাতা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেই মতোই প্রথম মাসের টাকাও পেয়েছেন শিক্ষাকর্মীরা। সরকারের সেই নির্দেশকে বেআইনি বলে উল্লেখ করে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। সোমবার শুনানি ছিল বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে। রাজ্যের বিরোধিতা করে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

‘এভাবে টাকা দেওয়া যায় না’, সওয়াল বিকাশের

বিকাশ ভট্টাচার্যের সওয়াল, সুপ্রিম কোর্ট বেআইনি নিয়োগের জন্য যাদের চাকরি বাতিল করেছে, তাদের এই ভাবে টাকা পাইয়ে দেওয়া যায় না। কারণ সংবিধানে স্পষ্ট করে দেওয়া আছে যে, সুপ্রিম কোর্টের কোনো নির্দেশ থাকলে তাকে মান্যতা দিতে হবে। তাঁর দাবি, চাকরিহারা গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর নামে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীর আরও অভিযোগ, ‘পাবলিক পারপাশে’ বা জনগণের স্বার্থে সরকারি টাকা দেওয়ার সুযোগ সংবিধানে আছে, কিন্তু সেটা সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর চাকরিহারাদের দেওয়া যায় না। আইনজীবীর প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের নির্দেশকে ইচ্ছাকৃত অমান্য করার জন্য আইন বা প্রকল্প তৈরির কোনও অধিকার কি রাজ্যের আছে?

এদিকে রাজ্যের তরফে এজি কিশোর দত্ত জানান, ইতিমধ্যে ১ এপ্রিল থেকে এই টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে।

About Post Author