সময় কলকাতা ডেস্ক:- কলকাতায় রাস্তার নীচে গঙ্গার নরম মাটি রয়েছে। তাই রাস্তা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বেহালা থেকে বাইপাস, কাশীপুর থেকে গড়িয়ার খারাপ রাস্তা নিয়ে এমনই যুক্তি দিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
প্রতি বর্ষাতেই শহরের বিভিন্ন রাস্তার হাল খারাপ হয়। বেহাল রাস্তার একটি তালিকা দিয়ে তা সারানোর জন্য প্রতি বছর কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের তরফেও পুরসভার কাছে আর্জি জানানো হয়। এখানেই মেয়রের দাবি, ‘রাস্তার নীচে গঙ্গার নরম মাটি থাকায় বৃষ্টি হলেই রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ জানিয়েছেন, এখন টানা বৃষ্টি হচ্ছে। তাই রাস্তার কাজ করা যাচ্ছে না। একটানা দিন পাঁচেক রোদ পেলেই শহরের সব রাস্তা সারিয়ে দেবে পুরসভা।
শুধু কলকাতা নয়, শহরতলি মহেশতলা এবং বজবজের রাস্তাও দীর্ঘ দিন বেহাল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কলকাতা ও মহেশতলার অন্যতম সংযোগকারী সড়ক জোত–শিবরামপুরের রাস্তার অবস্থা এতটাই বেহাল যে মঙ্গলবার স্থানীয় একটি স্কুলের পড়ুয়ারা রাস্তা অবরোধ করে। বজবজের ব্যস্ত রাস্তা বজবজ ট্রাঙ্ক রোডও জায়গায়, জায়গায় বিপজ্জনক হয়ে আছে বলে ওই এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ। ওই দুই পুরসভার কর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টি থামলেই রাস্তার খানাখন্দ সারানোর ব্যবস্থা করা হবে। একই ছবি দমদম, দক্ষিণ দমদম এবং উত্তর দমদম পুরসভার বিভিন্ন এলাকার।
কলকাতা পুরসভার সড়ক বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশেরও মত, কংক্রিটের রাস্তা করা সম্ভব নয়। তার প্রধান দু’টি কারণের একটি নীচের মাটি নরম। এ ছাড়াও সারা দিন শহরের রাস্তায় এত গাড়ি চলে, তাতে কংক্রিট বসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাতে রাস্তার দশা আরও বেহাল হবে। এ ছাড়াও কংক্রিটের রাস্তায় বর্ষার মরশুম বাদ দিলে বছরের বাকি সময় ধূলোর সমস্যাও হয়। পুরসভার সড়ক বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শহরের সব রাস্তাকে কংক্রিটের করতে হলে প্রচুর টাকা খরচ হবে। যে টাকা এই মূহূর্তে পুরসভার কাছে নেই বলে তাঁর দাবি।
মেয়রের এমন যুক্তি মানতে নারাজ বিরোধী কাউন্সিলাররা। ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার, বিজেপির সজল ঘোষের অভিযোগ, ‘রাস্তার সমস্যাকে গুরুত্ব না দেওয়ার জন্যই কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বেহাল দশা হয়েছে।’ মেয়র এই দাবি হাস্যকর।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?