সময় কলকাতা ডেস্ক:- রামনবমীর পর এ বার ধুমধাম করে রথযাত্রাও পালন করতে চলেছে বঙ্গ-বিজেপি। ২৭ জুন রথযাত্রা। তার আগে জেলায় জেলায় রথ-উৎসব পালনের তোড়জোড় শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। বুধবার দক্ষিণ কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বাংলার হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রামনবমীর মতো রথযাত্রাতেও শক্তি দেখান হিন্দুরা।’
তাদের এই উদ্যোগকে অবশ্য ‘সঙ্কীর্ণ রাজনীতি’ হিসেবেই বিঁধেছে তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। এখানে হিন্দুরা এতকাল সবার সঙ্গে মিলেমিশে থেকেছে। ভারতের এই ঐতিহ্যকে মাটিতে মেশাতে উঠে পড়ে লেগেছেন বিজেপি নেতারা।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই শতাধিক ‘রথযাত্রা উদযাপন কমিটি’র সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন শুভেন্দু এবং রাজ্য বিজেপির নেতারা। বিজেপি মনোভাবাপন্ন বহু সামাজিক সংগঠনও রথযাত্রা উপলক্ষে পথে নামবে। খুব শিগগিরই রথযাত্রা পালনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করে ফেলতে চাইছে বঙ্গ-বিজেপি।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু এ দিন বলেন, ‘আমি বলেছিলাম রামনবমী ঐতিহাসিক করতে হবে। রাজনীতিক হিসেবে নয়, সনাতনী হিসেবে বলেছিলাম। আবারও বলছি, হিন্দুরা একটু শক্তি দেখান।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘রামনবমীর ১৭৫০টা শোভাযাত্রা বেরিয়েছিল। এ বার রথযাত্রাও একই রকম উৎসাহ নিয়ে পালন করুন। হিন্দুরা আর এক বার শক্তি দেখান। রথের দিন বাংলার সব সনাতনী রাস্তান নামুন।’ তিনি স্লোগান তোলেন, ‘হিন্দু ঐক্য গড়ে তুলুন, রথযাত্রা পালন করুন।’
সম্প্রতি দিঘায় ‘জগন্নাথ ধাম’–এর উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে নিয়মিত দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় নজর এড়ায়নি বঙ্গ–বিজেপির নেতাদের। যা দেখে গেরুয়া শিবিরের একাংশের ধারণা, বিজেপির হিন্দুত্ব ইস্যুতেও এ বার থাবা বসাতে চাইছে জোড়াফুল শিবির। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাই রাজ্যজুড়ে ধুমধাম করে রথযাত্রা কর্মসূচি পালনের কৌশল নিয়েছে পদ্ম-শিবির।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি