Home » বিজেপি কর্মী খুনে শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত

বিজেপি কর্মী খুনে শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালির সরবেড়িয়া গ্রামে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে গ্রামবাসীদের একাংশের হামলা মুখে পড়ে ইডি। শাহজাহানের অনুগামীদের হাতে আক্রান্ত হন ইডি আধিকারিক সহ কেন্দ্রীয় বাহিনী জওয়ানেরা। সেই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে। উঠতে থাকে একাধিক প্রশ্ন।

কেন ইডি আধিকারিকদের উপর আক্রমণ করা হল?

গুরুতর কিছু কি লুকাতে চাইছিলেন?

শেখ শাহজাহান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে তার এত দৌরাত্ম কিভাবে হল?

সামান্য একজন ব্যবসায়ী থেকে সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা কিভাবে হল?

কোন পথে এই বিপুল সম্পত্তি তৈরি হয়েছে?

গ্রামবাসীরা ধীরে ধীরে মুখ খুলতে শুরু করলো কিভাবে তাদের সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল করে নিজের সম্পত্তি বানিয়েছে শেখ শাহজাহান। সন্দেশকালীর ঘটনায় সরাসরি রাজ্য প্রশাসনকে দায়ী করেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। গোটা ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক বলে রাজ্যপাল জানিয়েছিলেন সরকারের উচিত ছিল গণতন্ত্রের এই বর্বরতাকে রুখে দেওয়া। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছিলেন সরকার যদি তার প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করতে না পারে তবে দেশের সংবিধান উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে। রাজ্য পুলিশের ডিজি মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে রাজভবনে তলব করেছিলেন রাজ্যপাল। মহিলাদের উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার নিয়ে সরব হয়েছিল সন্দেশখালির মহিলারা। থানায় অভিযোগ দায়েরও হয়।

এদিকে এনআইএ-র তদন্ত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের ভাই শেখ আলমগীর ও শেখ সিরাজুদ্দিনের ছবি দিয়ে সনাক্তকরণ করে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনার ঠিক ১৯ দিন পর শেখ শাহাজানের বাড়িতে ১০০ সিআরপিএফ জওয়ান নিয়ে আবার হাজির হয়েছিল ইডি আধিকারিকেরা।পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশ সিট গঠন করে, সেই সিট গঠনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয় ইডি। সিবিআই তরফ থেকেও শুরু হয় তদন্ত। অবশেষে ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রেফতার হয় শেখ শাহজাহান।

শাহজাহান গ্রেপ্তার হতেই অবস্থান বদল করে তৃণমূল কংগ্রেস। ৬ বছরের জন্য শেখ শাহজাহানকে সাসপেন্ড করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথম শেখ শাহজাহানের ১০ দিন পুলিশের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত, পরে রাতারাতি শেখ শাহজাহানকে কলকাতার ভবানীভবনে নিয়ে আসে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯ সহ একাধিক ধারায় মামলার রজু করা হয়েছিল। ৫৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে যখন ধরা পড়ে শেখ শাহজাহান কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস পান সন্দেশখালির বাসিন্দারা।

শেখ শাহজাহানকে সামনে রেখে ভোট ময়দানে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছিল ডান- বাম উভয়পক্ষই। শাসক দল মরিয়া ছিল শেখ শাহজাহানকে বাদ দিয়ে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট করা, অন্যদিকে বাম ও বিজেপি উভয় ময়দানে নেমেছিল ফায়দা তোলার জন্য। কিন্তু পরিশেষে দেখা যায় বসিরহাটে ৩ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র। অর্থাৎ শেখ শাহজাহানের প্রভাব খুব একটা পড়েনি ভোট বাক্সে।

তারপর থেকে আপাত দৃষ্টিতে লোক চক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়েছিল শেখ শাহজাহানের অত্যাচারের উপাখ্যান এবং শেখ শাহজাহানের পরিণতি। সম্প্রতি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে আবার শেখ শাহজাহান লাইম লাইটে চলে আসে। সরবেড়িয়া অঞ্চলের একটি পরিবার দাবি করে, ইডি এবং সিবিআই এর কাছে যে, প্রতিদিন শাহজাহান আর তার বাহিনী তাদেরকে হুমকি দিচ্ছে। জেলে বসেই শেখ শাহজাহান বিভিন্ন পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।

শাহজাহানের অনুগামী মফিজুল মোল্লা বিভিন্ন জনকে ফোনে হুমকি দিচ্ছেন পাশাপাশি কনফারেন্স কলে শেখ শাহাজানও হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে একাধিক পরিবার থেকে। অর্থাৎ জেলে বসেই শেখ শাহজাহান তার রাজত্ব বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, সোমবার সন্দেশখালির তিন বিজেপি নেতা খুনে সিবিআইয়ের যুগ্ম অধিকর্তাকে সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। আর এই নির্দেশেই কার্যত ঘুম উড়ে গিয়েছে সন্দেশখালির একদা বাঘ শেখ শাহজাহানের। কারণ ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে ফল প্রকাশের পর ৮ ই জুন সন্দেশখালিতে একই পরিবারের দুই বিজেপি কর্মী খুন হন। আর এখনও পর্যন্ত ওই পরিবারের একজন নিখোঁজ।

দুই বিজেপি কর্মী প্রদীপ মন্ডল ও সুকান্ত মন্ডলকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল, আর মাথায় গুলি লেগে মৃত্যু হয়েছিল কায়ুম আলি মোল্লা নামে আরও একজন তৃণমূল কর্মীর। সেই খুনের ঘটনায় প্রথমে নাম ছিল শেখ শাহজাহানের। পরবর্তীতে সিআইডি তদন্ত হাতে নেয় এবং আদালতে চার্জশিট পেশ করে।

যে চার্জশিটে দেখা যায় শেখ শাহজাহান এর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সিআইডি-র চার্জশিটকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেন মৃতার স্ত্রী পদ্মা মন্ডল।

এদিন সেই মামলাতেই সিবিআই-এর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। ফলে জেলবন্দি সন্দেশখালির বাঘ শেখ শাহজাহান আরও বিপদে পড়বে এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

 

About Post Author