Home » সমুদ্রে মিলছে না আশানুরূপ ইলিশের দেখা, ইলিশ কিনতে গিয়েই হাত পুড়ছে বাঙালির

সমুদ্রে মিলছে না আশানুরূপ ইলিশের দেখা, ইলিশ কিনতে গিয়েই হাত পুড়ছে বাঙালির

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ঘোর বর্ষার মরশুম। বেলা গড়ালেই আকাশ কালো করে নামছে ইলশে গুঁড়ি। কিন্তু এই রোদ–বৃষ্টির খেলা সত্ত্বেও, বঙ্গোপসাগরে মিলছে না আশানুরূপ ইলিশের ঝাঁক। ফলে বেশিরভাগ বাঙালির রান্নাঘরেই এই বর্ষায় ইলিশের গন্ধ নেই।

টানা বর্ষায় অনেক বাড়িতে প্রায়ই খিচুড়ি হচ্ছে, কিন্তু খিচুড়ির সঙ্গে ইলিশ ভাজা বা গরম ভাতে ইলিশের তেল নেই। চার জনের পরিবারে একটা ইলিশে ছ’টা–সাতটা পিস হবে এমন ৭০০–৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কিনতে গিয়েই হাত পুড়ছে বাঙালির।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডায়মন্ডহারবার, দিঘা–সহ রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে মৎস্যজীবীদের জালে সেইভাবে ইলিশ ধরা পড়েনি। উত্তর থেকে দক্ষিণ ৪৫০-৫৫০ গ্রামের ইলিশই বিক্রি হচ্ছে ১,০০০-১,২০০ টাকা কেজিতে।

ইলিশের মরশুমে সাধারণত মৎস্যজীবীরা ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে গিয়ে টানা ১০ থেকে ১২ দিন থেকে মাছ ধরে। অথচ, দফায় দফায় নিম্নচাপ ও ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাসে, গভীর সমুদ্রে যাওয়ায় সতর্কবার্তা থাকছে আবহাওয়া দপ্তরের। ফলে গভীর সমুদ্রে গেলেও দু-দিনের মধ্যে বাধ্য হয়ে তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে হচ্ছে তাঁদের।

কাকদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা, রায়দিঘি, ডায়মন্ডহারবারের মৎস্যজীবীদের সংগঠনের অন্যতম নেতা বিজন মাইতি জানাচ্ছেন, ওই অঞ্চলের প্রায় ৩,০০০ বড় ট্রলার প্রতি বছর বর্ষার মরশুমে গভীর সমুদ্রে ইলিশ ধরতে যায়।

জুন মাসে প্রথম লটে আশানুরূপ কিছু ইলিশ ধরা পড়লেও, আবহাওয়ার কারণে এখন ট্রলারগুলি সামান্য কিছু ইলিশ ধরেই ফিরে আসছে। তাঁর দাবি, মরশুমের সময় সাধারণত এক-একটা ট্রলার দুই থেকে তিন টন করে ইলিশ নিয়ে ফেরে। এখন সেখানে ট্রলারগুলো ২০০-৩০০ কেজি ইলিশ নিয়ে ফিরে আসছে। যা রাজ্যের চাহিদার তুলনায় নেহাতই সামান্য।

চাহিদা মেটাতে হিমঘরে থাকা মায়ানমারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বাজারে। একই ছবি পাতিপুকুর, শিয়ালদহ, বৈঠকখানা পাইকারি বাজারেও। পাতিপুকুরের পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী কমল দাস জানাচ্ছেন, গত কয়েক দিন ডায়মন্ডহারবার, কাকদ্বীপ, রায়দিঘির চলতি মরশুমের কাঁচা ইলিশের কোনও জোগান নেই।

হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির অন্যতম কর্তা সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানাচ্ছেন, তাঁদের পাইকারি বাজারে ডায়মন্ডহারবার, রায়দিঘি বা দিঘার ইলিশ প্রায় ঢুকছেই না। যা পাওয়া যাচ্ছে, সবই হিমঘরের মাছ। সেই মাছই তাঁরা বিক্রি করছেন। কমলবাবুর বক্তব্য, হিমঘরের সেই মাছের ওজনও কম, আবার দামও চড়া। ৫০০ গ্রামের ইলিশই তাঁরা ৮০০-৮৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন।

দমদম গোরাবাজারের খুচরো মাছ বিক্রেতা আনন্দ সাহা বলছেন, তাঁর দোকানে বুধবার ৭০০-৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ তিনি বিক্রি করেছেন ১,৫০০ টাকা কেজিতে। তার একটু বেশি ওজন হলেই দাম ১,৮০০-২,০০০ টাকা কেজি হয়ে যাচ্ছে।

তাহলে কি চলতি মরশুমে বাঙালির ঘরে ইলিশ ঢুকতে আরও সময় লাগবে? ইলিশ বিশেষজ্ঞ অসীম নাথ বলছেন, ‘আগামী ২৪-২৫ তারিখে অমাবস্যা আছে। আর ওই সময় কোটালের জল বাড়লে, জলের চাপে সমুদ্র থেকে ইলিশের ঝাঁক মোহনার দিকে আসতে শুরু করবে। আশা করা যায় মাসের শেষ দিকে থেকে মৎস্যজীবীদের জালে ফের ইলিশের ঝাঁক ধরা পড়বে।’

অভিজ্ঞ মৎস্যজীবীরা জানাচ্ছেন, মোহনায় পূবালী বাতাস এখনও সেইভাবে বইতে শুরু করেনি। উল্টে সমুদ্রে জলের স্রোত বইছে বাংলাদেশের দিকে। তার সঙ্গে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় সমুদ্র উত্তাল হলেই তাঁদের ট্রলার নিয়ে দ্রুত ফিরে আসতে হচ্ছে। ফলে অধরাই থেকে যাচ্ছে রূপালী শস্য– ইলিশের ঝাঁক। বাজারে তাই ইলিশের আকাল।

About Post Author